logo

মানসিক শান্তি ও ক্লান্তি দূর করতে ঘর সাজানোর সহজ উপায়

মানসিক শান্তি ও ক্লান্তি দূর করতে ঘর সাজানোর সহজ উপায়
ছবি: অ্যাপার্টমেন্ট থেরাপি

ব্যস্ত জীবনের মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা আর ক্লান্তি থেকে মুক্তি পেতে আমরা কত কিছুই তো করি। জিমে যাই, ডায়েট করি, মেডিটেশন করি, এমনকি থেরাপিস্টের কাছেও ছুটি। কিন্তু দিনশেষে যে ঘরটিতে আমরা ফিরি, সেই ঘরটি আমাদের মনের ওপর কতটা প্রভাব ফেলতে পারে তা কি কখনো ভেবে দেখেছেন?

যেখানেই থাকি না কেন, দিনশেষে আমরা সবাই ঘরেই ফিরি। ঘর এমন একটি জায়গা যেখানে আমরা প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটাই আর সারাদিনের ক্লান্তি শেষে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘরের পরিবেশ যেমন হবে তার ওপর নির্ভর করে আমাদের মন ভালো থাকবে নাকি খারাপ থাকবে।

আপনার ঘরের ইন্টেরিয়র, আলো-বাতাস, গাছপালা এই ছোট ছোট বিষয়গুলো আপনার মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক সময়ই আমরা এই বিষয়টিকে একদমই পাত্তা দিই না। অথচ আপনার প্রিয় ঘরটিই আপনার মানসিক শান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আপনার ঘরকে কীভাবে সাজালে মন ভালো থাকবে আর ক্লান্তিও কমে যাবে তা জেনে নিন-


ঘরকে প্রাকৃতিক আলো ও বাতাসে ভরিয়ে তুলুন

ঘরের মধ্যে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো ঢোকা আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি দরকারি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, প্রাকৃতিক আলো আমাদের শরীরের ‘বায়োলজিক্যাল ক্লক’ ঠিক রাখে। এতে রাতে খুব ভালো ঘুম হয়, দিনে এনার্জি পাওয়া যায় আর মন সতেজ থাকে।

ছবি: জেকে সিমেন্ট
ছবি: জেকে সিমেন্ট

ঘরের জানালাগুলোকে এমনভাবে রাখতে পারেন যেন সারাদিন মিষ্টি রোদ আর বাতাস যাতায়াত করতে পারে। ঘরে আলো-বাতাস বেশি থাকলে মন ফুরফুরে থাকে। শোবার ঘর বা ড্রয়িংরুম ছাড়াও বাথরুম বা রান্নাঘরেও ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা থাকা ভালো। ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস থাকলে বৈদ্যুতিক বাতি বা এসি-ফ্যানের ওপর নির্ভরতাও কমে, এতে বিদ্যুৎ বিলও বেশ সাশ্রয় হয়।

ঘরেই প্রকৃতির সান্নিধ্য

ইট-পাথরের শহরের মাঝে প্রকৃতি আমাদের মনকে শান্ত করার সবচেয়ে বড় ওষুধ। আপনি চাইলে আপনার ঘরকেই প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারেন।

ছবি: হাউস প্লান্ট রিসোর্স সেন্টার
ছবি: হাউস প্লান্ট রিসোর্স সেন্টার

ঘরে সবুজ গাছপালা থাকলে মন এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। গাছপালার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলে সারাদিনের ক্লান্তি অনেকটাই কমে যায়। সবুজ রঙ আমাদের মনে প্রশান্তি আনে।

সবুজ পরিবেশের জন্য বিশাল বাগান করার দরকার নেই। বড় জায়গা না থাকলে ব্যালকনিতে বা জানালার পাশে কয়েকটি ইনডোর প্ল্যান্ট (যেমন: মানিপ্ল্যান্ট, স্নেক প্ল্যান্ট, অ্যালোভেরা) রেখে দিন। ঘরের ছোট এই সবুজ অংশটুকু আপনাকে সারাদিনের ব্যস্ততার মাঝেও প্রকৃতির সান্নিধ্য দেবে। মানসিক অবসাদ দূর করে মনকে চাঙা রাখবে।

