logo

প্রতিদিন সকালে হাঁটার সঠিক সময় ও নিয়ম কী

প্রতিদিন সকালে হাঁটার সঠিক সময় ও নিয়ম কী
ছবি: ২৪ আপডেট নিউজ

ফিট থাকতে এবং নিজেকে চাঙা রাখতে প্রতিদিন সকালে হাঁটার কোনো বিকল্প নেই। খুব সহজ এই ব্যায়ামটি দিয়ে দিন শুরু করলে সারাদিন মন ও শরীর দুই-ই ভালো থাকে। তবে জানেন কি, সকালে হাঁটার সময়ের ওপর নির্ভর করে আপনি এর থেকে ঠিক কতটা উপকার পাবেন?

অনেকে সূর্য ওঠার আগেই হাঁটতে বের হন, আবার অনেকে অফিসের আগে একটু বেলা করে হাঁটেন। কিন্তু কোন সময়টি আপনার শরীরের জন্য সবচেয়ে ভালো? চলুন, জেনে নেওয়া যাক—

আপনার জন্য সকালে হাঁটার ৩টি সেরা সময়

সকালে হাঁটার সময় নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিজের ঘুমানোর অভ্যাস, হাঁটার উদ্দেশ্য এবং আবহাওয়াকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। একেক সময়ের হাঁটার উপকারিতা একেক রকম।

সূর্যোদয়ের ঠিক আগে

আপনি যদি নিরিবিলি পরিবেশ পছন্দ করেন এবং কোলাহলমুক্ত শান্ত প্রকৃতি উপভোগ করতে চান, তবে ভোরে আলো ফোটার আগের সময়টি আপনার জন্য সেরা হতে পারে। এই সময়ে রাস্তার গাড়িঘোড়ার ধোঁয়া বা ধুলোবালি একদম থাকে না বললেই চলে। বাতাস থাকে একদম সতেজ ও নির্মল, যা ফুসফুসের জন্য ভীষণ উপকারী।

এ ছাড়া সকালের ঠান্ডা ও স্নিগ্ধ আবহাওয়া হাঁটাকে আরও আরামদায়ক করে তোলে। সারাদিনের মানসিক ক্লান্তি দূর করে মনকে প্রফুল্ল রাখে। সারাদিনের কাজের জন্য এনার্জি পাবেন।

সকাল সাড়ে ৬টা থেকে সকাল ৮টা

বেশির ভাগ মানুষের জন্যই এই সময়টি সবচেয়ে সুবিধাজনক। কারণ তখন চারপাশ বেশ আলো ঝলমলে হয়ে ওঠে, আবার দুপুরের মতো কড়া রোদও ওঠে না। এই সময়ের মিষ্টি রোদ আমাদের ত্বকে এসে লাগলে শরীরে প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন-ডি তৈরি হতে শুরু করে। যারা সকাল সকাল অফিসে বা কাজে বের হন, তাদের জন্য এটি বেশ উপযোগী একটি রুটিন। একটু গুছিয়ে নিয়ে এই রুটিনটি অনায়াসেই মানিয়ে নিতে পারেন।

সকাল ৮টা থেকে ১০টা (যারা দেরিতে ঘুম থেকে ওঠেন, তাদের জন্য)

অনেকেরই রাতে দেরি করে ঘুমানোর অভ্যাস থাকে, কিংবা সকালের দিকে তেমন কোনো কাজ থাকে না। তারা হয়তো একটু দেরিতে ঘুম থেকে উঠতেই পছন্দ করেন। খুব ভোরে উঠতে না পারলে হাঁটতে বের হওয়া যাবে না, এমন কেনো কথা নেই। আপনি দেরিতে ঘুম থেকে উঠেও রিল্যাক্সে হাঁটতে যেতে পারেন।

যাদের সকালে ঠান্ডা লাগা বা অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, তারা কিছুটা রোদ ওঠার পর হাঁটলে আরাম পাবেন। এছাড়া সকালে ভারী কোনো নাস্তা করার পর এই সময়ে হাঁটাহাঁটি করলে খাবার দ্রুত হজম হতে সাহায্য করে।

হাঁটার আগে ৫টি প্রস্তুতি: ওয়ার্ম-আপ ও স্ট্রেচিং

বিছানা থেকে উঠেই সোজাসুজি দৌড়ানো বা জোরে হাঁটা শুরু করা একদমই উচিত নয়। এতে আমাদের শরীরের মাংসপেশিতে বা জয়েন্টে হঠাৎ টান লেগে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই হাঁটার আগে অন্তত ৫ থেকে ১০ মিনিট সময় নিয়ে হালকা কিছু স্ট্রেচিং করে শরীরকে প্রস্তুত করে নিতে হবে।

চলুন জেনে নিই ৫টি সহজ ওয়ার্ম-আপ কৌশল:

ঘাড়ের স্ট্রেচ

সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ঘাড়টি ধীরে ধীরে ডান কাঁধের দিকে হেলিয়ে দিন। ১০ সেকেন্ড এভাবে ধরে রেখে আবার বাঁ দিকে একই কাজ করুন। এতে সারারাত ঘুমানোর পর ঘাড়ের যে জড়তা থাকে, তা দূর হয়।

কাঁধ ঘোরানো

আপনার কাঁধ দুটোকে বৃত্তাকারে একবার সামনের দিকে এবং একবার পেছনের দিকে ঘোরান। এটি পিঠ ও কাঁধের টান ভাব দূর করে। আপনার বসার কারণে তৈরি হওয়া পিঠের ব্যথাও কমাতে পারে।

কোমর ও শরীরের ফ্লেক্সিবিলিটি

সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে এক হাত মাথার ওপর তুলুন এবং শরীরের ওপরের অংশ বিপরীত দিকে সামান্য বাঁকা করুন। ১০ সেকেন্ড পর হাত বদলে অন্য পাশে করুন। এতে শরীরের নমনীয়তা বাড়ে।

পায়ের পেশির টান কমাতে

এক পা সামান্য সামনে বাড়িয়ে কোমর থেকে হালকা সামনের দিকে ঝুঁকে যান। ১০ সেকেন্ড রেখে অপর পায়েও একই নিয়ম মানুন। উরুর পেছনের পেশি নমনীয় করতে এটি দারুণ কাজ করে।

গোড়ালি নমনীয় রাখতে

পায়ের পাতা একটু উপরে তুলে গোড়ালি ঘড়ির কাঁটার দিকে এবং বিপরীত দিকে গোল গোল করে ঘোরাতে থাকুন। এটা করলে হাঁটার সময় পায়ে মচকানো বা ব্যথা পাওয়ার ভয় থাকে না।

হাঁটতে বের হওয়ার ২০-৩০ মিনিট আগে ঘুম থেকে উঠে একটু ফ্রেশ হয়ে নিন, হালকা স্ট্রেচিং করুন। এক গ্লাস নরমাল পানি পান করুন, এতে শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হবে না। শরীরকে সুস্থ রাখাটা কোনো একদিনের কাজ নয়, প্রতিদিন একটু একটু করে নিজের অভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে। সকালের সতেজ বাতাসে হাঁটাহাঁটি করে দিনটি সুন্দরভাবে শুরু করুন।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া