logo

দিলীপ কুমার আগারওয়ালা এক দিনের রিমান্ডে

দিলীপ কুমার আগারওয়ালা এক দিনের রিমান্ডে
দিলীপ কুমার আগারওয়ালাকে আদালতে নেওয়ার সময়। ছবি: এশিয়া পোস্ট

স্বর্ণ ও হীরা বিক্রির আড়ালে ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকা চোরাকারবার ও অর্থপাচারের (মানিলন্ডারিং) মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফুল হাসান আসামিকে আদালতে হাজির করে এই রিমান্ড আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, মানিলন্ডারিংয়ের সত্যতা নিরূপণ, চোরাচালানের উৎস সন্ধান এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামি দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন।

এদিন রিমান্ড শুনানির জন্য দুপুর ২টা ১০ মিনিটে তাকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় এনে রাখা হয়। পরে সেখান থেকে পুলিশি পাহারায় ৩টা ২ মিনিটে তাকে এজলাসে তোলা হয়। ৩টা ১৩ মিনিটে বিচারক এজলাসে উঠেন। পরে তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ডের যুক্তি তুলে ধরেন।

একই সঙ্গে রাষ্ট্র পক্ষে আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অপরদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবী আনোয়ারুল কবীর বাবুল, আবদুল্লাহ আল মনসুর রিপন, সানাউল ইসলাম টিপু,জাহাঙ্গীর আলম, মনিরুল ইসলামসহ কয়েকজন রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রিমান্ডের আদেশ দেন।

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী আনোয়ারুল কবীর বাবুল আদালতকে বলেন, রিমান্ড আবেদন মামলার সাথে সাংঘর্ষিক। আগারওয়ালা একজন সিআইবি। সর্বোচ্চ করদাতা। তিনি অসুস্থ, বয়োজ্যেষ্ঠ।

আইনজীবী বলেন, মুসলিম হিসেবে যেমন আমাদের ধর্মীয় উৎসব থাকে, তাদের (হিন্দুদেরও) ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলছে। আগামীকাল দশমী রয়েছে। সেই বিবেচনায় রিমান্ড বাতিল করে তাকে জামিন দেওয়া হোক।

আরেক আইনজীবী শুনানিতে বলেন, ৫০ হাজার কর্মচারী তার অধীনে কাজ করে, তার বয়স ৫৭ বাস্তবে ৬০। বয়স বিবেচনায় তার রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করা হোক। পরে বিকেল সাড়ে ৩টায় বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুনানি শেষে তাকে ৩ টা ৩৩ মিনিটে পুনরায় পুলিশি পাহারায় সিএমএম হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান শেখ বাদী হয়ে রাজধানীর গুলশান থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলাটি করেন।

আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, আসামি ২০০৬ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এলসির মাধ্যমে ৩৮ কোটি ৬৭ লাখ ৮১ হাজার টাকার পণ্য বৈধভাবে আনলেও, বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় মার্কেট থেকে অবৈধ চোরাকারবারের মাধ্যমে আরও ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকা মূল্যের সোনা ও ডায়মন্ড ক্রয় করেন। কিন্তু এসব পণ্যের ক্রয়সূত্র বা কোনো বৈধ কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি।