প্লট দুর্নীতির ছয় মামলায় শেখ হাসিনার ৩৬ বছর কারাদণ্ড

ক্ষমতা অপব্যবহার করে পূর্বাচলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে করা ছয় মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মোট ৩৬ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানাকে এক মামলায় ৭ বছর, রেহানার মেয়ে ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের তিন মামলায় ৬ বছর কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
এ ছয় মামলার তিনটি পৃথক সময় দেওয়ার রায় পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত ২৭ নভেম্বর ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের দেওয়া তিন মামলায় শেখ হাসিনাকে ২১ বছর ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
অপর এক মামলায় গত ১ ডিসেম্বর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪–এর বিচারক মো. রবিউল আলম টিউলিপ সিদ্দিকের ২ বছর, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৫ বছর, তার বোন শেখ রেহানার ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি টিউলিপ সিদ্দিককে এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও শেখ রেহানাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই মামলার অন্য ১৪ আসামিকে ৫ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
একই আদালতে সর্বশেষ আজ ২ ফ্রেব্রুয়ারি বাকি দুই মামলায় শেখ হাসিনাকে ১০ বছর, টিউলিপ সিদ্দিককে ৪ বছর কারাদণ্ড প্রদান করেছে এছাড়া পৃথক দুই মামলার প্রধান আসামি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববির ৭ বছর কারাদণ্ড এক লাখ টাকা জরিমানা ও ববির ছোট বোন আজমিনা হক সিদ্দিক রুপন্তিকে ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।
এর আগে প্লট বরাদ্দের দুর্নীতির অভিযোগে গত বছরের জানুয়ারিতে পৃথক ছয়টি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলাগুলোয় শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকসহ অন্যদের আসামি করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে শহরে বাড়ি বা ফ্ল্যাট বা আবাসন সুবিধা থাকার পরেও তা গোপন করেছে। একইসঙ্গে শেখ হাসিনা সর্বোচ্চ ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রভাবিত করেছেন।