logo
Advertisement
জাল সনদের অভিযোগ

যুবদল সেক্রেটারি নয়নের এমপি পদ বাতিলের দাবিতে হাইকোর্টে রিট

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
যুবদল সেক্রেটারি নয়নের এমপি পদ বাতিলের দাবিতে হাইকোর্টে রিট
যুবদল সেক্রেটারি মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন ও সুপ্রিম কোর্ট। ছবি : এশিয়া পোস্ট কোলাজ

যুবদল সেক্রেটারি মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের সংসদ সদস্য (এমপি) পদ বাতিলের দাবিতে হাইকোর্টে রিট করেছেন এক ব্যক্তি। তার নিজ নির্বাচনি এলাকা ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনের একজন ভোটার গত ২৫ আগস্ট এই রিট করেন। আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ নামের ওই ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে নির্বাচনি হলফনামায় অসত্য তথ্য দেওয়া ও জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহারের অভিযোগ করেন।

চরফ্যাশনের ভোটার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছেন অ্যাডভোকেট রাফসান আল আলভী। রিটকারীর অভিযোগ, হলফনামায় অসত্য দেওয়ার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন ও ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন নূরুল ইসলাম নয়ন।

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, ভোলা-৪ আসন থেকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হলফনামায় সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে মাস্টার অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এমবিএ) ডিগ্রি দেখিয়েছেন। ইবাইস ইউনিভার্সিটি থেকে ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে সিজিপিএ ৩ দশমিক ২৮ দেখিয়ে ২০০৮ সালের একটি সনদ জমা দেন তিনি।

রিটকারীর দাবি, এ নিয়ে পরে ইবাইস ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এই সনদ সম্পূর্ণ ভুয়া বলে নিশ্চিত করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আলমগীর হোসেন লিখিতভাবে জানান, এই সনদ তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ইস্যু করা হয়নি।

হলফনামার বাইরেও সংসদ সদস্যের শিক্ষাজীবন ও রাজনৈতিক পরিচয়ের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রিটকারী। তার অভিযোগ, সংসদ সদস্য তার বিভিন্ন বক্তব্য ও প্রচারে নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী পরিচয় দেন। কিন্তু ঢাবির সার্টিফিকেট ও মার্কশিট শাখায় খোঁজ নিয়ে এই দাবির সত্যতা মেলেনি। ১৯৮৮ থেকে ১৯৯২ সালের মধ্যে ইংরেজি বিভাগে মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নামের কোনো ছাত্রের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

রিটে বলা হয়, উইকিপিডিয়াসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এই ভুয়া পরিচয় প্রচার করে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন নূরুল ইসলাম নয়ন।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর ৯১এফ ধারা অনুযায়ী অসদুপায় অবলম্বন ও মিথ্যা তথ্য দেওয়ার কারণে নূরুল ইসলাম নয়নের সংসদ সদস্য পদ বাতিলের দাবি জানান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। একইসঙ্গে আসনটিতে নতুন নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে আদালতের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও এস.এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে গত ১৫ সেপ্টেম্বর এই রিটের শুনানি হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতকে জানান, রিটকারী গত ২৫ আগস্ট নির্বাচন কমিশনে দরখাস্ত দেওয়ার পর ৩১ আগস্ট রিটের এফিডেভিট করেন। নির্বাচন কমিশনকে অনুসন্ধান কমিটি গঠনের পর্যাপ্ত সময় না দিয়েই রিটটি করা হয়েছে। এরপর আদালত নির্বাচন কমিশনকে যথাযথ সময় দিয়ে পরবর্তীতে শুনানির জন্য বিবেচনার অভিমত দেন।

রিটকারীর আইনজীবী রাফসান আল আলভী এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমি একটি রিট পিটিশন দায়ের করেছিলাম। ১৫ সেপ্টেম্বর সেটি কার্যতালিকায় আসে। কিন্তু আদালতে বলা হয়েছে এটি বড় বিষয়, ভ্যাকেশন শেষে আদালত সম্পূর্ণভাবে খুললে শুনানি হওয়া উচিত। তাই ওইদিন আর শুনানি হয়নি। অক্টোবরে কোর্ট খুললে তখন শুনানি হবে।’