logo

আদালতে রামিসা হত্যার আসামি সোহেল-স্বপ্না, আত্মপক্ষ শুনানি আজ

আদালতে রামিসা হত্যার আসামি সোহেল-স্বপ্না, আত্মপক্ষ শুনানি আজ
রামিসা হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে আদালতে আনা হয়েছে। ছবি: এশিয়া পোস্ট

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আজ (বুধবার) আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাচ্ছেন দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার।

বুধবার (৩ জুন) সকালে কড়া নিরাপত্তায় আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে নিয়ে আসা হয়। তাদের আদালতের মহানগর হাজতখানায় রাখা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টায় আসামিদের আদালতের এজলাসে তোলা হবে। এরপর ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। শুনানি শেষে আদালত মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ বা যুক্তিতর্কের জন্য দিন ধার্য করবেন।

রাজধানীর পল্লবী এলাকায় শিশু রামিসা আক্তারকে পাশবিক নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে এই দম্পতির বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। তদন্ত ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মামলাটি বর্তমানে বিচার প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

গতকাল (মঙ্গলবার) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আজ (বুধবার) দিন ধার্য করেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর পিপি আজিজুর রহমান দুলু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার আদালতে মামলার বাদী ও ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার জবানবন্দির মাধ্যমে এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে সাক্ষীরা আদালতে জবানবন্দি দেন। এ সময় রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কলিমউল্লাহ তাদের জেরা করেন।

এর আগে, সোমবার (১ জুন) আদালত সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই দিন বিকেলে মামলার বাদীসহ ১৭ সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়। গত ২৪ মে ট্রাইব্যুনাল দুই আসামির বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নেয়।

একই দিনে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

মামলার সূত্রে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। ওই দিনই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ২০ মে ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।