ফ্রিজে পানির বোতল রাখলেই কমবে বিদ্যুৎ বিল, জানুন সঠিক কৌশল

ফ্রিজ এমন একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র, যা দিনের পর দিন, বছরের পর বছর প্রায় একটানা চালু থাকে। তাই বাড়ির বিদ্যুৎ বিলের একটি অংশ ফ্রিজের পেছনেও যায়। বিশেষ করে পুরোনো বা ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ না করা ফ্রিজ তুলনামূলক বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারে।
তবে ফ্রিজের বিদ্যুৎ খরচ কিছুটা কমানোর জন্য সব সময় নতুন যন্ত্র কিনতে হবে এমন নয়। ব্যবহারের কয়েকটি ছোট অভ্যাসেও ফ্রিজকে তুলনামূলক দক্ষভাবে চালানো যায়। এর মধ্যে একটি সহজ কৌশল হলো ফ্রিজের খালি জায়গায় পানিভর্তি বোতল রাখা।
ফ্রিজে পানির বোতল রাখলে কী হয়?
ফ্রিজের ভেতর একেবারে খালি জায়গা বেশি থাকলে দরজা খোলার সময় বাইরের তুলনামূলক উষ্ণ বাতাস সহজেই ভেতরে ঢুকে পড়ে। এরপর সেই বাতাস ঠান্ডা করতে ফ্রিজের কম্প্রেসরকে আবার কাজ করতে হয়।
ফ্রিজের ভেতরে পানিভর্তি বোতল থাকলে ঠান্ডা পানির ভর তাপমাত্রা তুলনামূলক স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করতে পারে। বিশেষ করে ফ্রিজে অনেক খালি জায়গা থাকলে পানির বোতল দিয়ে কিছু জায়গা পূরণ করা যেতে পারে। একটি সরকারি এনার্জি গাইডেও খালি ফ্রিজের জায়গা পূরণ করতে পানির বোতল ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে কয়েকটি পানির বোতল রাখলেই বিদ্যুৎ বিল নাটকীয়ভাবে কমে যাবে। ফ্রিজের বিদ্যুৎ খরচ নির্ভর করে যন্ত্রের বয়স, মডেল, তাপমাত্রা, দরজা খোলার অভ্যাস, দরজার রাবার সিল এবং আশপাশের তাপমাত্রাসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর।
কীভাবে পানির বোতল রাখবেন?
ফ্রিজে পানির বোতল রাখার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি।
প্রথমে পরিষ্কার ও ভালোভাবে বন্ধ করা যায় এমন বোতলে পানি ভরুন। বোতলগুলো ফ্রিজের এমন জায়গায় রাখুন, যাতে ঠান্ডা বাতাস চলাচলে বাধা না পায়।
একসঙ্গে অতিরিক্ত বোতল ঢুকিয়ে ফ্রিজ ঠাসা করে ফেলবেন না। ফ্রিজের ভেতরে ঠান্ডা বাতাস চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা থাকা দরকার।
আর পানির বোতল একেবারে কানায় কানায় পূর্ণ করে জমিয়ে রাখবেন না। পানি বরফ হলে আয়তন বাড়ে। ফলে বোতল ফুলে যেতে বা ফেটে যেতে পারে।
ফ্রিজের বিদ্যুৎ খরচ কমাতে আরও যা করবেন
শুধু পানির বোতল রাখার ওপর নির্ভর না করে কয়েকটি অভ্যাস মেনে চললে ফ্রিজ তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারে।
অযথা ফ্রিজের দরজা খুলবেন না
বারবার দরজা খুললে বাইরের উষ্ণ বাতাস ভেতরে ঢোকে। এতে নির্ধারিত তাপমাত্রা ধরে রাখতে ফ্রিজকে বেশি কাজ করতে হয়। তাই কী নিতে হবে আগে ঠিক করে তারপর দরজা খোলাই ভালো। ফ্রিজের দরজা যত কম সময়ের জন্য সম্ভব খুলবেন।
ফ্রিজের চারপাশে জায়গা রাখুন
ফ্রিজকে দেয়ালের সঙ্গে একেবারে ঠেস দিয়ে রাখবেন না। পেছনে ও আশপাশে বাতাস চলাচলের সুযোগ থাকলে তাপ বের হতে সুবিধা হয়। প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী দেয়াল থেকে প্রয়োজনীয় দূরত্ব রাখা ফ্রিজের দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
