মানবিক দিক বিবেচনায় হাতকড়া সামনে দেওয়ার অনুরোধ পলকের

মানবিক দিক বিবেচনায় রেখে হাতকড়া সামনে দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আদালতকে অনুরোধ জানিয়েছেন হোক সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক।
অভিযোগ করে তিনি বলছেন, ‘সকালে শুনানিতে লিফট চালু থাকা সত্ত্বেও আদালতের সিঁড়ি দিয়ে ছয়তলায় এজলাসে তোলা হয়। মাননীয় আদালত, এটা কী ধরনের সিস্টেম? লিফট চালু দেখলাম, তারপরও হাতকড়া পেছনে দিয়ে আমাকে ছয়তলায় সিঁড়ি দিয়ে ওঠানো হয়েছে। আদালতের কাছে আমার অনুরোধ, মানবিক দিক বিবেচনায় রেখে হাতকড়া সামনে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।’
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকার বিশেষ জজ–৪–এর বিচারক রবিউল আলমের আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে এনে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয় পলককে। পরে ১১টা ১০ মিনিটে হাজতখানা থেকে তাকে এজলাসে নেওয়া হয়। শুনানি শেষে ১২টা ৩ মিনিটে আবার তাকে হাজতে রাখা হয়।
সরকারি কৌঁসুলিকে (পিপি) উদ্দেশ্য করে বিচারককে পলক বলেন, ‘মাননীয় আদালত, পিপি সাহেবের মনে রাখা উচিত, তার ওই স্থান থেকে আমার এ স্থানের দূরত্ব বেশি নয়।’
বিচারক পলককে বলেন, ‘এটা তো আপনাদের নিরাপত্তার জন্যই।’
এ সময় পলক বলেন, ‘হাতকড়া সামনের দিকে রাখলেই হয়।’
সংশ্লিষ্ট আদালতের পিপি আনিসুর রহমান বলেন, ‘পলক মূলত হুমকি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কারাবিধি ও আদালতের নিয়ম অনুযায়ীই তাকে আদালতে তোলা হয়েছে। এখানে আইনের কোনো লঙ্ঘন হয়নি।’
এদিন জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় মো. হোসেন নামের এক মালবাহী ট্রাকের চালককে হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির জন্য পলকসহ আটজনকে আদালতে আনা হয়। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জন এ মামলার আসামি।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিতে নিহত হন মো. হোসেন। তিনি পেশায় ট্রাকচালক ছিলেন। সেদিন তিনি গাবতলীতে ট্রাক রেখে বাসায় ফিরছিলেন। চাঁদ উদ্যান এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট নিহত ব্যক্তির মা রীনা বেগম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।
২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক আকরামুজ্জামান আদালতে শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।