কোরবানির মাংস খেয়ে কি পেট খারাপ, কারণ ও সমাধান জানালেন বিশেষজ্ঞ

ঈদুল আজহায় কোরবানির মাংস খাওয়া উৎসবের অন্যতম প্রধান অংশ। অনেক পরিবারে একাধিক দিন ধরে মাংস রান্না ও খাওয়ার চল থাকে। তবে এই সময়ে অনেকেই পেট খারাপ, পেট ব্যথা বা ডায়রিয়ার সমস্যায় ভোগেন।
গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট এবং হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জ্যাকুলিন উলফের মতে, এটি সবসময় সাধারণ হজমের সমস্যা নয়, বরং কিছু ক্ষেত্রে খাদ্যজনিত সংক্রমণ বা শরীরের নির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়ার কারণেও হতে পারে।
চলুন জেনে নিই কী কী কারণে মাংস খেয়ে পেট খারাপ হতে পারে।
মাংসে অ্যালার্জি
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে গরু বা খাসির মাংস শরীর সহ্য করতে পারে না। একে আলফা-গাল সিনড্রোম বলা হয়। এতে মাংস খাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ডায়রিয়া, পেট ব্যথা, বমি বমি ভাব, ত্বকে চুলকানি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। গুরুতর হলে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।
হজমের সমস্যা
অনেক সময় এটি অ্যালার্জি নয়, বরং হজমজনিত সমস্যা। অতিরিক্ত চর্বি বা প্রোটিন শরীর ঠিকভাবে ভাঙতে না পারলে গ্যাস, পেট ফাঁপা, মোচড়ানো ব্যথা ও ডায়রিয়া হতে পারে। সাধারণত খাবার খাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লক্ষণ দেখা দেয়।
ফুড পয়জনিং বা সংক্রমণ
কোরবানির সময় মাংস ঠিকভাবে সংরক্ষণ বা রান্না না করলে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে। এতে ফুড পয়জনিং হতে পারে, যার লক্ষণ হলো বমি, পেট ব্যথা, ডায়রিয়া ও দুর্বলতা। সাধারণত এক থেকে দুই দিনের মধ্যে সমস্যা কমে যায়। তবে তিন দিনের বেশি থাকলে বা জ্বর ও পানিশূন্যতা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।
পিত্তথলি ও অগ্ন্যাশয়ের সমস্যা
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে চর্বিযুক্ত খাবার হজমে সমস্যা হতে পারে যদি পিত্তথলি বা অগ্ন্যাশয়ের কার্যকারিতায় সমস্যা থাকে। এতে চর্বিযুক্ত পাতলা পায়খানা, পেট ব্যথা, ক্ষুধামান্দ্য, ওজন কমে যাওয়া বা শরীর হলুদ হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
করণীয় ও সতর্কতা
কোরবানির সময় মাংস পরিমাণে খাওয়া, ভালোভাবে রান্না করা এবং সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি শরীরের কোনো অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও সচেতনতা থাকলে কোরবানির আনন্দ আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হতে পারে।
সূত্র: এভরিডে হেলথ
.png)






