logo

দাঁত ব্রাশ করার পরও মুখে দুর্গন্ধ, দূর করার সহজ ৬ উপায়

দাঁত ব্রাশ করার পরও মুখে দুর্গন্ধ, দূর করার সহজ ৬ উপায়

মুখে দুর্গন্ধ বা ব্যাড ব্রেথ একটি সাধারণ সমস্যা, যা বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৫ শতাংশ মানুষকে প্রভাবিত করে। অনেক সময় এটি সাময়িক হলেও কারও কারও ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন থাকে। এতে অস্বস্তি যেমন বাড়ে, তেমনি সামাজিক পরিস্থিতিতেও বিব্রত হতে হয়।

মুখে দুর্গন্ধের পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। যেমন—মুখ শুকিয়ে যাওয়া, জিবে ব্যাকটেরিয়া জমা, হজমের সমস্যা বা অ্যাসিডিটি। তবে ভালো খবর হলো, কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে এই সমস্যাটি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

মুখের দুর্গন্ধ কমানোর ৬টি কার্যকর উপায়

মুখ আর্দ্র রাখুন : মুখে লালা কম তৈরি হলে দুর্গন্ধ বাড়তে পারে। লালা মুখের ক্ষতিকর জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা, পর্যাপ্ত পানি না পান করা বা ঘুমানোর আগে পানি না খেলে মুখ শুকিয়ে যেতে পারে। তাই সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং মুখ আর্দ্র রাখার চেষ্টা করুন।

জিব পরিষ্কার করুন : জিবের ওপরিভাগে ব্যাকটেরিয়া জমে দুর্গন্ধ তৈরি করে। তাই শুধু দাঁত ব্রাশ করলেই হবে না, জিবও পরিষ্কার করতে হবে। টাং স্ক্র্যাপার বা ব্রাশ দিয়ে জিবের পুরো অংশ হালকা করে পরিষ্কার করুন।

অ্যাসিডিক খাবার কমান : যাদের প্রায়ই অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়, তাদের ক্ষেত্রে মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে। অতিরিক্ত চা, কফি, অ্যালকোহল, ফাস্টফুড, রসুন, পেঁয়াজ বা চকলেট খাওয়া কমিয়ে দিন। এগুলো অ্যাসিড রিফ্লাক্স বাড়িয়ে দুর্গন্ধ তৈরি করতে পারে।

প্রোবায়োটিক খাবার খান : অনেক সময় অন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হলে মুখে দুর্গন্ধ হয়। দই, আচার, কিমচি, মিসো ইত্যাদি প্রোবায়োটিক খাবার খেলে হজম ভালো হয় এবং দুর্গন্ধ কমে।

মেডিকেটেড মাউথওয়াশ ব্যবহার করুন : সাধারণ সুগন্ধি মাউথওয়াশের বদলে চিকিৎসা-উপযোগী মাউথওয়াশ ব্যবহার করা ভালো। এটি মুখের ব্যাকটেরিয়া কমাতে সাহায্য করে এবং দাঁত, মাড়ি ও জিব পরিষ্কার রাখতে সহায়ক। তবে শুধু মাউথওয়াশ ব্যবহার করলেই হবে না, নিয়মিত ব্রাশ ও ফ্লস করাও জরুরি।

ধূমপান ছাড়ুন : ধূমপান মুখে দুর্গন্ধের একটি বড় কারণ। এটি মাড়ির রোগও বাড়ায়। তাই মুখের দুর্গন্ধ কমাতে ধূমপান পরিহার করা জরুরি।

মুখে দুর্গন্ধের সাধারণ কারণ

মুখে দুর্গন্ধ, যাকে হ্যালিটোসিস বলা হয়, সাধারণত মুখের ভেতর থেকেই শুরু হয়। এর প্রধান কারণগুলো হলো:

  • ঠিকমতো দাঁত ব্রাশ ও ফ্লস না করা
  • মুখ শুকিয়ে যাওয়া
  • মাড়ির রোগ
  • পেঁয়াজ বা রসুনজাতীয় খাবার
  • ডায়াবেটিস, কিডনি বা লিভারের মতো কিছু রোগ

লক্ষণ কীভাবে বুঝবেন

অনেক সময় নিজে বুঝতে না পারলেও কিছু লক্ষণ দেখা যায়:

  • মুখে খারাপ স্বাদ থাকা
  • জিবে সাদা বা হলুদ আবরণ
  • মুখ সবসময় শুকনো লাগা
  • অন্যদের প্রতিক্রিয়া থেকে সন্দেহ হওয়া

ঘরোয়া কিছু উপায়

মুখের দুর্গন্ধ কমাতে কিছু সহজ ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে : 

  • পর্যাপ্ত পানি পান করা
  • দিনে অন্তত দুইবার দাঁত ব্রাশ করা
  • প্রতিদিন ফ্লস ব্যবহার করা
  • আঁশযুক্ত ফল ও সবজি খাওয়া
  • মৌরি চিবানো, লেবুর পানি পান করা

তবে মনে রাখতে হবে, এসব উপায় সাময়িক স্বস্তি দেয়। সমস্যাটি দীর্ঘদিন থাকলে অবশ্যই ডেন্টাল বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

যদি নিয়মিত ব্রাশ, ফ্লস ও পরিচর্যার পরও মুখে দুর্গন্ধ না কমে, তাহলে দেরি না করে ডেন্টাল চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। কারণ, এটি মাড়ির রোগ বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

মুখে দুর্গন্ধ ছোট সমস্যা মনে হলেও এটি আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক সম্পর্কের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শুরু থেকেই সচেতন হওয়া জরুরি।

নিয়মিত মুখের যত্ন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং পর্যাপ্ত পানি পান করলে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে নিজে চিকিৎসা না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।