logo

বডি মিস্ট, ডিওডোরেন্ট নাকি পারফিউম, ঘামের গন্ধ দূর করতে কোনটি বেছে নেবেন?

বডি মিস্ট, ডিওডোরেন্ট নাকি পারফিউম, ঘামের গন্ধ দূর করতে কোনটি বেছে নেবেন?
ছবি: ইটিভি ভারত।

সকালবেলা বাসা থেকে বেরোনোর সময় খুব শখ করে দামি পারফিউম স্প্রে করলেন। কিন্তু লোকাল বাসে ভিড় ঠেলে কিংবা একটু হেঁটে অফিসে পৌঁছাতেই দেখা গেল সব সুগন্ধ একবারে গায়েব। উল্টে ঘামের দুর্গন্ধে নিজেই অস্বস্তিতে পড়ে যান।

এমন অভিজ্ঞতা কিন্তু কমবেশি আমাদের সবার জীবনেই ঘটে। আর এই অভিজ্ঞতা হওয়ার পর আমরা সাধারণত সুগন্ধির ব্র্যান্ড বা তার গুণমান নিয়ে নানা অভিযোগ করতে শুরু করি। এখানে কিন্তু দোষটা সুগন্ধির নয়।

আমরা অনেকেই মনে করি বডি মিস্ট, ডিওডোরেন্ট আর পারফিউম—এই তিনটি তো একই ধরনের জিনিস, শুধু নামগুলোই আলাদা। কিন্তু সত্যি বলতে, এই ভুল ধারণার কারণেই আমরা প্রতিনিয়তই অস্বস্তিতে পড়ি। ঘাম আটকানোর জন্য বা ঘামের গন্ধ দূর করার জন্য যা ব্যবহার করা দরকার, তার জায়গায় হয়তো আমরা এমন কিছু ব্যবহার করছি যা শুধু সাময়িকভাবে সুবাস ছড়ায়। দুর্গন্ধ তৈরি হওয়ার মূল কারণটাই দূর করতে পারে না।

এই তিনটির আসল পার্থক্য এবং কখন কোনটা ব্যবহার করা উচিত চলুন জেনে নেওয়া যাক-

ডিওডোরেন্ট

যারা প্রতিদিন পড়ালেখা বা চাকরির প্রয়োজনে বাইরে বের হন, লোকাল বাস বা ভিড়ের মধ্য দিয়ে যাতায়াত করেন, তাদের জন্য একদম প্রথম পছন্দ হওয়া উচিত ‘ডিওডোরেন্ট’।

ঘামের গন্ধ একেবারে দূর করতে ব্যবহার করুন ডিওডোরেন্ট।  ছবি: থট সিও
ঘামের গন্ধ একেবারে দূর করতে ব্যবহার করুন ডিওডোরেন্ট। ছবি: থট সিও

আমরা অনেকেই মনে করি ঘাম থেকেই হয়তো দুর্গন্ধ ছড়ায়। কিন্তু বিজ্ঞানের মতে ঘামের আসলে নিজস্ব কোনো গন্ধই নেই। আমাদের ত্বকে কিছু ব্যাকটেরিয়া থাকে। আমরা যখন ঘেমে যাই, তখন ওই ব্যাকটেরিয়াগুলো ঘামের সঙ্গে মিশে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটায় এবং তা থেকেই বিশ্রী গন্ধের সৃষ্টি হয়।

ডিওডোরেন্ট কীভাবে কাজ করে

ডিওডোরেন্টের প্রধান কাজ হলো এই ব্যাকটেরিয়াগুলোকে ধ্বংস করা। এর মধ্যে বিশেষ অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান এবং অ্যালুমিনিয়াম সল্ট থাকে। এই উপাদানগুলো দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। এতে সুগন্ধি তেলের পরিমাণ অনেক কম থাকে। তাই প্রতিদিনের কাজে সুবাস ছড়ানোর চেয়ে দুর্গন্ধ দূর করে দীর্ঘক্ষণ সতেজ থাকতে চাইলে ডিওডোরেন্টই আপনার একমাত্র সঠিক সঙ্গী। ডিওডোরেন্ট গোসলের পরে শুকনো শরীরে সরাসরি ত্বকে, বিশেষ করে বগলে লাগাতে হয়। তাহলে এর কার্যকারিতা থাকে ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত।

