ইংরেজিতে সাবলীল কথা বলার জন্য ১২ সহজ অভ্যাস

ইংরেজি বুঝতে পারেন, পড়তেও পারেন, কিন্তু কথা বলতে গেলেই আটকে যান? মনে হয়, কথাটি বাংলায় খুব সহজে বলা যায়, অথচ ইংরেজিতে বলতে গেলে সঠিক শব্দ খুঁজে পাচ্ছেন না? এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়।
ইংরেজিতে ভালোভাবে কথা বলার জন্য শুধু ব্যাকরণের নিয়ম মুখস্থ করলেই হয় না। নিয়মিত শোনা, পড়া, বলা এবং ভুল করার ভয় কাটানোও জরুরি। ভাষা শেখার ক্ষেত্রে প্রতিদিন অল্প অল্প করে অনুশীলন করা অনেক সময় একদিনে দীর্ঘ সময় পড়ার চেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারে।
ভাষা শেখার প্রতিষ্ঠান ‘লার্নশিপ’ ইংরেজিতে সাবলীল হওয়ার জন্য ১২টি সহজ অভ্যাসের কথা বলেছে। এসব পরামর্শের অনেকগুলোই ঘরে বসে নিজের মতো করে অনুসরণ করা সম্ভব।
আগে ভয়টা কাটান
ইংরেজিতে কথা বলতে গিয়ে ভুল হয়ে যাবে, এই ভয়টাই অনেকের সবচেয়ে বড় বাধা।
অনেকে একটি বাক্য বলার আগে মনে মনে কয়েকবার সেটি ঠিক করে নেন। ব্যাকরণ ঠিক আছে কি না, উচ্চারণ ঠিক হচ্ছে কি না, অন্যজন হাসবে কি না, এসব ভাবতে ভাবতেই কথা বলার সুযোগ চলে যায়।
কিন্তু ভাষা শেখার ক্ষেত্রে ভুল হওয়া স্বাভাবিক। এমনকি ইংরেজি যাদের মাতৃভাষা, তারাও সব সময় নিখুঁতভাবে কথা বলেন না। তাই শুরুতেই নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা না করে নিজের কথা বোঝাতে পারার দিকে মন দেওয়া বেশি জরুরি।
প্রথম দিকে ভুল হবে। কোনো শব্দ ভুল উচ্চারণ হতে পারে, বাক্যে ব্যাকরণের ভুলও থাকতে পারে। কিন্তু নিয়মিত বললে সেই ভুলগুলো ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে।
প্রতিদিন একটু ইংরেজি শুনুন
ইংরেজিতে কথা বলার দক্ষতা বাড়াতে শোনার অভ্যাস খুব গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিদিন কিছুটা সময় ইংরেজি সংবাদ, পডকাস্ট, সাক্ষাৎকার, গল্প বা অন্য কোনো অনুষ্ঠান শুনতে পারেন। শুরুতেই সব কথা বোঝার চেষ্টা করতে হবে না।
বরং প্রথমে খেয়াল করুন, মানুষ কীভাবে বাক্য বলছে। কোন শব্দের পর কোন শব্দ ব্যবহার করছে, কোথায় থামছে, কীভাবে প্রশ্ন করছে বা উত্তর দিচ্ছে।
এভাবে নিয়মিত শুনতে থাকলে ইংরেজি বাক্যের স্বাভাবিক গতি ও উচ্চারণের সঙ্গে কান ধীরে ধীরে পরিচিত হয়ে উঠবে। ব্রিটিশ কাউন্সিলও ইংরেজি শেখার ক্ষেত্রে সক্রিয়ভাবে শোনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
নিজের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে ইংরেজিকে যুক্ত করুন
শুধু বই খুলে বসে ইংরেজি শেখার চেষ্টা করলে অনেক সময় শেখাটা একঘেয়ে মনে হতে পারে।
এর বদলে প্রতিদিনের কাজের সঙ্গে ইংরেজিকে যুক্ত করুন।
যেমন সকালে ঘুম থেকে উঠে মনে মনে দিনের কাজগুলো ইংরেজিতে বলার চেষ্টা করতে পারেন। বাজারের তালিকা ইংরেজিতে লিখতে পারেন। নিজের দিন কেমন গেল, তা কয়েকটি বাক্যে ইংরেজিতে লিখতে পারেন।
