logo

সুখী ও সুন্দর জীবনের ১০ কার্যকরী উপায়

সুখী ও সুন্দর জীবনের ১০ কার্যকরী উপায়
ছবি: রিয়েল সিম্পল

প্রতিনিয়ত কাজের চাপ, পারিবারিক অশান্তি কিংবা মানসিক চাপের মধ্যে আমরা হাসিখুশি থাকতেই ভুলে যাই। সুখের সংজ্ঞা একেক মানুষের কাছে একেক রকম। আপনি যে কাজে সুখ খুঁজে পেতে পারেন, অন্যজন তাতে নাও পেতে পারে।

প্রতিদিন কীভাবে দিন শুরু করছি, কী কাজ করছি এবং আমাদের অভ্যাসও আমাদের জীবনকে সুন্দর করে তুলতে পারে। আপনার ছোট ছোট কিছু অভ্যাসই কিন্তু আপনার জীবনে বড় পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে।

চলুন দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস সম্পর্কে জেনে নিই, যা আমাদের মন ভালো রাখতে এবং জীবনকে আরও সুন্দর করে তুলতে বিশেষ ভূমিকা রাখে-

শরীরকে একটু সচল রাখুন বা ব্যায়াম করুন:

ব্যায়ামের কথা শুনলেই অনেকে ভাবেন জিমে গিয়ে ব্যায়াম করার কথা। এখানে কিন্তু কোনো ভারী ব্যায়ামকে বোঝানো হচ্ছে না। নিয়মিত হালকা হাঁটাহাঁটি, একটু স্ট্রেচিং বা ঘরের আশপাশে ১৫ থেকে ২০ মিনিট হেঁটে আসলেও আমাদের মস্তিষ্কে এমন কিছু হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মনকে ফুরফুরে করে দেয়। এটি মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা ও মন খারাপ দূর করতে বেশ ভালো কাজ করে।

তবে, শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ ফেলতে যাবেন না। নিজের সময়, সুযোগ ও সক্ষমতা অনুযায়ী হালকা ব্যায়াম শুরু করুন। কী ব্যায়াম করছেন তা মুখ্য নয়, শরীরকে সচল রাখাই এখানে মূল কথা।

পর্যাপ্ত ঘুমানো

রাত জেগে ফোন স্ক্রল করছেন, আবার অফিসে যাওয়ার জন্য খুব সকালে ঘুম থেকে উঠছেন। এদিকে ঘুম না হওয়ার কারণে সারাদিন ঝিমিয়ে কাটাচ্ছেন। কিন্তু একটু ভেবে দেখুন তো, ঠিকমতো ঘুম না হলে কি মন ভালো থাকে?

Untitled-1

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন রাতে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ঘুম আমাদের মস্তিষ্ককে শান্ত রাখে এবং শরীরে এনার্জি জোগায়। ঘুম ভালো হলে মনও ভালো থাকে।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার অভ্যাস করুন

আমরা সবসময় আমাদের জীবনে কী নেই বা জীবন থেকে কী হারিয়েছি, তা নিয়েই বেশি আফসোস করি। অথচ প্রতিদিন আমাদের জীবনে কত ছোট ছোট সুন্দর ঘটনা ঘটে। সকালে বেলকনিতে বসে আরাম করে এক কাপ চা খাওয়া, রাস্তাঘাটে কোনো অচেনা মানুষের মুখের হাসি, কিংবা পরিবারের মানুষগুলোর সঙ্গে একসাথে বসে আড্ডা দেওয়া- এই সবকিছুর জন্যই আমাদের কৃতজ্ঞ থাকা উচিৎ। জীবনে যা পেয়েছেন তা নিয়ে ইতিবাচক হয়ে স্রষ্টার কাছে একটু কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। এই অভ্যাস করলে দেখবেন জীবনটাকে অনেক বেশি সুন্দর মনে হচ্ছে।

সুন্দর করে ঘর গোছান

ঘর অগোছালো থাকলে মনের ভেতরও কেমন যেন একটা অস্বস্তি কাজ করে। ছুটির দিনে একটু সময় বের করে ড্রয়ার বা পড়ার টেবিলটা একটু গুছিয়ে ফেলুন। অপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলো সরিয়ে ফেলুন। ঘর পরিষ্কার আর গোছালো থাকলে মনে অদ্ভুত এক শান্তি লাগে। এতে করে বাসায় থাকার সময়টি আরো আনন্দদায়ক মনে হবে।

