logo
Advertisement

আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল-ধর্মঘট অবৈধ: হাইকোর্ট

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ
আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল-ধর্মঘট অবৈধ: হাইকোর্ট
হাইকোর্ট ভবন। ছবি: বিবিসি বাংলা

আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের স্ট্রাইক বা হরতাল ডাকাকে অবৈধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ ধরনের কোনো হরতাল বা ধর্মঘট ডাকা হলে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনের বিরুদ্ধে আইনগত ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি শশাঙ্ক কুমার সরকার ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের বেঞ্চ এ রায় দেন।

আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আহসান হাবীব। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আসিবুল হক এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. রাফিউল ইসলাম।

২০১১ সালের আগস্টে মানিকগঞ্জের ঘিওরে সড়ক দুর্ঘটনায় তারেক মাসুদ ও মিশুক মনিরসহ পাঁচজন নিহত হয়। ওই ঘটনায় বাসচালকের বিরুদ্ধে মামলা হলে ২০১৭ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বাসচালককে সাজা দেন। সাজার প্রতিবাদে বাসমালিকেরা পরিবহন ধর্মঘট ও হরতাল পালন করে বলে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে জনস্বার্থে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ রিট করে।

এইচআরপিবির রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতাল আহ্বান কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় রুলে। সেই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধর্মঘট বা হরতাল প্রত্যাহার করার নির্দেশ এবং গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ওই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে পরদিন পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়। ওই রিলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে রায় দেন হাইকোর্ট।

শুনানি শেষে রুলের ওপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়ে হাইকোর্ট বলে, সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আদালতের রায় ও আদেশ সবার জন্য বাধ্যতামূলক। কোনো রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার আইনগত সুযোগ রয়েছে। তবে রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল বা ধর্মঘট আহ্বান করা অবৈধ ও সংবিধান পরিপন্থী।

সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, দুর্ঘটনার কারণে ড্রাইভারকে সাজা দেওয়ার প্রেক্ষিতে মালিকেরা পরিবহন ধর্মঘট ডেকে আদালতের আদেশের প্রতি অশ্রদ্ধা দেখিয়েছেন। শুধু তাই নয় সব নাগরিকের চলাচলের স্বাধীনতা ধর্মঘটের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে।