logo
Advertisement

গ্যাসের চুলার আগুন নীল থেকে কমলা হলে কী বোঝায়

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
গ্যাসের চুলার আগুন নীল থেকে কমলা হলে কী বোঝায়
ছবি: স্টক কেক

রান্না করতে গিয়ে গ্যাসের চুলার আগুনের রং বদলে গেছে, এমন ঘটনা অনেকেরই চোখে পড়ে। সাধারণত গ্যাসের চুলায় নীল শিখা দেখা যায়। কিন্তু কখনও সেই শিখা হলুদ, কমলা বা লালচে হয়ে যেতে পারে। অনেকেই এটিকে স্বাভাবিক ভেবে রান্না চালিয়ে যান। অথচ শিখার এই পরিবর্তন কখনও কখনও চুলায় গ্যাস ঠিকভাবে না পোড়ার ইঙ্গিত হতে পারে।

গ্যাসের শিখা কমলা হওয়ার অন্যতম কারণ হলো গ্যাসের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরিমাণ বাতাস বা অক্সিজেন ঠিকভাবে না মেশা। এতে গ্যাসের অসম্পূর্ণ দহন হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কার্বন মনোক্সাইড তৈরির ঝুঁকি বাড়তে পারে। যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষও হলুদ বা কমলা শিখাকে অসম্পূর্ণ দহনের সম্ভাব্য লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

গ্যাসের আগুন সাধারণত নীল কেন?

গ্যাস যখন পর্যাপ্ত অক্সিজেনের সঙ্গে সঠিকভাবে পুড়ে, তখন সাধারণত নীল শিখা দেখা যায়। এই ধরনের দহন তুলনামূলকভাবে সম্পূর্ণ হয় এবং চুলা স্বাভাবিকভাবে কাজ করে।

অন্যদিকে গ্যাস ও বাতাসের অনুপাত ঠিক না থাকলে দহন অসম্পূর্ণ হতে পারে। তখন শিখার রং হলুদ বা কমলা হয়ে যেতে পারে। অসম্পূর্ণ দহনে অতিক্ষুদ্র কার্বন কণা তৈরি হয়ে শিখায় হলুদ বা কমলা আভা দেখা দিতে পারে।

তবে শুধু শিখার রং দেখেই ঘরে কার্বন মনোক্সাইডের মাত্রা কত, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। তাই অস্বাভাবিক শিখাকে সতর্কতার সংকেত হিসেবে দেখা উচিত।

চুলার আগুন কমলা হওয়ার কারণ কী?

বার্নারে ময়লা জমে যাওয়া: রান্নার সময় তেল, খাবারের কণা, মসলা বা অন্যান্য ময়লা বার্নারের ছোট ছিদ্রে ঢুকে যেতে পারে। এতে গ্যাসের প্রবাহ এবং বাতাসের সঙ্গে গ্যাসের মিশ্রণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ফলে আগুনের রং বদলে যেতে পারে।

বার্নারের অংশ ঠিকভাবে বসানো না থাকা: চুলা পরিষ্কার করার পর বার্নারের ঢাকনা বা অন্যান্য অংশ সামান্য বেঁকে বা ভুলভাবে বসে গেলেও আগুনের ধরন বদলে যেতে পারে। তাই পরিষ্কার করার পর প্রতিটি অংশ আগের অবস্থানে ঠিকভাবে বসানো হয়েছে কি না, তা দেখা জরুরি।

পর্যাপ্ত বাতাস না পাওয়া: গ্যাস ঠিকভাবে জ্বলতে বাতাসের প্রয়োজন হয়। রান্নাঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল না থাকলে বা চুলার বায়ুপ্রবাহে কোনো বাধা থাকলে দহনে সমস্যা হতে পারে।

গ্যাসের চাপ বা যন্ত্রাংশের সমস্যা: কখনও চুলার ভেতরের কোনো যন্ত্রাংশ, গ্যাসের চাপ বা গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার সমস্যার কারণেও শিখা অস্বাভাবিক হতে পারে। বিশেষ করে পরিষ্কার করার পরও যদি একই সমস্যা থাকে, তাহলে নিজে থেকে চুলার গ্যাসের সংযোগ বা ভেতরের যন্ত্রাংশ পরিবর্তন না করে প্রশিক্ষিত কারিগরের সাহায্য নেওয়া নিরাপদ।

কমলা আগুন কি বিপজ্জনক?

