logo
Advertisement

জাতীয় পতাকা পেছনে রেখে ব্যবহার নিয়ে হাইকোর্টের রুল

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
জাতীয় পতাকা পেছনে রেখে ব্যবহার নিয়ে হাইকোর্টের রুল
হাইকোর্ট। ফাইল ছবি

জাতীয় পতাকা পেছনে রেখে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসে বসার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া সরকারি দপ্তরগুলোতে জাতীয় পতাকার আইনবহির্ভূত ও অবমাননাকর ব্যবহার বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

Advertisement

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) এ বিষয়ে করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট এ আদেশ দেন।

এ বিষয়ে রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসকক্ষে চেয়ারের পেছনে, টেবিলের পাশে কিংবা সোফার পাশে জাতীয় পতাকা রেখে বসতে দেখা যাচ্ছে। অথচ জাতীয় পতাকা ব্যবহারের ‘বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২’-এ সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নির্দিষ্ট সরকারি ভবন, বিশেষ কিছু ব্যক্তির বাসস্থান এবং তাদের গাড়ি ও জলযানে জাতীয় পতাকা ব্যবহারের বিধান রয়েছে।

তিনি জানান, ১৯৭২ সালের পতাকা বিধিমালায় নির্দিষ্ট ১৫ শ্রেণির ব্যক্তিকে বাসস্থানে এবং আট শ্রেণির ব্যক্তিকে গাড়ি বা জলযানে জাতীয় পতাকা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও হুইপসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদধারীরা রয়েছেন।

সানজিদ সিদ্দিকী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আইনিভাবে পতাকা ব্যবহারের সুবিধাপ্রাপ্ত নন, এমন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও ব্যক্তিগত অফিসকক্ষে চেয়ারের পেছনে বা পাশে পতাকা রেখে বসছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ ধরনের ছবি আদালতের নজরে আনা হয়েছে। এ ধরনের ব্যবহার জাতীয় পতাকার প্রতি অবমাননাকর এবং বিদ্যমান আইন ও বিধিমালার পরিপন্থী।

শুনানিতে জাতীয় পতাকা ব্যবহারের সময়, স্থান, উচ্চতা, দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও পতাকার বৃত্তের ব্যাসসহ নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন নিয়েও বিধিমালার বিষয়গুলো পর্যালোচনা করেন আদালত।

আদালতকে জানানো হয়, সরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে; সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পতাকা উত্তোলনের বিধান রয়েছে। সার্বক্ষণিকভাবে পতাকা টানিয়ে রাখার কোনো বিধান নেই।

এরপর আদালত রুল জারি করে জানতে চান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চেয়ারের পেছনে, পাশে কিংবা সোফার পাশে জাতীয় পতাকা রেখে বসা এবং এ ধরনের ব্যবহার কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না?

আদালত দুটি অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা দিয়েছেন—এর একটিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে সচিবালয়সহ সব সরকারি দপ্তরে নোটিশ জারি করে জাতীয় পতাকার আইনবহির্ভূত ও অবমাননাকর ব্যবহার বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

অন্য নির্দেশনায় জাতীয় পতাকার ব্যবহার ও বিধিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। কমিটিতে একজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন সরকারি প্রতিনিধি রাখার কথা বলা হয়েছে।

কমিটিকে ৬০ দিনের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত অফিস বা দপ্তরে জাতীয় পতাকা ব্যবহারের আইনি বৈধতা, পতাকা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আইনি অধিকার এবং পতাকার নির্ধারিত দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও অন্যান্য স্পেসিফিকেশন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, এসব বিষয় যাচাই করে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।