দিনলিপিতে প্রতিদিন দুই-তিনটি বাক্য লিখলেও উপকার হতে পারে। লার্নশিপও দৈনন্দিন জীবনে ইংরেজি ব্যবহারের এমন ছোট ছোট অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছে।
নিজের পছন্দের বিষয় নিয়ে ইংরেজি পড়ুন
ইংরেজি শেখার জন্য সব সময় কঠিন বই পড়তে হবে, এমন নয়।
আপনি যদি রান্না পছন্দ করেন, রান্নার বিষয়ক ইংরেজি লেখা পড়ুন। ভ্রমণ ভালো লাগলে ভ্রমণের লেখা পড়ুন। খেলাধুলা, সিনেমা, গান, বাগান করা, প্রযুক্তি, ইতিহাস বা ছবি তোলা, যে বিষয়টি ভালো লাগে সেটি নিয়েই ইংরেজিতে পড়াশোনা শুরু করুন।
তাহলে শেখার সময় আলাদা করে পড়তে হচ্ছে বলে মনে হবে না। নিজের পছন্দের বিষয় জানার পাশাপাশি নতুন শব্দ ও বাক্যও শেখা হবে।
প্রতিটি নতুন শব্দের অর্থ খুঁজবেন না
ইংরেজিতে কিছু পড়ার সময় অপরিচিত শব্দ দেখলেই অভিধান খুলে বসার দরকার নেই।
একটি বাক্যের মধ্যে কোনো শব্দের অর্থ পুরোপুরি না বুঝলেও আশপাশের শব্দ দেখে তার অর্থ আন্দাজ করার চেষ্টা করুন।
ধরুন, একটি বাক্যে এমন একটি শব্দ আছে যার অর্থ আপনি জানেন না। কিন্তু পুরো বাক্যটি পড়ে যদি মোটামুটি বোঝা যায় যে সেখানে কী বলা হয়েছে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে থেমে না গিয়ে পড়া চালিয়ে যেতে পারেন।
অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ বা বারবার ব্যবহৃত শব্দের অর্থ পরে জেনে নেওয়া ভালো। তবে প্রতিটি শব্দের জন্য বারবার থেমে গেলে পড়ার স্বাভাবিক গতি নষ্ট হতে পারে।
শুধু শব্দ নয়, পুরো বাক্য শিখুন
ইংরেজি শেখার সময় অনেকেই আলাদা আলাদা শব্দ মুখস্থ করেন। কিন্তু একটি শব্দ জানলেই সেটি বাক্যে কীভাবে ব্যবহার করতে হয়, তা সব সময় জানা যায় না।
তাই নতুন শব্দ শেখার সময় সেই শব্দ দিয়ে একটি পূর্ণ বাক্যও লিখে রাখুন।
যেমন একটি নতুন শব্দ শেখার পর শুধু তার বাংলা অর্থ মনে রাখবেন না। শব্দটি কোন ধরনের বাক্যে ব্যবহার হয়েছে, সেটিও মনে রাখুন।
এতে পরবর্তী সময়ে কথা বলার সময় শব্দটি মনে করা এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করা সহজ হবে। লার্নশিপও নতুন শব্দের সঙ্গে সেটি যে বাক্য বা পরিস্থিতিতে পাওয়া গেছে, সেই প্রসঙ্গ লিখে রাখার পরামর্শ দিয়েছে।
প্রতিদিন জোরে জোরে বলার অভ্যাস করুন
ইংরেজি বলতে হলে ইংরেজি বলতেই হবে।
মনে মনে ইংরেজি বাক্য তৈরি করার অভ্যাস কিছুটা কাজে লাগলেও মুখে বলার অনুশীলনের বিকল্প নেই।
প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিনিট নিজের সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলতে পারেন। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দিনের কোনো ঘটনা বর্ণনা করুন। আজ কী করেছেন, কোথায় গেছেন, কী খেয়েছেন, আগামীকাল কী করবেন, এসব নিয়ে সহজ বাক্যে বলুন।
শুরুতে অস্বস্তি লাগতে পারে। কিন্তু কয়েকদিন পর নিজের কথার গতি ও আত্মবিশ্বাসের পরিবর্তন বুঝতে পারবেন।