সব সময় নয়। কখনও ধুলা বা বাতাসে থাকা ক্ষুদ্র কণার কারণে নীল শিখায় অল্প সময়ের জন্য কমলা আভা দেখা যেতে পারে। কিন্তু যদি পুরো শিখা দীর্ঘ সময় ধরে হলুদ বা কমলা থাকে, সেটি অবহেলা করা ঠিক নয়।

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, হলুদ বা কমলা শিখা, চুলার আশপাশে কালো বা হলুদাভ দাগ, ঘরের জানালায় অস্বাভাবিক ঘনীভবন এবং পাইলট বাতি বারবার নিভে যাওয়া গ্যাস যন্ত্রের অসম্পূর্ণ দহনের সম্ভাব্য লক্ষণ।

কার্বন মনোক্সাইড একটি বর্ণহীন ও গন্ধহীন গ্যাস। বেশি মাত্রায় এর সংস্পর্শে এলে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা, বমি বমি ভাবসহ গুরুতর অসুস্থতা হতে পারে। তাই গ্যাসের যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে দহনের সমস্যা উপেক্ষা করা উচিত নয়।

হাঁড়ির নিচে কালো দাগ পড়লেও সতর্ক হোন

গ্যাসের চুলায় আগুনের রং বদলে যাওয়ার পাশাপাশি রান্নার পাত্রের নিচে কালো কালি বা ধোঁয়ার দাগ জমতে থাকলেও বিষয়টি খেয়াল করা দরকার। এটি গ্যাস ঠিকভাবে না পোড়ার একটি লক্ষণ হতে পারে।

একই সঙ্গে যদি আগুন আগের তুলনায় দুর্বল হয়ে যায়, বারবার নিভে যায় বা স্বাভাবিকভাবে জ্বলতে না চায়, তাহলে শুধু গ্যাস শেষ হয়ে যাচ্ছে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

কী করবেন?

প্রথমে গ্যাসের চুলা বন্ধ করে সেটি ঠান্ডা হতে দিন। এরপর ব্যবহারকারীর নির্দেশিকায় অনুমোদিত পদ্ধতি অনুযায়ী বার্নার ও তার আশপাশ পরিষ্কার করা যায়। বার্নারের ছিদ্রে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করার সময় চুলার প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুসরণ করা সবচেয়ে নিরাপদ।

পরিষ্কার করার পর বার্নারের সব অংশ ঠিকভাবে বসিয়ে আবার পরীক্ষা করুন। আগুন স্বাভাবিক নীল হয়ে গেলে এবং অন্য কোনো সমস্যা না থাকলে বিষয়টি হয়তো ময়লার কারণে হয়েছিল।

তবে পরিষ্কার করার পরও আগুন কমলা বা হলুদ থাকলে চুলা ব্যবহার বন্ধ রেখে দক্ষ গ্যাস মিস্ত্রি বা অনুমোদিত কারিগরের মাধ্যমে পরীক্ষা করানো ভালো। বিশেষ করে গ্যাসের চাপ, নিয়ন্ত্রক বা চুলার অভ্যন্তরীণ অংশ নিজে থেকে খুলে পরিবর্তন করা উচিত নয়।

গ্যাসের গন্ধ পেলে কী করবেন?

গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেলে বিষয়টি শুধু আগুনের রং পরিবর্তনের সমস্যা হিসেবে দেখবেন না। দ্রুত গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ করার নিরাপদ ব্যবস্থা থাকলে তা করুন এবং আগুন বা বৈদ্যুতিক সুইচ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। জানালা-দরজা খোলা সম্ভব হলে নিরাপদভাবে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন এবং বাইরে গিয়ে সংশ্লিষ্ট গ্যাস সরবরাহকারী বা জরুরি সেবায় যোগাযোগ করুন।

আর কার্বন মনোক্সাইডের সতর্কসংকেত দেখা দিলে বা কার্বন মনোক্সাইড শনাক্তকারী যন্ত্রে সতর্কবার্তা এলে সবাইকে দ্রুত খোলা বাতাসে নিয়ে যেতে হবে এবং প্রয়োজন হলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।

রান্নার সময় কোন শিখা স্বাভাবিক?

সাধারণভাবে পরিষ্কার ও ঠিকভাবে কাজ করা গ্যাস বার্নারে নীল শিখা দেখা যায়। তবে নির্দিষ্ট চুলার নকশা ও ব্যবহৃত গ্যাসের ধরন অনুযায়ী শিখায় সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে। তাই আপনার চুলার প্রস্তুতকারকের নির্দেশিকায় দেওয়া স্বাভাবিক শিখার ধরনটি জানা ভালো।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একটানা হলুদ বা কমলা শিখা, পাত্রের নিচে কালো দাগ কিংবা বারবার শিখা নিভে যাওয়াকে স্বাভাবিক ধরে নিয়ে রান্না চালিয়ে না যাওয়া। সামান্য পরিষ্কারেই সমস্যা ঠিক হলে ভালো, কিন্তু সমস্যা থেকে গেলে নিরাপত্তার জন্য পেশাদারের সাহায্য নেওয়াই উচিত।

সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট