আর ৫ দিন পর কোরবানি ঈদ, নেবেন যেসব প্রস্তুতি

কোরবানি ঈদ শুধু ধর্মীয় উৎসবই নয়, এটি পরিবার, আত্মীয়স্বজন আর প্রতিবেশীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগিরও একটি বিশেষ সময়। ঈদের কয়েক দিন আগে থেকেই শুরু হয় নানা প্রস্তুতি। ঘর গোছানো থেকে শুরু করে রান্নাঘরের ব্যবস্থা, মসলাপাতি কেনা, কোরবানির সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা কিংবা অতিথি আপ্যায়নের পরিকল্পনা সবকিছুই একটু আগে থেকে গুছিয়ে নিলে ঈদের দিন ঝামেলা অনেকটাই কমে যায়।
আর মাত্র ৫ দিন বাকি। তাই এখনই সময় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিগুলো সেরে নেওয়ার। এতে ঈদের দিন আপনি থাকবেন অনেকটা নিশ্চিন্ত ও স্বস্তিতে।
ঘরবাড়ি পরিপাটি করার প্রস্তুতি
ঈদের সময় সারাদিন বাসাজুড়ে ছোটাছুটি লেগেই থকে। বাড়িতে আত্মীয়স্বজন ও অতিথিদের আনাগোনাও বেড়ে যায়। তাই আগে থেকেই ঘরবাড়ি পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো।
ড্রইংরুম, বারান্দা ও অতিথি বসার জায়গা আগেই পরিষ্কার করুন। পর্দা, বিছানার চাদর ও কুশন কভার ধুয়ে ফেলুন, ফ্রিজ ও ডিপ ফ্রিজ পরিষ্কার করে জায়গা খালি করুন, কারণ কোরবানির মাংস সংরক্ষণ করতে হবে। এ ছাড়া ময়লা ফেলার জন্য অতিরিক্ত ডাস্টবিন বা বড় পলিথিন ব্যাগ প্রস্তুত রাখুন। আর অবশ্যই পানির ব্যবস্থা ঠিক আছে কি না, দেখে নিন।
যাদের বাসায় ছোট বাচ্চা আছে, তারা বাড়তি সতর্কতা হিসেবে মেঝে পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখতে পারেন।
রান্নাঘরের প্রস্তুতি
কোরবানির ঈদ মানেই নানা ধরনের মাংসের রান্না। তাই রান্নাঘরের কাজ আগে থেকেই গুছিয়ে নেওয়া জরুরি।
হাঁড়ি, পাতিল, কড়াই ও ছুরি ভালোভাবে পরিষ্কার করুন এবং মাংস কাটার জন্য আলাদা বোর্ড ও ধারালো ছুরি রাখুন। প্রয়োজন হলে বড় ডেকচি বা অতিরিক্ত রান্নার পাত্র ধার করুন বা কিনে রাখুন।
মনে করে ফ্রিজে বরফ জমিয়ে রাখুন। এ ছাড়া রান্নার গ্যাস ঠিক আছে কি না দেখে নিন। পাশাপাশি একবার ব্যবহারযোগ্য গ্লাভস, টিস্যু ও কিচেন টাওয়েল কিনে রাখুন।
অনেকেই ঈদের দিন সকালে রান্না নিয়ে হিমশিম খান। তাই আগে থেকেই পেঁয়াজ কেটে রাখা, আদা-রসুন বেটে রাখা কিংবা পেস্ট তৈরি করে ফ্রিজে রাখলে এদিন সময় বাঁচবে।
পশু কোরবানির প্রস্তুতি
কোরবানির মূল আয়োজনটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্নভাবে সম্পন্ন করার জন্য আগে থেকেই কিছু বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন।
পশু রাখার জায়গা পরিষ্কার ও নিরাপদ রাখুন। দড়ি, বালতি, পানি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও প্রস্তুত রাখুন। কোরবানির জন্য দক্ষ কসাই আগে থেকেই ঠিক করে রাখতে ভুলবেন না।
ধারালো ছুরি ও চাপাতি প্রস্তুত করুন এবং মাংস ভাগ করার জন্য পলিথিন, ট্রে বা বড় গামলা রাখুন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য ব্লিচিং পাউডার বা জীবাণুনাশক রাখতে ভুলবেন না যেন।
মনে রাখবেন, কোরবানির পর বর্জ্য দ্রুত পরিষ্কার করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এতে দুর্গন্ধ কম হয় এবং পরিবেশও পরিষ্কার থাকে।
মসলাপাতির প্রস্তুতি
ঈদের রান্নায় মসলার ব্যবহার অনেক বেশি হয়। শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়াতে এখনই প্রয়োজনীয় মসলাপাতি কিনে রাখা ভালো।
পেঁয়াজ, রসুন, আদা, মরিচ, জিরা, ধনে, গরম মসলা, দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ, তেল ও ঘির মতো প্রয়োজনীয় মসলা আগে থেকেই কিনে রাখতে পারেন।
চাইলে কিছু মসলা ভেজে গুঁড়া করে এয়ারটাইট বয়ামে রেখে দিতে পারেন। এতে রান্নার স্বাদও বাড়বে, সময়ও বাঁচবে।
দাওয়াতের প্রস্তুতি
ঈদের আনন্দ অনেকটাই বাড়ে প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর মাধ্যমে। তাই অতিথি আপ্যায়নের ছোটখাটো প্রস্তুতিও আগে থেকে নিয়ে রাখা ভালো।
কাদের দাওয়াত দেবেন তার একটি তালিকা করুন আগে থেকেই। অতিথির সংখ্যা অনুযায়ী খাবারের পরিকল্পনা করুন এবং শরবত, সেমাই, মিষ্টি বা নাশতার উপকরণ কিনে রাখুন।
এ ছাড়া বাড়িতে পর্যাপ্ত প্লেট, গ্লাস ও টিস্যু আছে কি না দেখে নিন এবং শিশু ও বয়স্ক অতিথিদের জন্য আলাদা সুবিধার কথা ভাবুন। যদি বাসায় বেশি অতিথি আসে, তাহলে রান্নার কিছু অংশ আগের দিন প্রস্তুত করে রাখতে পারেন।
কোরবানি ঈদের আনন্দ অনেকটাই নির্ভর করে সঠিক প্রস্তুতির ওপর। শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়া এড়াতে এখন থেকেই ছোট ছোট কাজ গুছিয়ে ফেলুন। ঘর পরিষ্কার রাখা, রান্নাঘর প্রস্তুত করা, কোরবানির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ঠিক রাখা এবং অতিথি আপ্যায়নের পরিকল্পনা আগে থেকে করলে ঈদের দিনটি হবে আরও স্বস্তিদায়ক ও আনন্দময়।
আগে থেকেই সঠিক প্রস্তুতি নিয়ে পরিবারের সবার সঙ্গে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদভাবে কোরবানি ঈদ উদযাপন করুন।
