logo
Advertisement

সম্পর্কে এই ৫ আচরণ দেখলে সতর্ক হোন

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
সম্পর্কে এই ৫ আচরণ দেখলে সতর্ক হোন
ছবি : সংগৃহীত

সম্পর্ক শুধু ভালোবাসা বা আবেগের বিষয় নয়, এখানে বোঝাপড়া, সম্মান এবং মানসিক নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অনেক সময় সম্পর্কের ভেতরে এমন কিছু ছোট আচরণ দেখা যায়, যেগুলো প্রথমে বড় সমস্যা মনে হয় না। ধীরে ধীরে এগুলোই মানসিক চাপ ও অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

Advertisement

ভারতের মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সব সমস্যাযুক্ত সম্পর্ক শুরু থেকেই স্পষ্ট হয় না। অনেক সময় খুব নীরব কিছু আচরণ দিয়ে তার শুরু হয়, যা সহজেই এড়িয়ে যাওয়া হয়।

মুম্বাইয়ের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও সাইকোথেরাপিস্ট কারিনা মেহতা জানিয়েছেন, সম্পর্কে বিষাক্ততক সবসময় ঝগড়া বা বড় অশ্রদ্ধা দিয়ে শুরু হয় না। বরং অনেক সময় শুরুটা হয় ছোট কিন্তু ধারাবাহিক কিছু আচরণ দিয়ে।

নিচে এমন পাঁচটি নীরব সতর্ক সংকেত তুলে ধরা হলো—

আপনার অনুভূতিকে গুরুত্ব না দেওয়া

যখন আপনি নিজের কষ্ট বা অনুভূতির কথা প্রকাশ করেন, তখন সেটিকে গুরুত্ব না দিয়ে বলা হয় আপনি অতিরিক্ত ভাবছেন বা আপনি খুব সেনসিটিভ। এমন হলে ধীরে ধীরে নিজের অনুভূতির ওপর বিশ্বাস কমে যেতে শুরু করে।

এটি দীর্ঘমেয়াদে আত্মবিশ্বাস ও আপনার প্রিয় মানুষের সাথে যোগাযোগে বাধা তৈরি করে।

মনে রাখবেন, একটি সুস্থ সম্পর্কে দুই পক্ষের অনুভূতিকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়, মতভেদ থাকলেও।

শুধু নিজের সুবিধামতো উপস্থিত থাকা

কিছু সম্পর্কের ক্ষেত্রে দেখা যায়, একজন সঙ্গী শুধু নিজের সুবিধা অনুযায়ী যোগাযোগ রাখেন বা সময় দেন। যেমন - বারবার দেরিতে উত্তর দেওয়া, কোন পরিকল্পনায় আগ্রহ না দেখানো এবং নিজের প্রয়োজন ছাড়া যোগাযোগ না করা।

শুরুতে এটি তেমন সমস্যা মনে না হলেও, পরে সম্পর্কটি একতরফা হয়ে যেতে পারে।

ব্যক্তিগত সীমা মানতে না চাওয়া বা অপরাধবোধ অনুভব করানো

সম্পর্কে ব্যক্তিগত সীমা বা বাউন্ডারি থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে সেই সীমা মেনে না নিয়ে উল্টো অপরাধবোধ তৈরি করা হয়।

যেমন - কথা বলতে না চাইলে রাগ করা, দূরত্ব চাইলে আপনার সঙ্গে নীরব আচরণ করা (silent treatment) এবং মানসিক চাপ তৈরি করা।

এতে ধীরে ধীরে একজন মানুষ নিজের প্রয়োজন প্রকাশ করাই বন্ধ করে দেন। এতে কেবল দূরত্বই বাড়ে।

কৌতুকের আড়ালে কষ্ট দেওয়া

হাসি-ঠাট্টা সম্পর্কের অংশ, তবে সমস্যা হয় যখন তা বারবার ব্যক্তিগত দুর্বলতার ওপর আঘাত করে।

যেমন - চেহারা নিয়ে খোঁটা দেয়া, কোন সিদ্ধান্ত নিয়ে উপহাস করা বা ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে ব্যঙ্গ করা।

অনেক সময় এগুলোকে মজা বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়, কিন্তু সামনের মানুষটির ওপর এর মানসিক প্রভাব গুরুতর হতে পারে।

নিজের মতো থাকতে না পারা

সবচেয়ে নীরব কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হলো, সম্পর্কের মধ্যে নিজের স্বাভাবিক রূপ হারিয়ে ফেলা।

এ অবস্থায় কথা বলার আগে অতিরিক্ত ভাবতে হয়, নিজের মতামত লুকাতে হয় এবং ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে নিজেকে বদলাতে হয়।

এভাবে সম্পর্কের মধ্যে এক ধরনের মানসিক চাপ তৈরি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে। তাই সরাসরি কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আচরণগুলো সবসময় ইচ্ছাকৃত ক্ষতি বোঝায় না। তবে এগুলো উপেক্ষা করা হলে সম্পর্ক ধীরে ধীরে অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠতে পারে। একটি সুস্থ সম্পর্কের ভিত্তি হলো সম্মান, খোলামেলা যোগাযোগ, ব্যক্তিগত সীমার প্রতি শ্রদ্ধা এবং মানসিক নিরাপত্তা। এই উপাদানগুলো ঠিক থাকলেই সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল ও স্বাস্থ্যকর হয়।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা