logo

৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল রাখলেন আদালত

৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল রাখলেন আদালত
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে। ছবি: বাসস থেকে নেওয়া

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে সিন্ডিকেট তৈরি করে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগে ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

রোববার (৪ অক্টোবর) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের বেঞ্চ হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশ স্থগিত করে এ আদেশ দেন। ফলে ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহারে সরকারের সিদ্ধান্ত বহাল থাকল।

আদেশের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।

অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, গত ১৯ জুলাই প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন-২০১৩’-এর ১৩ ধারা অনুযায়ী ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্টের সনদ প্রত্যাহার করে। সরকারের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে দুটি রিট করা হয়।

তিনি বলেন, প্রথমে একজন রিক্রুটিং এজেন্ট এবং পরে আরও ১১ জন মিলে হাইকোর্টে রিট করেন। পরে হাইকোর্ট মন্ত্রণালয়ের আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষ ওই স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যায়।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের বেঞ্চ হাইকোর্টের দেওয়া অপর একটি স্থগিতাদেশ স্থগিত করেন।

রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বর ও ৪ অক্টোবরের দুই আদেশের ফলে সরকার যে ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্টের লাইসেন্স প্রত্যাহার করেছিল, কার্যত সেই আদেশই বহাল থাকল।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেটের অভিযোগ প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বিগত সরকারের আমলে একটি সিন্ডিকেট করে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠানোর নামে দেশের মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি এমন অবস্থায় যায় যে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোই বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, এসব এজেন্সি এক ধরনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অন্য চাকরিতে লোক পাঠাত এবং কর্মীদের নানাভাবে হয়রানি করত। বৈধভাবে জনশক্তি রপ্তানির কথা থাকলেও তারা অবৈধভাবে লোক পাঠিয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এসব ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৩৮৫, ৩৮৬, ৪২৭ ও ৩৪ ধারায় মামলা করা হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, ওই মামলায় অভিযোগপত্র গ্রহণের পর আইন অনুযায়ী সরকার সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোর লাইসেন্স প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়।

সরকারের অবস্থান তুলে ধরে রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, সরকার চায় মানুষ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় স্বল্প খরচে বিদেশে গিয়ে পরিবারের জন্য বৈধ আয় করুক এবং রাষ্ট্রকে সহযোগিতা করুক। সেই বিবেচনা থেকেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।