logo
Advertisement

শিশু রামিসা হত্যা মামলার বিচার শুরু

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
শিশু রামিসা হত্যা মামলার বিচার শুরু
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় আজ মঙ্গলবার (২ জুন) সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হতে যাচ্ছে। গত সোমবার ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত শুনানি শেষে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য এদিন ধার্য করেন।

Advertisement

আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রধান আসামি সোহেল রানা ও অপর আসামি স্বপ্না আক্তারকে উপস্থিত করে শুনানি গ্রহণ করা হয়। শুনানি শেষে আদালত মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে পাঠিয়ে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য ২ জুন দিন ধার্য করেছেন।

সোমবার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঢাকা মহানগর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, শুনানি শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করায় এই মামলার বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। ট্রাইব্যুনাল আগামীকাল মঙ্গলবার সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য করেছেন। মামলার বাদীসহ সাক্ষীগণ হাজির থাকবেন।

এর আগে, এদিন সকালে অভিযুক্ত সোহেল রানা ও স্বপ্নাকে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় হাজির করা হয়। সোহেল রানাকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্নাকে নারী হাজতখানায় রাখা হয়। শুনানিকালে তাদেরকে এজলাসে নেওয়া হয়। অভিযোগ পড়ে শোনানোর পর সোহেল রানা ট্রাইব্যুনালকে বলেন, তার স্ত্রীর কোনো দোষ নেই।

গত ২৪ মে বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত করে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক ঢাকার শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠান। ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকিন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে ১ জুন (সোমবার) অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন।

মামলার অভিযোগপত্রে আসামিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (২) / ৩০ ধারা ও দণ্ডবিধির ২০১/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামি সোহেল রানার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী আট বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণ পরবর্তীতে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা এবং পরবর্তীতে লাশ গুম করার জন্য গলা কেটে দুই ভাগ করা, যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা ও দুই হাত কাঁধের কাছ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে তার স্বামীর এসব কাজে সহযোগিতা করার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা আলামতসমূহের ফরেনসিক, রিপোর্ট, ডিএনএ পরীক্ষা এবং লাশের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন থেকে প্রমাণ হয় শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেয়। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে আসামির ঘরের সামনে শিশুটির একটি স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। দেখতে পান সোহেল রানার শোবার ঘরের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা বাথরুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে পড়ে রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহ উদ্ধারের পর স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা ২০ মে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। আদালতের কাছে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে সোহেল। অভিযোগপত্রে সোহেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ-হত্যা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রমাণ ধ্বংসে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। সাক্ষী করা হয়েছে রামিসার বাবা ও প্রতিবেশীসহ ১৮ জনকে।

আজ মামলার তদন্ত্র কর্মকর্তা ও অন্যান্য সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণের মধ্য দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বিচারিক কার্যক্রম আরও একধাপ এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।