logo
রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা

আদালতে হাজির সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না

আদালতে হাজির সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না
স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ও স্বামী সোহেল রানা। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ডে করা মামলায় আদালতে হাজির করা হয়েছে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে।

রোববার (২৪ মে) বেলা ১১টার দিকে কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তায় প্রিজন ভ্যানে করে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয় স্বপ্নাকে। আদালতের গারদখানায় রাখা হয়েছে তাকে।

রোববার দুপুরের মধ্যে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকেও আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। একইসঙ্গে এ মামলায় আদালতে পুলিশের চার্জশিট দেওয়ার কথা রয়েছে আজ।

এদিকে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ফরেনসিক রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়েছে। রিপোর্টে মৃত্যুর আগে রামিসাকে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে, গ্রেপ্তার সোহেল রানা ধর্ষণ করেছেন। এরপর শ্বাসরোরোধে রামিসাকে হত্যা করা হয়।

ফরেনসিক রিপোর্ট পর্যালোচনায় এসব তথ্য জানা গেছে। রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে শনিবার (২৩ মে) তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে ডিএনএ রিপোর্ট হস্তান্তর করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পাশাপাশি অভিযোগপত্রের ড্রাফট তৈরি করা হয়েছে।

ফরেনসিক রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন শিশু রামিসাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। এরপর ধর্ষণ শেষে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে তার দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়।

অন্যদিকে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনায় আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। শনিবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে।

মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা বুধবার (২০ মে) আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেন, ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন। জবানবন্দিতে রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার বর্ণনাও দেন তিনি।

পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। একই দিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত গ্রেপ্তার সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন

রামিসার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম ঈদের পর শুরু হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। শনিবার এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।