দুধ খাঁটি নাকি ভেজাল, বুঝবেন যেভাবে

বর্তমান সময়ে খাঁটি দুধ চেনা অনেকের কাছেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারে বিভিন্ন সময় দুধে পানি, ডিটারজেন্ট বা অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান মেশানোর অভিযোগ ওঠে। এসব ভেজাল দুধ নিয়মিত খেলে তা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে কিছু সহজ ঘরোয়া উপায় জানা থাকলে দুধ খাঁটি নাকি ভেজাল তা অনেকটাই বোঝা সম্ভব।
দুধে সবচেয়ে সাধারণভাবে যে ভেজাল মেশানো হয় তা হলো পানি। এটি ধরার একটি সহজ উপায় হলো মসৃণ ও পরিষ্কার পৃষ্ঠে এক ফোঁটা দুধ ফেলে দেখা। যদি দুধ ধীরে ধীরে গড়িয়ে যায় এবং সাদা দাগ রেখে যায়, তাহলে সাধারণত সেটিকে তুলনামূলক খাঁটি ধরা হয়। আর যদি দ্রুত গড়িয়ে যায় এবং কোনো দাগ না রাখে, তাহলে এতে পানি মেশানোর সম্ভাবনা থাকে।
অনেক সময় দুধে ফেনা তৈরি বা ঘনত্ব বাড়ানোর জন্য ডিটারজেন্ট মেশানো হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এটি শনাক্ত করতে একটি কাচের গ্লাসে সামান্য দুধ নিয়ে তাতে সমপরিমাণ পানি মিশিয়ে ঝাঁকিয়ে দেখুন। যদি স্বাভাবিকভাবে অল্প ফেনা তৈরি হয়ে দ্রুত মিলিয়ে যায়, তবে তা সাধারণত ঠিক থাকে। কিন্তু অতিরিক্ত ও স্থায়ী ফেনা তৈরি হলে সেটি ভেজাল থাকার ইঙ্গিত দিতে পারে।
দুধে স্টার্চ মেশানো হয়েছে কি না তা বোঝার জন্য আয়োডিন পরীক্ষাও করা যায়। সামান্য দুধে কয়েক ফোঁটা আয়োডিন দিলে যদি রং নীল হয়ে যায়, তাহলে বুঝতে হবে এতে স্টার্চ মেশানো হয়েছে।
সিন্থেটিক দুধ চেনার ক্ষেত্রে গন্ধ ও স্বাদও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খাঁটি দুধে একটি স্বাভাবিক মিষ্টি গন্ধ থাকে, তবে ভেজাল দুধে অস্বাভাবিক গন্ধ বা সাবানের মতো অনুভূতি পাওয়া যেতে পারে। আঙুলে ঘঁষে দেখলে যদি বেশি পিচ্ছিল লাগে, সেটিও ভেজালের লক্ষণ হতে পারে।
দুধ গরম করার সময়ও কিছু পরিবর্তন বোঝা যায়। খাঁটি দুধ সাধারণত স্বাভাবিক রং ধরে রাখে, কিন্তু ভেজাল দুধে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, সামান্য সতর্কতা ও কিছু ঘরোয়া পরীক্ষার মাধ্যমে সহজেই দুধের মান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব। তবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে দুধ সংগ্রহ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
সূত্র: টিভি ৯
.png)






