logo

সরকার বিচার বিভাগের হৃৎপিণ্ডে হাত দিয়েছে, পরিণতি ভালো হবে না

সরকার বিচার বিভাগের হৃৎপিণ্ডে হাত দিয়েছে, পরিণতি ভালো হবে না

সুপ্রিম কোর্ট সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করে সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেছে বলে মনে করছেন অবসরপ্রাপ্ত দুই বিচারক। তারা সতর্ক করে বলেছেন, সরকার বিচার বিভাগের হৃৎপিণ্ডে হাত দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পরিণতি ভালো হবে না এবং এটি বিচার ব্যবস্থার জন্য আত্মঘাতী হতে পারে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক মুক্ত আলোচনায় এসব মন্তব্য করেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আবদুল মতিন এবং সাবেক জেলা ও দায়রা জজ মাসদার হোসেন। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন এবং আইন ও বিচার পত্রিকা যৌথভাবে এ আলোচনার আয়োজন করে।

আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আবদুল মতিন বলেছেন, বিচার বিভাগকে পৃথক করতে ঐতিহাসিক মাসদার হোসেন মামলার রায়ের প্রতিফলন হচ্ছে দুটি অধ্যাদেশ। কিন্তু এই দুটি অধ্যাদেশ সংসদে বাতিল করে সরকার বিচার বিভাগের হৃৎপিণ্ডে হাত দিয়েছে। সরকারের এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত সর্বনাশ ডেকে আনবে।

মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মাসদার হোসেন বলেন, সুপ্রিমকোর্ট বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিলের ফল ভালো হবে না। ক্ষমতার মসনদে বসে আমরা মালিক হয়ে যাই। ভোটের আগে জনগণের হাত-পায়ে কত ধরেছিলেন। 

তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে আপনাদের এত ভয় কেন? কোনো সরকারই বিচার বিভাগের ভালো চায় না। বিচার বিভাগ এখন নির্যাতনের জায়গায় পরিণত হয়েছে। এটা বিচারপ্রার্থীর জায়গা নয়। এরপর ৪৭ লাখ মামলার জট তো আছেই।

বিচার বিভাগ পৃথককীকরণ মামলার বাদী মাসদার হোসেন বলেন, জাতীয় সংসদ সার্বভৌম নয়। সন্তান হয়ে পিতার সঙ্গে বেইমানি করছেন। ক্ষমতার মসনদে বসে এক কলমের খোঁচায় সব অধ্যাদেশ বাতিল করে দিচ্ছেন। এটা কি মগের মুল্লুক? দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আইন প্রণয়ন করা হলে সংসদকে এটা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। গুটিকয়েক মানুষের চিন্তা-চেতনায় এসব কাজ করছেন। তার পরিণতি খুব ভালো হবে না। এইদিন দিন না, আরও দিন আছে। আপনারা পথ হারিয়ে ফেললে জনগণ আপনাদের সঠিক পথে নিয়ে আসবে।

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে হ্যাঁ-না ভোট করুন, জরিপ করুন, ৯৯ ভাগ লোক আপনাদের কাজের বিরুদ্ধে মতামত দেবে। যেগুলো হচ্ছে বিচার বিভাগকে পদদলিত করা। গুম হয়ে যারা মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন তারা আজ সংসদ সদস্য। তাদের জিজ্ঞেস করে গুমের সংজ্ঞা ঠিক করুন। আপনারা এমনি এমনি উড়ে আসেননি। তাদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করবেন না।

মাসদার হোসেন বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার কারণে ২৮ বিচারককে শোকজ করা হয়েছে। কোন এখতিয়ারে আইন মন্ত্রণালয় তাদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে? মনে রাখবেন, জজদের একটা আলপিনের দরকার হলেও সুপ্রিম কোর্টের কাছে যেতে হয়। আইনমন্ত্রী কোন কর্তৃত্ব বলে এটা করেছেন?

মুক্ত আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিক, ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, আইনজীবী হাসান তারিক চৌধুরী, সাবেক যুগ্ম জজ ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ও জুলাই আন্দোলনের নেতা আরিফ সোহেল প্রমুখ।