সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ ৫ দিনের রিমান্ডে

মানব পাচার মামলায় গ্রেপ্তার অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ এ আদেশ দেন।
এর আগে, এদিন বিকেলে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে তোলা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামির ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুনানি শেষে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার ২ নম্বর সড়কের একটি বাসায় সোমবার (২৩ মার্চ) রাতে অভিযান চালিয়ে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে হেফাজতে নেয় ডিবি পুলিশের একটি দল। পরে পল্টন থানায় হওয়া মানবপাচার মামলায় মঙ্গলবার তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মানব পাচার ছাড়াও প্রতারণা, চাঁদাবাজি, হত্যাসহ মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে। এছাড়া ফেনীতে দায়ের করা বৈষম্যবিরোধী একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
সেনাসমর্থিত সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ২০১৮ সালে ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসন সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে মনোনয়ন ফরম কিনেছিলেন। এর পাঁচ দিনের মাথায় দল পরিবর্তন করে জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনয়ন ফরম কেনেন মাসুদ উদ্দিন। তার পরের দিন দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হন।
এক-এগারোর সময়ের আলোচিত এই সাবেক সেনা কর্মকর্তা পরে গুরুতর অপরাধ দমনসংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। ওই কমিটির অধীনে সে সময় দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে তাকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে তার মেয়াদ তিন দফায় বাড়ানো হয়।