Advertisement

একরামুলকে সরাসরি গুলি করেন কারা, জানালেন চিফ প্রসিকিউটর

এশিয়া পোস্ট নিউজ
একরামুলকে সরাসরি গুলি করেন কারা, জানালেন চিফ প্রসিকিউটর
ছবি: এশিয়া পোস্ট কোলাজ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, কক্সবাজারের টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যাকাণ্ডে দুজন সরাসরি গুলি করেছিলেন। তারা হলেন- মেজর (অব.) রুহুল আমিন ওরফে রাজন ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. আশিকুর রহমান ওরফে সৈকত। আর তৎকালীন র‍্যাব কর্মকর্তাদের উপস্থিতি, পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধানেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়।

রোববার (২৬ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ একরামুল হক হত্যা মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

আমিনুল ইসলাম বলেন, মেজর (অব.) রুহুল আমিন ওরফে রাজন এবং লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশিকুর রহমান ওরফে সৈকত সরাসরি গুলি করেছেন। মিফতাহ উদ্দিনসহ অন্যান্য র‍্যাব কর্মকর্তারা তখন ওই স্থানে উপস্থিত ছিলেন। তাদের তত্ত্বাবধানে ও পরিকল্পনাতেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়।

তিনি বলেন, একরামুল হক হত্যার পর ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং শেখ হাসিনা চেয়েছিলেন, ঘটনাটি নিয়ে যেন আর বাড়াবাড়ি না হয়। এ কারণে একরামের স্ত্রীকে শেখ হাসিনা ডেকে নিয়ে তাকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলেছিলেন।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ওবায়দুল কাদের নিজে এই দায়িত্ব নিয়েছিলেন। একরামের স্ত্রীকে তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করিয়ে দিয়েছিলেন। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে সাক্ষ্যে উঠে এসেছে।

তিনি বলেন, একরামের স্ত্রীসহ মামলার সাক্ষীদের বক্তব্যে এসব ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া গেছে। সাক্ষীদের বক্তব্য ও তদন্তের অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে যাদের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে মামলা করার মতো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে একরামের মোবাইল ফোনটি হত্যাকাণ্ডের সময় চালু ছিল। সেই ফোন চালু থাকা অবস্থায় তার মেয়েরা ও স্ত্রী গুলির শব্দ, কথোপকথনসহ হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন ঘটনা শুনতে পেয়েছিলেন। এসব বিষয় আমরা মামলায় আলামত হিসেবে নিয়েছি।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যসহ বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এবং সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটির আওতায় শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও ওবায়দুল কাদেরকে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে।

সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, একরাম তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ছিলেন। পরবর্তীকালে আপনারা সাক্ষ্য-প্রমাণে দেখতে পাবেন, একরামকে হত্যার পর তার সম্পত্তি বিভিন্ন কৌশলে আত্মসাৎ করা হয়েছিল। এই ঘটনার নেপথ্যের নায়ক ছিলেন আবদুর রহমান বদি।

মামলার অন্য আসামিদের বিষয়ে তিনি বলেন, তৎকালীন র‍্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, কর্নেল (অব.) মো. আনোয়ার লতিফ খান, তৎকালীন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহাবুব আলম, তৎকালীন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, মেজর (অব.) রুহুল আমিন ওরফে রাজন, স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ ওরফে রাজু ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. আশিকুর রহমান ওরফে সৈকতের বিরুদ্ধে এ হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা আমাদের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আমরা আজ তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছি।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমলে নিয়েছেন। মামলার কয়েকজন আসামি ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন। তাদের আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলাটির পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আগামী ২৫ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে।

২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে কক্সবাজারের টেকনাফে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি একরামুল হক। একরামুলের মৃত্যুর পর পরিবারের সঙ্গে তার ফোনে কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।