একান্ত সময় এবং গোপনীয়তা

আজকাল সোশ্যাল মিডিয়া আর কাজের চাপে আমরা সারাক্ষণই কারও না কারও সঙ্গে যুক্ত থাকি। এই ডিজিটাল কোলাহল থেকে নিজেকে কিছুটা সময় আড়াল করা খুব দরকার। সারাদিনের কাজের পর নিজের মতো করে একটু সময় কাটানো, চিন্তা করা বা নিজেকে সময় দেওয়ার জন্য নিরিবিলি পরিবেশ খুব জরুরি। একে আমরা ‘মি টাইম’ বলে থাকি।

ছবি: বার্নস এন্ড ওয়েবার
ছবি: বার্নস এন্ড ওয়েবার

প্রতিদিনের কাজ থেকে বিরতি নিয়ে নিজের মতো করে কিছুটা সময় কাটানোর জন্য প্রাইভেসি খুব দরকার। বাড়িতে এমন একটি কোণ বা রুম থাকা দরকার যেখানে কেউ আপনাকে বিরক্ত করবে না, যেখানে আপনি চুপচাপ বসে নিজের সঙ্গে একটু কথা বলতে পারবেন। এটি আপনাকে রিচার্জ হতে খুবই সাহায্য করবে।

তাই ঘরের ভেতরে এমন একটি ছোট জায়গা রাখুন, যেখানে বসে আপনি বই পড়তে পারবেন, এক কাপ চা খেতে পারবেন বা চুপচাপ গান শুনতে পারবেন; যেখানে বাইরের কোনো কোলাহল আপনাকে বিরক্ত করবে না।

ঘরের রং এবং সাজসজ্জা

ঘরের আসবাবপত্র ও দেয়ালের রং আপনার অজান্তেই মন-মেজাজ ঠিক করে দিতে পারে। ঘরের জন্য হালকা ও শান্তিদায়ক রং (যেমন: হালকা নীল, সাদা, বা অফ-হোয়াইট) বেছে নিন, সাদা হলে সবচেয়ে ভালো হয়। দেয়ালে গাঢ় রং না রাখারই চেষ্টা করবেন। খুব কড়া আলো না জ্বালিয়ে ঘরে হালকা আলোর ব্যবস্থা করতে পারেন। এটি মনের সঙ্গে চোখকেও শান্তি দেবে।

ছবি: আর্কিটেকচারাল ডাইজেস্ট
ছবি: আর্কিটেকচারাল ডাইজেস্ট

ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র এমনভাবে গুছিয়ে রাখুন যেন চলাচলে কোনো সমস্যা না হয়। ঘরটি বেশ খোলামেলা মনে হয়। এলোমেলো ঘর মানসিক চাপ বাড়ায়, আর গোছানো ঘর মন ভালো রাখতে সহায়তা করে।

কেন ঘরের শান্তির বিষয়টি নিয়ে এতো আলোচনা হচ্ছে?

করোনা মহামারির পর থেকে বিশ্বজুড়ে মানুষের চিন্তা-ভাবনায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মহামারির পর থেকে মানুষ তাদের থাকার পরিবেশ নিয়ে অনেক বেশি সচেতন হয়েছে। ঘর শুধু থাকার জায়গা না, এর ওপরই মানসিক শান্তি নির্ভর করে। আমাদের কাজের দক্ষতা, পারিবারিক সম্পর্ক ও মানসিক সুস্থতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

ঘর হলো শান্তির এক নিরাপদ আশ্রয়। তাই ঘর সাজানোর সময় শুধু বাহ্যিক চকচকে ভাবের কথা চিন্তা না করে, নিজের মনের শান্তির কথা ভাবাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ঘরজুড়ে একটু আলো-বাতাস, কিছুটা সবুজ আর নিরিবিলি পরিবেশ আপনার জন্য প্রশান্তি এনে দেবে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া