Advertisement

প্রতিদিনের ৬ অভ্যাসেই কমতে পারে স্ট্রোকের ঝুঁকি

এশিয়া পোস্ট নিউজ
প্রতিদিনের ৬ অভ্যাসেই কমতে পারে স্ট্রোকের ঝুঁকি
বিভিন্ন ক্রনিক অবস্থা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

স্ট্রোক এমন একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা, যা হঠাৎ করেই ঘটতে পারে। অনেক সময় এর আগে তেমন কোনো স্পষ্ট লক্ষণও দেখা যায় না। তবে সুখবর হলো, বিশেষজ্ঞদের মতে স্ট্রোকের অনেক ঝুঁকির কারণই জীবনযাপনের সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ দৈনন্দিন কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে স্ট্রোকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের মতে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত শরীরচর্চা, ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসের মতো কিছু সহজ পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্ক ও হৃদ্‌যন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করুন

উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকের অন্যতম বড় ঝুঁকির কারণ। দীর্ঘদিন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে মস্তিষ্কের রক্তনালিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তাই নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজন হলে ওষুধ গ্রহণ করুন। লবণ কম খাওয়া, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং ব্যায়ামও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট শরীরচর্চা করুন

নিয়মিত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার বা অন্য কোনো মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম হৃদ্‌যন্ত্র ও রক্তনালিকে সুস্থ রাখে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রাপ্তবয়স্কদের সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যক্রম করার পরামর্শ দেয়।

ধূমপান এবং পরোক্ষ ধূমপান এড়িয়ে চলুন

ধূমপান রক্তনালির ক্ষতি করে, রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়ায় এবং রক্তচাপও বাড়াতে পারে। শুধু ধূমপান নয়, অন্যের সিগারেটের ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকাও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই ধূমপান ছেড়ে দেওয়া এবং ধোঁয়ামুক্ত পরিবেশে থাকার চেষ্টা করা জরুরি।

ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন

অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস এবং উচ্চ কোলেস্টেরল ধীরে ধীরে রক্তনালির ক্ষতি করে। কোলেস্টেরল বেশি থাকলে রক্তনালিতে চর্বি জমে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ও খাদ্যাভ্যাস মেনে চলুন।

সতর্ক সংকেতকে অবহেলা করবেন না

স্ট্রোক অনেক সময় হঠাৎ হলেও কিছু লক্ষণ আগে দেখা দিতে পারে। যেমন- হঠাৎ মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া, একটি হাত বা পায়ে দুর্বলতা, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা স্পষ্টভাবে কথা বলতে না পারা, চোখে ঝাপসা দেখা ও ভারসাম্য হারানো বা তীব্র মাথা ঘোরা।

এসব লক্ষণ দেখা দিলে এক মুহূর্তও দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। দ্রুত চিকিৎসা জীবন বাঁচাতে এবং স্থায়ী ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে।


স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বেশি করে শাকসবজি, ফল, পূর্ণ শস্য, ডাল, বাদাম এবং স্বাস্থ্যকর প্রোটিন রাখুন। অতিরিক্ত লবণ, চিনি, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট কম খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

সুষম খাদ্য রক্তচাপ, কোলেস্টেরল এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে, যা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

স্ট্রোক সব সময় প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও অনেক ক্ষেত্রেই এর ঝুঁকি কমানো যায়। নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা, শরীরচর্চা, ধূমপান বর্জন, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের মতো ছোট ছোট অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে বড় উপকার করতে পারে। পাশাপাশি স্ট্রোকের সতর্ক সংকেত সম্পর্কে সচেতন থাকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া হলে জটিলতা এবং মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

সূত্র:এই সময় অনলাইন