logo

সাবেক সিইসি হাবিবুল আউয়াল ফের গ্রেপ্তার

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
সাবেক সিইসি হাবিবুল আউয়াল ফের গ্রেপ্তার
সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া স্ক্রিনশর্ট

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর আদাবর এলাকায় গার্মেন্টসকর্মী রুবেলকে গুলি করে হত্যার মামলায় সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালকে ফের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত এ আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ টিপু সুলতান গত ২৯ সেপ্টেম্বর হাবিবুল আউয়ালকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। সেদিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ৪ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, কাজী হাবিবুল আউয়াল ২০২২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন। তদন্তে তাকে মামলার সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে পাওয়া গেছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে থেকেও হাবিবুল আউয়ালসহ অন্য কমিশনাররা মামলার এজাহারভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে সহযোগিতা করেছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে তারা প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করেছেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের স্বার্থে হাবিবুল আউয়ালকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন বলে আবেদনে দাবি করা হয়।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী তাপস চন্দ্র দাস এর বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, হাবিবুল আউয়াল চাকরিজীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। ঘটনার সময় তিনি চাকরিতে ছিলেন এবং কোথাও বের হলে সবসময় পুলিশ প্রটোকলে থাকতেন। তাই হত্যাকাণ্ডে তার সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল না।

হাবিবুল আউয়ালকে এ মামলায় শোন অ্যারেস্ট না দেখানোর আবেদন করেন তার আইনজীবী।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, শেখ হাসিনা হাবিবুল আউয়ালকে ব্যবহার করে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছেন। আন্দোলন দমনের বিষয়ে শেখ হাসিনা তার নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে হাবিবুল আউয়ালকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন বলে আদালতে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে রুবেলসহ কয়েকশ ছাত্র-জনতা আদাবর থানার রিংরোড এলাকায় একটি প্রতিবাদী মিছিল বের করেন। এ সময় পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতী লীগ, কৃষক লীগ ও মৎস্যজীবী লীগের নেতাকর্মীরা মিছিলে গুলি চালান। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান রুবেল।

এ ঘটনায় ওই বছরের ২২ আগস্ট রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম আদাবর থানায় হত্যা মামলা করেন।

এর আগে ২০২৫ সালের ২৫ জুন রাজধানীর মগবাজার এলাকা থেকে হাবিবুল আউয়ালকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।