logo

দেশপ্রেমের এই নমুনা, আমার হাতে হাতকড়া: আইনজীবীর উদ্দেশে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী 

দেশপ্রেমের এই নমুনা, আমার হাতে হাতকড়া: আইনজীবীর উদ্দেশে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী 

এক-এগারোর সময়ের আলোচিত সেনা কর্মকর্তা ও ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এজলাস থেকে নামানোর সময় তার আইনজীবীকে বলেন, দেশপ্রেমের এই নমুনা, আজকে আমার হাতে হাতকড়া। আমি দেশের জন্য কাজ করেছি। মানুষের জন্য কাজ করেছি। আজকে সেই দেশপ্রেমই আমার হাতে হাতকড়া পড়িয়েছে?

শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকালে দ্বিতীয় দফায় ১১ দিনের রিমান্ডে শেষে ঢাকার পল্টন থানায় মানব পাচার আইনে করা মামলায় এক-এগারোর সময়ের আলোচিত সেনা কর্মকর্তা ও ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক মো. রায়হানুর রহমান আসামিকে তৃতীয় দফায় জিজ্ঞেসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 

দুপুর দেড়টার দিকে আসামিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর তাকে সিএমএম এর হাজতখানায় রাখা হয়। এরপর বিকেল ৩ টা ৪০ মিনিটে পুলিশ কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী মধ্যে দিয়ে আসামিকে আদালতের এজলাসে ওঠানো হয়। এরপর তাকে এজলাসের কাঠগড়ায় রাখা হয়। এ সময় তার পক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন কথা বলেন। 

আসামি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী তার আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন বলেন, দেশপ্রেমের এই নমুনা। আজকে আমার হাতে হাতকড়া পড়ানো হয়েছে। আমি দেশের জন্য কাজ করেছি। মানুষের জন্য কাজ করেছি এবং বিশেষ করে দেশপ্রেমিক ছিলাম। আজকে সেই দেশপ্রেমেই আমার হাতে হাতকড়া পড়িয়েছে। মামলাগুলো শুধুমাত্র হয়রানী করার জন্য এবং আপনাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য সম্পৃক্ত করা হয়েছে। 

কিছুক্ষণ পরে বিচারক এজলাসে ওঠেন। প্রথমে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ গোলাম মুর্তজা ইবনে ইসলাম ও আমিনুল ইসলাম সরকার রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানিতে বলেন, আসামি ১/১১ এর কুশীলব ছিলেন। শেখ হাসিনাকে খুশি করতে পেরেছিলেন বলে তাকে এমপি করা হয়। টাকার নেশায় তিনি রিক্রুটিং এজেন্সি নিয়ে এই সিন্ডিকেট করেন। রিমান্ডে তিনি সব তথ্য দেননি। আসামিরা সিন্ডিকেট তৈরি করে টাকা আত্মসাৎ করেছে। পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহের জন্য আসামির ৪ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।

এরপর আসামি পক্ষের আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম সজীব শুনানিতে বলেন, এই মামলায় আসামিকে দুই দফায় ১১ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদনের ফরোয়ার্ডিং দেখলাম—সেখানে তদন্ত সংক্রান্ত অগ্রগতির কিছুই লেখেননি। 

আমরা সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানতে পারছি, এটা মানব পাচার মামলা, কিন্ত এই তথ্য উদঘাটন না করে তদন্ত কর্মকর্তা অন্য তথ্য উদঘাটনে ব্যস্ত। আত্মসাৎকৃত টাকা উদ্ধার করা, এটা রিমান্ডে নেওয়ার গ্রাউন্ড হতে পারে না। 

তিনি আরও বলেন, এই মানুষটির বয়স ৭২ বছরের বেশি। মাথায় মাইল্ড স্ট্রোক হওয়ার কারণে ব্রেইনে সার্জারি করা হয়েছে। হার্টে দুইটা রিং পরানো। তবুও বারবার প্রেশার করে উনাদের এক্সপেক্টেড কথাগুলো পাচ্ছেন না। মন মতো তথ্য পাচ্ছেন না বলে রিমান্ডের আবেদন করা হচ্ছে।

এর আগে গত ২৩ মার্চ দিবাগত রাতে রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরদিন আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে গত ২৯ মার্চ আবার ৬ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।