logo

জেলগেটে আখতারুজ্জামান/‘জামায়াত আমিরের অনুমতি নিয়ে সব সত্য প্রকাশ করবো’

‘জামায়াত আমিরের অনুমতি নিয়ে সব সত্য প্রকাশ করবো’
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারা ফটকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামিন পেয়ে কারামুক্ত হয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান।

এ সময় তিনি বলেন, ‘সত্যের রাজনীতি কখনো পরাজিত হবে না ইনশাআল্লাহ। ন্যায়ের রাজনীতি কখনো পরাজিত হবে না ইনশাআল্লাহ। সময় লাগতে পারে, কিন্তু চূড়ান্ত জয় সত্যের হবেই হবে, ন্যায়ের হবেই হবে।’

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আল্লাহর পথে আছি, আমরা আল্লাহর শাসন কায়েম করার পক্ষে আছি, আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির পক্ষে আছি।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামান বলেন, আমরা এ দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীন বাংলাদেশের চেতনা বাস্তবায়ন করার পক্ষে আছি। ইনশাআল্লাহ, আমরা সামনে এগিয়ে যাবো, দোয়া করবেন আমার জন্য, আমরা যেনো জনগণের পাশে থাকতে পারি। জনগণের অধিকারের আন্দোলনে থাকতে পারি।

তিনি আরও বলেন, আজকে এখানে আমার ভাইয়েরা অত্যন্ত কষ্ট করে এসেছেন। আমি তাদের কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। উনারা আজকে আমার শক্তি। জামায়াতের ভাইয়েরা আসাতে আজকে আমি যে শক্তি পেয়েছি, ইনশাআল্লাহ, আমাদের প্রতিবাদ আরও অব্যাহত থাকবে।

জামায়াতে আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা করে সত্য প্রকাশ করবেন জানিয়ে তিনি বলেন, জামায়াতের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে উনার নির্দেশ নিয়ে যা সত্য তা অবশ্যই আমি আপনাদের জানাবো। কিন্তু তার আগে আমার দলের প্রধানের নির্দেশনা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর সকালে সৌদি আরবের মদিনা থেকে জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখানে লাগেজ সংগ্রহের সময় ট্রলির স্বল্পতা এবং জমজমের পানি পেতে বিলম্ব হওয়াকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের সঙ্গে বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে সেখানে উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা এবং বিমানবন্দরের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে আখতারুজ্জামানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজীব।

এরপর ২ অক্টোবর বিকেলে রাজধানীর সেনানিবাস এলাকায় নিজ বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারের পর রিমান্ড শেষে ৪ অক্টোবর তাকে আদালতে হাজির করা হয়। ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরবর্তী সময়ে দায়রা আদালতেও জামিন না পেয়ে হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন তিনি। সেখান থেকে জামিন পাওয়ার পর মঙ্গলবার কারামুক্ত হলেন জামায়াতের এই নেতা।