logo

রোজায় হঠাৎ কফি-চা বন্ধ করলে কী হতে পারে, জানাচ্ছেন চিকিৎসক

রোজায় হঠাৎ কফি-চা বন্ধ করলে কী হতে পারে, জানাচ্ছেন চিকিৎসক

রমজান মাস এসে গেছে, আর যারা প্রতিদিন কফি, চা বা এনার্জি ড্রিংক পান করেন, তাদের জন্য হঠাৎ ক্যাফেইন বন্ধ করা কিছু অসুবিধা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে উপবাসের সময় ক্লান্তি, মাথাব্যথা বা জ্বর অনুভূত হতে পারে। 

চিকিৎসকরা বলছেন, রমজান শুরু হওয়ার আগে ধীরে ধীরে ক্যাফেইনের পরিমাণ কমানো উচিত।

ক্যাফেইন হলো একটি প্রাকৃতিক উদ্দীপক, যা সতর্কতা বাড়ায় এবং ক্লান্তি কমায়। তবে বেশি মাত্রায় খেলে স্নায়ুবিক উত্তেজনা, হৃৎস্পন্দন বৃদ্ধি বা নিদ্রাহীনতার সমস্যা দেখা দিতে পারে। নিয়মিত বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে শরীর এবং মন উভয়ই এটির উপর নির্ভরশীল হয়ে যায়।

কেন ক্যাফেইন কমানো জরুরি

হঠাৎ ক্যাফেইন বন্ধ করলে মাথাব্যথা, ক্লান্তি, রাগ বা চিড়চিড়াপূর্ণ মন, মনোযোগে অসুবিধা এবং মাসল-ব্যথা হতে পারে। বিশেষ করে উপবাসের সময় এই সমস্যা আরও তীব্র হয়।

সাধারণ বিরতি লক্ষণ

প্রায় সব ক্ষেত্রে শেষ ক্যাফেইন গ্রহণের ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিরতি লক্ষণ শুরু হয়। শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছাতে প্রায় ২০-৫০ ঘণ্টা লাগে এবং হালকা ব্যবহারকারীর জন্য ২-৯ দিন, আবার বেশি ব্যবহারকারীর জন্য দুই সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

সাধারণ লক্ষণগুলো

- মাথাব্যথা (অধিকাংশ সময় ট্যাপ করা বা ধাক্কাধাক্কি ধরনের)

- ক্লান্তি বা ঘুমের অনুভূতি

- রাগ বা মেজাজের পরিবর্তন

- মনোযোগে সমস্যা বা মস্তিষ্কে গোলমাল

- মাসল শক্ত হওয়া বা ফ্লুর মতো অনুভূতি

- বমি বা পেটে অস্বস্তি

নিরাপদভাবে ক্যাফেইন কমানোর উপায়

ডাক্তারেরা বলছেন, ধীরে ধীরে কমানোই সবচেয়ে নিরাপদ।

ক্রমিকভাবে কমানো: প্রতিদিন দৈনিক ক্যাফেইনের ২৫–৫০ শতাংশ কমানো। যেমন, যদি দিনে তিন কাপ কফি পান, কয়েক দিন দুই কাপ করে কমান, তারপর এক কাপ।

ডিক্যাফের সাথে মিশিয়ে খাওয়া: নিয়মিত কফি ও ডিক্যাফ কফির ৫০/৫০ মিশ্রণ তৈরি করলে স্বাদ বজায় থাকে, কিন্তু ক্যাফেইন কমে।

কম ক্যাফেইনযুক্ত বিকল্প: শক্ত কফির পরিবর্তে চা, বা বেশি ক্যাফেইনযুক্ত চা পরিবর্তে হালকা গ্রিন বা হোয়াইট চা।

হঠাৎ বন্ধ না করা: হঠাৎ সবকিছু বন্ধ করা, বেশি চিনি যুক্ত এনার্জি ড্রিংক খাওয়া বা ঘুম কমানো বিরতি লক্ষণ আরও বাড়ায়।

জীবনধারার অভ্যাসে সহায়তা

ক্যাফেইন কমানোর সময় কিছু জীবনধারার পরিবর্তন শরীরকে সহায়তা করে-

জল খাওয়া: যথেষ্ট পানি মাথাব্যথা ও ক্লান্তি কমায়।

পর্যাপ্ত ঘুম: বিশ্রাম কম শক্তি কমানোর সময় সহায়ক।

হালকা ব্যায়াম: ছোট হাঁটা বা হালকা শারীরিক কাজ সতর্কতা বাড়ায়।

ক্যাফেইনের সময়সূচি ঠিক রাখা: যদি সেহরি বা ফজরের আগে সামান্য ক্যাফেইন নেয়ার পরিকল্পনা থাকে, রমজান শুরু হওয়ার আগে একই সময়ে শুরু করুন।

লুকানো ক্যাফেইন খুঁজে বের করা: সোডা, চকলেট, এনার্জি ড্রিংকসহ অন্যান্য উৎস থেকে ক্যাফেইন কমানো।

রমজানে শক্তি ধরে রাখা

উপবাসের প্রথম কয়েক দিনে হালকা ক্লান্তি এবং মনোযোগের কমে যাওয়া স্বাভাবিক। ধীরে ধীরে কমানো এবং পর্যাপ্ত পানি খাওয়া শরীরকে সজাগ রাখে। রমজান শুরু হওয়ার অনেক আগে এই প্রস্তুতি নিলে শরীর সহজেই মানিয়ে নেয়, এবং উপবাস আরও স্বাচ্ছন্দ্যে করা যায়।

সূত্র: গল্ফ নিউজ