নিজের কথা রেকর্ড করুন
নিজের ইংরেজি বলার দক্ষতা বোঝার জন্য নিজের কথা রেকর্ড করা বেশ কার্যকর একটি পদ্ধতি।
একটি বিষয় বেছে নিয়ে এক থেকে দুই মিনিট ইংরেজিতে কথা বলুন। পরে সেটি শুনুন।
কোথায় বেশি থেমেছেন, কোন শব্দ বারবার ব্যবহার করেছেন, কোন শব্দের উচ্চারণে সমস্যা হচ্ছে, সেগুলো খেয়াল করুন।
পরের দিন একই বিষয় আবার বলুন। এভাবে কয়েক সপ্তাহ চালিয়ে গেলে নিজের উন্নতি নিজেই বুঝতে পারবেন।
অন্যদের সঙ্গে কথা বলুন
ইংরেজি শেখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি হলো অন্য মানুষের সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলা।
বন্ধু, সহকর্মী বা পরিবারের এমন কারও সঙ্গে নিয়মিত ইংরেজিতে কথা বলতে পারেন, যিনি অনুশীলন করতে আগ্রহী।
দুজন মিলে প্রতিদিন ১৫ মিনিট শুধু ইংরেজিতে কথা বলার নিয়ম করতে পারেন।
একজন আরেকজনের ভুল ধরিয়ে দিতে পারেন। তবে ভুল ধরানোর সময় যেন কেউ অস্বস্তিতে না পড়েন, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
কথা বলার মানুষ না থাকলেও অনুশীলন সম্ভব
অনেকের সমস্যা হলো, ইংরেজিতে কথা বলার মতো কাউকে তাঁরা পান না।
এ ক্ষেত্রে নিজের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি কোনো বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে নিজেই তার উত্তর দিতে পারেন। যেমন:
- আজকের দিন কেমন গেল?
- ছুটির দিনে কী করতে ভালো লাগে?
- কোন জায়গায় ভ্রমণ করতে চান?
- আপনার প্রিয় খাবার কী?
- কাজের জায়গায় কোন বিষয়টি সবচেয়ে কঠিন?
প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দুই থেকে তিন মিনিট ইংরেজিতে বলার চেষ্টা করুন।
এতে বাস্তব কথোপকথনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি তৈরি হবে।
ইংরেজি খবর ও লেখা পড়ুন
প্রতিদিন কিছুটা সময় ইংরেজিতে সংবাদ, গল্প, নিবন্ধ বা বই পড়তে পারেন।
শুরুতে শিশুদের জন্য লেখা গল্প বা সহজ ভাষার লেখা বেছে নেওয়া ভালো। ধীরে ধীরে কঠিন লেখা পড়ার দিকে যেতে পারেন।
লার্নশিপের পরামর্শ অনুযায়ী, ইন্টারনেট ব্যবহারের সময়ও ইংরেজি শেখার সুযোগ তৈরি করা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইংরেজি লেখা পড়া, পডকাস্ট শোনা কিংবা অনলাইন সংবাদ পড়ার অভ্যাস করা যেতে পারে।
অন্য সংস্কৃতি সম্পর্কে জানুন
ভাষা শুধু কিছু শব্দ ও ব্যাকরণের সমষ্টি নয়। এর সঙ্গে একটি দেশের সংস্কৃতি, ইতিহাস, জীবনযাপন ও মানুষের চিন্তাভাবনাও জড়িয়ে থাকে।
ইংরেজি শেখার সময় বিভিন্ন দেশের খাবার, উৎসব, ইতিহাস, মানুষের জীবনযাপন বা সংস্কৃতি সম্পর্কে পড়লে ভাষাটি শেখার আগ্রহও বাড়তে পারে।
এতে শুধু ভাষার দক্ষতাই বাড়বে না, ইংরেজিতে লেখা বিভিন্ন বিষয় বোঝার ক্ষমতাও বাড়বে।
ছোট লক্ষ্য ঠিক করুন
অনেকে ইংরেজি শেখার শুরুতেই বলেন, এক মাসের মধ্যে সাবলীলভাবে কথা বলবেন। পরে সেই লক্ষ্য পূরণ না হলে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন।
