‘নেটটা একটু স্লো করে দাও’ পলককে ওবায়দুল কাদের

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় প্রথম দফায় ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দিতে তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে নির্দেশ দিয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের। ইন্টারনেটের গতি কমানোর বিষয়ে শেখ হাসিনার অনুমতির বিষয়েও পরামর্শ করেন তারা।
রোববার (৯ আগস্ট) এ সংক্রান্ত একট ফোনালাপের রেকর্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।
দাখিল করা ফোনালাপে ওবায়দুল কাদেরকে বলতে শোনা যায়, ‘নেটটা একটু স্লো করে দাও।’ জবাবে পলক বলেন, ‘একটু নেত্রীর পারমিশনটা নিয়ে নিই?’ তখন কাদের বলেন, ‘নিয়ে নাও।’ কথোপকথনের একপর্যায়ে পলক জানান, শেখ হাসিনার অনুমতি নিয়ে বিষয়টি করতে হবে।
পলক-কাদেরের ফোনালাপের অনুলিপিটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
পলক: ভাই, আসসালামু আলাইকুম। ভাই, আসসালামু আলাইকুম। জি, আসসালামু আলাইকুম ভাই। পলক বলছি।কাদের: নেটটা একটু স্লো করে দাও।পলক: জি।কাদের: ইন্টারনেট।পলক: একটু নেত্রীর পারমিশনটা নিয়ে নিই?কাদের: নিয়ে নাও।পলক: আচ্ছা, ঠিক আছে। জি, আচ্ছা ঠিক আছে।কাদের: অনেকে আমাকে বলতেছে তো বিষয়গুলো...পলক: হ্যাঁ, একটু ওই যে মানে বলা আছে তো যে উনি না বললে... মানে...কাদের: না না, উনাকে জিজ্ঞেস করেই বলবা।পলক: আচ্ছা, ঠিক আছে। জি। জি স্যার, জি স্যার। জি, আসসালামু আলাইকুম।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে তৃতীয় দিনের মতো যুক্তিতর্ক চলছে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।
তার সঙ্গে রয়েছেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, সুলতান মাহমুদ ও সহিদুল ইসলাম সরদার। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের আরেকটি ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়। ওই কথোপকথনে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করে প্রসিকিউশন।
এ মামলায় আসামি সাতজন। ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্যরা হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। মামলার সব আসামিই পলাতক।
.png)