পারফিউম

যে কোনো বিয়েবাড়ি, পার্টি, কর্পোরেট মিটিং বা বিশেষ কোনো দাওয়াতে নিজেকে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারফিউমের কোনো বিকল্প নেই। পারফিউমে সুগন্ধি অ্যাসেনশিয়াল অয়েলের ঘনত্ব থাকে সবচেয়ে বেশি- প্রায় ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ বা তারও বেশি। যার কারণে এর গন্ধ হয় ভীষণ কড়া, তীব্র এবং এটি অনেক দীর্ঘ সময় পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

ছবি: আজকাল
ছবি: আজকাল

পারফিউমের কাজ কিন্তু ঘামের দুর্গন্ধ দূর করা নয়। এটি কেবল তার নিজের তীব্র সুবাস দিয়ে চারপাশের পরিবেশকে মাতিয়ে রাখে। এখন আপনি যদি প্রচণ্ড ঘেমে যান এবং সেই ঘামের ওপর কড়া পারফিউম স্প্রে করেন, তবে ঘামের দুর্গন্ধ আর পারফিউমের সুবাস মিলেমিশে আরও বাজে গন্ধের সৃষ্টি হতে পারে। তাই অতিরিক্ত ঘামার সম্ভাবনা থাকলে শুধু পারফিউম স্প্রে করা কিন্তু মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

বডি মিস্ট

বডি মিস্ট হল তিনটির মধ্যে সবচেয়ে হালকা এবং স্নিগ্ধ। অনেকেরই কড়া পারফিউম বা ডিওডোরেন্টের ঝাঁঝালো গন্ধে মাথাব্যথা করে বা অস্বস্তি হয়। তাদের জন্য সবচেয়ে ভালো হলো ‘বডি মিস্ট’।

বডি মিস্ট তৈরি হয় মূলত পানি এবং সামান্য অ্যালকোহলের মিশ্রণে। এতে সুগন্ধি তেলের পরিমাণ থাকে মাত্র ৩ শতাংশের মতো। ফলে এর সুবাস অনেক স্নিগ্ধ ও মিষ্টি প্রকৃতির হয়। এর গন্ধ বড়জোর এক থেকে দু ঘণ্টা থাকে। এটি ত্বককে একটা ইনস্ট্যান্ট ফ্রেশ এবং ঠান্ডা অনুভূতি দেয়। গোসল সেরে ওঠার পর যেমন একটা ফ্রেশ অনুভূতি হয়, ঠিক তেমন।

যারা হালকা ও স্নিগ্ধ সুবাস চান,তাদের জন্য বডি মিস্ট।  ছবি: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।
যারা হালকা ও স্নিগ্ধ সুবাস চান,তাদের জন্য বডি মিস্ট। ছবি: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।

ছুটির দিনে বাসায় থাকার সময়, বিকেলে হাঁটতে যাওয়ার জন্য, কিংবা গোসল সেরে এসে শরীর রিফ্রেশ করার জন্য বডি মিস্ট একদম আদর্শ। এর গন্ধ খুব বেশি সময় স্থায়ী হয় না বলে দিনে দুই-তিনবার স্প্রে করে নেওয়া যায়। এটি ত্বকের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ।

তাহলে আপনার জন্য কোনটি সেরা?

এর উত্তরটা আপনার কাছেই। যদি আপনার ঘামের দুর্গন্ধ নিয়ে লজ্জায় পড়তে হয়, তাহলে চোখ বন্ধ করে ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করুন। এটাই আপনার সমস্যার আসল সমাধান করবে। আর যদি আপনি চান সারাদিন আপনাকে ঘিরে থাকুক একটা স্নিগ্ধ সুন্দর গন্ধ, তাহলে একটি ভালো কম্বো ট্রাই করতে পারেন। গোসলের পর পরিষ্কার শরীরে প্রথমে ডিওডোরেন্ট লাগিয়ে ঘামের গন্ধ আটকান, তারপর আপনার পছন্দের পারফিউম জামার ওপর স্প্রে করুন। আর যারা হালকা কিছু পছন্দ করেন, তাদের জন্য বডি মিস্ট তো রইলই।

স্থান-কাল-পাত্র বুঝে সঠিক সুগন্ধি বেছে নিলে আর কখনও ঘামের গন্ধে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হবে না।

সূত্র: টিভি ৯ বাংলা, বাংলা এশিয়ান নেট নিউজ