- এর বদলে ছোট লক্ষ্য ঠিক করুন।
- আজ ১৫ মিনিট ইংরেজি শুনব।
- আজ ১০টি নতুন শব্দ শিখব।
- আজ পাঁচটি বাক্য ইংরেজিতে বলব।
- আজ একটি ছোট লেখা পড়ব।
এ ধরনের ছোট লক্ষ্য নিয়মিত পূরণ করা সহজ। লার্নশিপের মতে, সপ্তাহে একদিন দীর্ঘ সময় শেখার বদলে প্রতিদিন অল্প সময় অনুশীলন করা বেশি বাস্তবসম্মত হতে পারে।
একদিনে অনেক নয়, প্রতিদিন অল্প
ইংরেজি শেখার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
একদিন দুই ঘণ্টা পড়াশোনা করে পরের ছয় দিন কিছু না করার চেয়ে প্রতিদিন ১৫ মিনিট অনুশীলন করা অনেক বেশি সহজে অভ্যাসে পরিণত হতে পারে।
প্রতিদিনের এই ছোট ছোট অনুশীলনই কয়েক মাস পরে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
একটি সহজ দৈনিক পরিকল্পনা হতে পারে-
৫ মিনিট: নতুন শব্দ শেখা
৫ মিনিট: ইংরেজি শোনা
১০ মিনিট: ইংরেজিতে কথা বলা
৫ মিনিট: ইংরেজিতে কিছু পড়া বা লেখা
মোট ২৫ মিনিট। ব্যস্ততার মধ্যেও এই সময় বের করা অনেকের পক্ষে সম্ভব।
ভুল করলে থেমে যাবেন না
ইংরেজি বলতে গিয়ে ভুল হলে অনেকেই সঙ্গে সঙ্গে বাংলায় ফিরে যান। এতে কথা বলার স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট হয়।
কোনো শব্দ মনে না পড়লে সহজ অন্য শব্দ ব্যবহার করুন। বাক্য পুরোপুরি ঠিক মনে না হলে যতটা সম্ভব সহজ করে বলুন।
মনে রাখতে হবে, সাবলীলভাবে কথা বলা মানে কখনো ভুল না করা নয়। বরং ভুল হলেও কথাটি চালিয়ে যেতে পারা সাবলীলতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ইংরেজিকে পড়ার বিষয় নয়, ব্যবহারের ভাষা বানান
ইংরেজি শেখার সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে তখনই, যখন এটি শুধু পরীক্ষার বিষয় না থেকে দৈনন্দিন ব্যবহারের ভাষায় পরিণত হয়।
আপনার ফোনে কিছু ইংরেজি লেখা পড়ুন। পছন্দের বিষয় ইংরেজিতে খুঁজুন। ইংরেজি গান শুনুন। ছোট গল্প পড়ুন। নিজের সঙ্গে কথা বলুন। পরিচিত কারও সঙ্গে কিছুক্ষণ ইংরেজিতে আলাপ করুন।
এভাবে ভাষাটি যত বেশি জীবনের সঙ্গে যুক্ত হবে, তত কম কৃত্রিম মনে হবে।
ইংরেজিতে সাবলীলভাবে কথা বলা কোনো রাতারাতি অর্জন করার বিষয় নয়। এর জন্য নিয়মিত অনুশীলন, ধৈর্য এবং ভুল করার সাহস প্রয়োজন।
শুরুতে হয়তো কয়েকটি বাক্য বলতে সময় লাগবে। কিছু শব্দ ভুল হবে। উচ্চারণেও সমস্যা থাকতে পারে। কিন্তু প্রতিদিন যদি একটু একটু করে শোনা, পড়া, লেখা এবং বলার অভ্যাস করা যায়, তাহলে ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস বাড়বে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, নিখুঁত ইংরেজি বলার অপেক্ষায় থেকে কথা বলা শুরু না করা। বরং কথা বলতে বলতেই ইংরেজিকে আরও ভালো করে তোলা।
আজ থেকেই ১৫ মিনিট শুরু করুন। এক মাস পরে সেই ১৫ মিনিট হয়তো আপনার ইংরেজিতে কথা বলার আত্মবিশ্বাসে বড় পার্থক্য তৈরি করবে।
সূত্র: লার্নশিপ