অতিরিক্ত গরম খাবার সরাসরি রাখবেন না
চুলা থেকে নামানো খুব গরম খাবার সরাসরি ফ্রিজে রাখলে ভেতরের তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে। খাবার কিছুটা ঠান্ডা হওয়ার পর সংরক্ষণ করা ভালো। তবে নিরাপত্তার জন্য রান্না করা খাবার দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় রেখে দেওয়া উচিত নয়।
দরজার রাবার সিল পরীক্ষা করুন
ফ্রিজের দরজার রাবার সিল ঢিলা বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে যেতে পারে। তখন কাঙ্ক্ষিত তাপমাত্রা ধরে রাখতে ফ্রিজকে বেশি সময় কাজ করতে হতে পারে। তাই সিল ঠিকমতো আটকে আছে কি না নিয়মিত পরীক্ষা করুন।
তাপমাত্রা অপ্রয়োজনে খুব কম রাখবেন না
ফ্রিজকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ঠান্ডা করে রাখলে বিদ্যুৎ খরচ বাড়তে পারে। মার্কিন জ্বালানি বিভাগের নির্দেশনায় সাধারণ রেফ্রিজারেটরের জন্য প্রায় ৩৬ থেকে ৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট, অর্থাৎ প্রায় ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে আপনার ফ্রিজের প্রস্তুতকারকের নির্দেশনাই অনুসরণ করা উচিত।
পুরোনো ফ্রিজের কনডেনসার পরিষ্কার রাখুন
পুরোনো মডেলের কিছু ফ্রিজে পেছনে বা নিচে কনডেনসার কয়েল থাকে। সেখানে ধুলো জমলে তাপ বের হওয়ার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ফলে ফ্রিজকে বেশি পরিশ্রম করতে হতে পারে। পরিষ্কার করার আগে অবশ্যই প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা দেখুন এবং প্রয়োজন হলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন। এছাড়াও পুরোনো মডেলের ফ্রিজের ক্ষেত্রে কয়েল পরিষ্কার রাখা জরুরি।
শুধু পানির বোতল নয়, ফ্রিজের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ
ফ্রিজ কোথায় রাখা হচ্ছে, সেটিও বিদ্যুৎ খরচে প্রভাব ফেলতে পারে। চুলা, ওভেন বা সরাসরি রোদ পড়ে এমন জায়গার পাশে ফ্রিজ রাখলে বাইরের তাপের কারণে যন্ত্রটিকে বেশি কাজ করতে হতে পারে। তাই তুলনামূলক ঠান্ডা ও বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় ফ্রিজ রাখা ভালো।
পানির বোতলের কৌশল কতটা কার্যকর?
পানিভর্তি বোতল ফ্রিজের খালি জায়গা পূরণ করে ঠান্ডা ধরে রাখতে কিছুটা সাহায্য করতে পারে। তবে এটিকে বিদ্যুৎ বিল কমানোর কোনো নিশ্চিত বা বড় ধরনের উপায় হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
ফ্রিজের মোট বিদ্যুৎ খরচে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলতে পারে যন্ত্রের দক্ষতা, বয়স, আকার, দরজার সিল, তাপমাত্রা সেটিং এবং ব্যবহারের ধরন। ভালো মডেলের ফ্রিজ সাধারণ মডেলের তুলনায় কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারে।
তাই খালি ফ্রিজে পানির বোতল রাখা যেতে পারে একটি সহজ অভ্যাস হিসেবে। কিন্তু বিদ্যুৎ বিল কমানোর জন্য এর পাশাপাশি দরজা কম খোলা, সঠিক তাপমাত্রা রাখা, দরজার সিল ঠিক রাখা এবং ফ্রিজের চারপাশে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করাও জরুরি।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সেপ্রেস
