logo

হঠাৎ ব্যায়াম করার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলছেন, কী বলছে গবেষণা

হঠাৎ ব্যায়াম করার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলছেন, কী বলছে গবেষণা
ছবি : সংগৃহীত

অনেকেই নিয়মিত ব্যায়াম শুরু করলেও কিছুদিন পরই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। কেউ সকালে উঠতে পারেন না, আবার কেউ সন্ধ্যায় ক্লান্ত হয়ে পড়েন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে বড় একটি কারণ হতে পারে শরীরের স্বাভাবিক জৈব ঘড়ি বা বডি ক্লক।

নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিজের শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ অনুযায়ী ব্যায়াম করলে তার উপকারিতা আরও বেশি পাওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ যারা সকালে বেশি সক্রিয় থাকেন, তাদের জন্য সকালের ব্যায়াম ভালো হতে পারে। আর যারা রাতে বেশি এনার্জি অনুভব করেন, তাদের জন্য সন্ধ্যা বা রাতের ব্যায়াম বেশি কার্যকর হতে পারে।

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে চিকিৎসাবিষয়ক জার্নাল অপেন হার্ট (Open Heart) - এ।

শরীরের জৈব ঘড়ির সঙ্গে ব্যায়ামের সম্পর্ক

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের শরীরে একটি স্বাভাবিক অভ্যন্তরীণ ঘড়ি কাজ করে। এটি ঠিক করে দেয় আপনার কখন ঘুম পাবে, কখন শরীর বেশি সক্রিয় থাকবে এবং কখন শক্তি কমে যাবে।

কেউ খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে সতেজ অনুভব করেন। আবার কেউ রাত পর্যন্ত কর্মক্ষম থাকেন। গবেষণায় এদের যথাক্রমে মর্নিং লার্ক এবং নাইট আউল বলা হয়েছে।

গবেষকদের মতে, এই স্বাভাবিক অভ্যাসের সঙ্গে মিল রেখে ব্যায়াম করলে শরীর তা আরও ভালোভাবে গ্রহণ করতে পারে।

গবেষণা কী জানাচ্ছে

গবেষণায় ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী ১৩৪ জন অংশ নেন। তাদের কারও উচ্চ রক্তচাপ ছিল, কেউ অতিরিক্ত ওজনের ছিলেন। অর্থাৎ সবারই হৃদরোগের অন্তত একটি ঝুঁকি ছিল।

অংশগ্রহণকারীদের তিন মাস ধরে সপ্তাহে পাঁচ দিন ট্রেডমিলে ৪০ মিনিট করে দ্রুত হাঁটার ব্যায়াম করানো হয়।

তাদের মধ্যে ৭০ জন ছিলেন সকালে ওঠা মানুষ ও ৬৪ জন ছিলেন রাত জাগা স্বভাবের। কিছু মানুষ তাদের স্বাভাবিক সময় অনুযায়ী ব্যায়াম করেন, কেউবা আবার নিজের নিয়মের উল্টো সময়ে ব্যায়াম করেন।

গবেষণায় দেখা যায়, সবাই কিছুটা উপকার পেলেও যারা নিজেদের বডি ক্লকের সঙ্গে মিল রেখে ব্যায়াম করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে ফল আরও ভালো ছিল।

কী কী উপকার মিলেছে

গবেষকদের মতে, সঠিক সময়ে ব্যায়াম করা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে- রক্তচাপ কমা, ঘুমের মান ভালো হওয়া, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে এসা, হৃদযন্ত্রের সক্ষমতা বাড়া এবং শরীরের শক্তি ও ফিটনেস উন্নত হতে দেখা গেছে।

নাইট আউলদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা স্বাভাবিকভাবে রাতে বেশি সক্রিয় থাকেন, তাদের জোর করে খুব সকালে ব্যায়াম করানো ঠিক নয়।

এতে শরীরের জৈব ঘড়ির সঙ্গে সামাজিক রুটিনের সংঘর্ষ তৈরি হয়, যাকে বলা হয় ‘সোশ্যাল জেটল্যাগ’। এটি দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

নিয়মিত ব্যায়ামই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ব্যায়ামের সময় গুরুত্বপূর্ণ হলেও সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়মিত শরীরচর্চা করা।

ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক মানুষ শুরুতেই খুব বড় লক্ষ্য ঠিক করেন। এতে কয়েকদিন পর ক্লান্তি বা হতাশা চলে আসে।

তাই ছোট ছোট লক্ষ্য নিয়ে শুরু করাই ভালো।

যেমন - প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটা, সপ্তাহে কয়েকদিন হালকা ব্যায়াম ও ধীরে ধীরে সময় বাড়ানো।

ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে স্ট্রেন্থ ট্রেনিং বা শক্তি বাড়ানোর ব্যায়ামের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। শুধু তরুণ নয়, বয়স্কদের মধ্যেও এই ধরনের ব্যায়ামের আগ্রহ বেড়েছে।

রক্তচাপ কমাতে যেসব ব্যায়াম উপকারী

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু আইসোমেট্রিক ব্যায়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

ওয়াল স্কোয়াট: এতে দেয়ালের সঙ্গে পিঠ লাগিয়ে বসার মতো অবস্থায় কিছুক্ষণ থাকতে হয়। এটি পায়ের পেশি শক্তিশালী করে।

প্ল্যাঙ্ক: পুশ-আপের মতো ভঙ্গিতে কিছুক্ষণ স্থির থাকতে হয়। এতে পেট, পিঠ, কাঁধ ও হাতের পেশি শক্তিশালী হয়।

সব মানুষের শরীর একভাবে কাজ করে না। তাই অন্য কারও রুটিন অনুসরণ না করে নিজের শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ বুঝে ব্যায়ামের সময় ঠিক করাই ভালো।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যে সময় শরীর সবচেয়ে বেশি সতেজ ও সক্রিয় থাকে, সেই সময় ব্যায়াম করলে তা নিয়মিত বজায় রাখা সহজ হয় এবং স্বাস্থ্য উপকারিতাও বেশি পাওয়া যেতে পারে।

সূত্র: বিবিসি