Untitled-1

সারা সপ্তাহের কাজের চাপের মাঝে নিজের মতো করে একটু সময় কাটানো বা ঘর সাজানোর মতো ছোট কাজগুলো আমাদের মানসিক শান্তি ফিরিয়ে আনে। তাই সপ্তাহের একটা দিন নিজের জন্য রাখুন।

প্রিয় মানুষদের সময় দিন:

অনেকেই একা থাকতে পছন্দ করেন। কিন্তু সবসময় একা একা ভালো থাকা যায় না। একা থাকলে মানুষ অনেক বেশি বিষণ্ণ হয়ে যায়।

কাজের ব্যস্ততায় হয়তো সবার সঙ্গে দেখা হয় না। কিন্তু সপ্তাহের একটা নির্দিষ্ট দিনে আপনার পছন্দের মানুষ বা খুব কাছের কোনো বন্ধুর সাথে একটু দেখা করুন, কফি শপে আড্ডা দিন। সম্পর্কের গভীরতা বাড়লে মনও অনেক ভালো থাকে।

প্রকৃতির কাছাকাছি যান

সপ্তাহে একদিন অন্তত একট সময় বের করে কোনো পার্ক, গাছপালায় ঘেরা জায়গা বা কোনো নদীর তীরে কাটিয়ে আসুন। খোলা আকাশ, সবুজ ঘাস আর নির্মল বাতাস আমাদের নার্ভাস সিস্টেমকে শান্ত করে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রকৃতির কাছাকাছি থাকলে মানুষের মন দ্রুত ভালো হয়ে যায় এবং মানসিক অবসাদ দূর হয়।

Untitled-1

সমাজের জন্য কিছু ভালো কাজ করুন

অন্যের মুখে হাসি ফোটালে নিজের মনেও অদ্ভুত এক শান্তি আসে। মাসে অন্তত একবার সাধ্যমতো কোনো অভাবী মানুষকে সাহায্য করতে পারেন। বন্ধু বা পরিবারের কাউকে ছোট কোনো উপহার দিতে পারেন। নিজেকে খুশি রাখতেই এই ছোটখাটো কাজগুলো করা উচিৎ। অন্যের জন্য ভালো কিছু করা আমাদের ভেতরের ভালো মানুষটাকে বাঁচিয়ে রাখে। আমরা ভেতর থেকেই অনেক সুখী অনুভব করি।

নিজের সাথে সময় কাটান

সব সময় অন্যের সাথেই ঘুরতে যেতে হবে এমন কোনো কথা নেই। মাঝে মাঝে শুধু নিজের জন্য একটু সময় বের করুন। আপনার পছন্দের রেস্তোরাঁয় গিয়ে নিজের পছন্দের খাবারটি খান, সিনেমা দেখতে যান, পছন্দের বই পড়ুন কিংবা একা একা একটু ঘুরে আসুন।

Untitled-1

একা কাটানো মুহূর্তগুলো আপনাকে নিজের সাথে আরও গভীরভাবে সংযুক্ত করতে সাহায্য করবে।

চিন্তার একটি তালিকা তৈরি করুন

কোনো কাজে যাওয়ার আগে হয়তো ১০ মিনিট সময় হাতে পেলেন। তখন ফোন স্ক্রল না করে নিজের মনের কথাগুলো ভাবুন। আপনি কী নিয়ে ভাবছেন বা সামনের দিনগুলোতে কী করতে চান, তা নিয়ে একটা ছোট নোট করে ফেলতে পারেন। আপনার জীবনের আনন্দময় স্মৃতিগুলো বা এমন কোনো ঘটনা, যার জন্য আপনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন- সেগুলো লিখে ফেলতে পারেন।

নিজের যত্ন নিন

শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য একে অপরের সাথে গভীরভাবে জড়িত। সুখে থাকার জন্য বিভিন্ন অভ্যাস গড়ে তোলার পাশাপাশি, নিজের শরীরের যত্ন নিন। স্বাস্থ্যকর খাবার খান, পরিপাটি থাকুন এবং নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করুন। এছাড়া শারীরিক সুস্থতার জন্য নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়গুলোও গুরুত্বের সাথে মেনে চলুন।

সবার সুখের সংজ্ঞা আলাদা। নিজের ভালো থাকার জন্য নিজের পছন্দ মতো কাজ করুন। জীবন একটাই, তাই নিজের যত্ন নিন এবং হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করুন।

সূত্র: হেলথলাইন