logo

বাথরুমের অভ্যাস ঠিক রাখার তিন উপায়, হার্ভার্ড ডাক্তারের পরামর্শ

বাথরুমের অভ্যাস ঠিক রাখার তিন উপায়, হার্ভার্ড ডাক্তারের পরামর্শ

শেষ কবে আপনি খোলাখুলি বাথরুমের অভ্যাস বা হজম নিয়ে কথা বলেছেন? বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রেই এর উত্তর হবে - খুব ছোটবেলায়। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই স্বাভাবিক শারীরিক বিষয়টি লজ্জা, অস্বস্তি আর চুপ থাকার মধ্যে ঢেকে যায়। ফলে সমস্যা থাকলেও অনেকেই তা নিয়ে কথা বলতে চান না।

গবেষণা বলছে, অনেক মানুষের দৈনন্দিন জীবন অন্ত্রের সমস্যার কারণে ব্যাহত হয়। পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া, পায়খানার সময় ব্যথা - এসব সমস্যা খুবই সাধারণ।

হার্ভার্ডের একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতে, ভালোভাবে বাথরুম বা পায়খানা হওয়ার জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। এদেরকে সহজে বলা হয় ‘৩টি পি’ (The 3 Ps of pooping)।

  • প্রপালশন (Propulsion) 
  • প্লিয়াবিলিটি (Pliability)
  • পেলভিক ফ্লোর (Pelvic floor)

চলুন এই ৩টি পি সম্পর্কে জেনে নিই - 

প্রপালশন (Propulsion) : চাপ ও নড়াচড়ার সমন্বয়

প্রপালশন বলতে বোঝায়, শরীরের ভেতরের চাপ ও অন্ত্রের স্বাভাবিক সংকোচন, যা মলকে সামনে এগিয়ে নিয়ে আসে। সাধারণত সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর, খাওয়ার পরে বা কফি খাওয়ার পর বাথরুমের চাপ বেশি অনুভূত হয়। এটি শরীরের স্বাভাবিক ছন্দের অংশ।

করণীয়

  • পায়খানার চাপ পেলেই দেরি না করে টয়লেটে যান
  • জোর করে বেশি সময় ধরে চাপ দেবেন না
  • দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা মোবাইল ব্যবহার এড়িয়ে চলুন

চাপ আটকিয়ে রাখলে পরে বেশি কষ্ট হয় এবং পাইলস বা অন্যান্য সমস্যা হতে পারে।

প্লিয়াবিলিটি (Pliability) : মলের নরমতা

প্লিয়াবিলিটি মানে হলো মল কতটা নরম বা শক্ত। এটি নির্ধারণ করে মল কত সহজে বের হবে। শরীর খাবার থেকে পুষ্টি শোষণ করার পর যা থাকে সেটাই মল। অন্ত্র পানি শোষণ করে, কিন্তু মলকে নরম রাখার জন্য কিছুটা পানি প্রয়োজন।

এখানে ফাইবার খুব গুরুত্বপূর্ণ। ফাইবার মলকে নরম রাখতে সাহায্য করে এবং সহজে বের হতে দেয়।

কী করবেন

প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন। ফল, সবজি, শস্য, বাদাম ইত্যাদি খান এবং হঠাৎ করে বেশি ফাইবার না বাড়িয়ে ধীরে ধীরে এর পরিমাণ বাড়ান।

মনে রাখবেন, এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুল হলো - পর্য়াপ্ত পানি ও ফাইবার নেওয়ার পরও পায়খানার চাপ ধরে রাখা। এতে মল আরও শক্ত হয়ে যায়।

পেলভিক ফ্লোর (Pelvic floor) : সঠিক ভঙ্গি ও পেশির কাজ

পেলভিক ফ্লোর হলো শরীরের নিচের অংশের পেশি, যা পায়খানা - প্রস্রাবসহ নানা কাজে সাহায্য করে। যদি এই পেশি ঠিকভাবে কাজ না করে, তাহলে কোষ্ঠকাঠিন্য বা অন্যান্য সমস্যা হতে পারে।

তাই সঠিক ভঙ্গি খুব গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে চেয়ারে বসার মতো করে টয়লেটে বসলে অন্ত্র পুরোপুরি খোলে না। কিন্তু হাঁটু কোমরের চেয়ে ওপরে তুলে বসলে অন্ত্র সহজে খোলে।

করনীয়

  • পায়খানার সময় পায়ের নিচে ছোট স্টুল বা কিছু উঁচু জিনিস ব্যবহার করুন
  • সামান্য সামনে ঝুঁকে বসুন
  • পা একটু ফাঁক করে বসলে সুবিধা হয়

এই ভঙ্গি অনেকটা স্কোয়াট করার মতো, যা বাথরুমকে সহজ করে।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?

যদি ২ থেকে ৩ মাস চেষ্টা করেও আপনার বাথরুমের অভ্যাসের উন্নতি না হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এছাড়া পায়খানার সময় তীব্র ব্যথা, রক্তপাত ও দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া থাকলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যান।

মনে রাখবেন, পায়খানা একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া, কিন্তু লজ্জা বা অজ্ঞতার কারণে আমরা অনেক সময় এটি উপেক্ষা করি। ফলে ছোট সমস্যা বড় আকার নিতে পারে।

সময়মতো চাপ অনুযায়ী টয়লেটে যাওয়া, মল নরম রাখতে পানি ও ফাইবার গ্রহণ এবং সঠিক ভঙ্গিতে বসার - এই সহজ অভ্যাসগুলো অনুসরণ করলে অনেক সমস্যা নিজে থেকেই কমে যেতে পারে এবং দৈনন্দিন জীবন আরও স্বস্তিদায়ক হয়ে উঠবে।

সূত্র : সিএনএন