Advertisement

ঘরেই বানিয়ে নিন বাচ্চাদের প্রিয় ডোনাট

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ঘরেই বানিয়ে নিন বাচ্চাদের প্রিয় ডোনাট
ছবি : সংগৃহীত

পরিবারের সঙ্গে ছোট্ট আড্ডা, বন্ধুদের মিলনমেলা কিংবা বিকেলের চায়ের আসর- যে কোনো ঘরোয়া আয়োজনকে আরও আনন্দময় করে তুলতে পারে নরম ও সুস্বাদু ডোনাট। এর আকর্ষণীয় সাজ, মিষ্টি স্বাদ এবং নানা ধরনের ফ্লেভার সবার মন সহজেই জয় করে। শিশু থেকে বড়-সব বয়সের মানুষের কাছেই ডোনাট একটি প্রিয় খাবার। তাই ঘরে তৈরি হোক বা যত্ন করে পরিবেশিত, ডোনাট শুধু একটি খাবার নয়; এটি আনন্দ, উষ্ণতা এবং একসঙ্গে সুন্দর মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়ার মিষ্টি উপলক্ষ্য।

ডোনাট বানাতে যা যা লাগবে

ময়দা- ২ কাপ

কুসুম গরম দুধ- আধা কাপ

চিনি- ৩ টেবিল চামচ

ডিম- ১টি

ইস্ট- ১ চা চামচ

গলানো মাখন বা তেল- ২ টেবিল চামচ

লবণ- এক চিমটি

ভ্যানিলা এসেন্স- ১ চা চামচ

পরিমাণমতো সয়াবিন তেল ভাজার জন্য

সাজানোর জন্য চিনি গুঁড়া, গলানো চকোলেট বা রঙিন স্প্রিংকলস

যেভাবে বানাবেন

ইস্ট এক্টিভেশন: প্রথমে কুসুম গরম দুধে চিনি ও ইস্ট মিশিয়ে ৮ থেকে ১০ মিনিট রেখে দিন। মিশ্রণে বুদবুদ উঠলে বুঝবেন ইস্ট সক্রিয় হয়েছে।

ডো তৈরি: এরপর একটি বড় পাত্রে ময়দা, লবণ, ডিম, ভ্যানিলা এসেন্স, গলানো মাখন এবং ইস্টের মিশ্রণটি একসাথে ভালো করে মেখে (ডো) তৈরি করতে হবে। ডো বেশি শক্ত হলে সামান্য পরিমাণে দুধ মেশাতে হবে। ডো এর গায়ে সামান্য তেল মাখিয়ে খামিরটি ঢেকে উষ্ণ স্থানে প্রায় এক ঘণ্টা রেখে দিতে হবে, যাতে এটি দ্বিগুণ আকার ধারণ করে।

ডো এর শেপ দেওয়া: ডো থেকে বাতাস বের করে নিতে হবে। এরপর আধা ইঞ্চি পুরু করে বেলে ডোনাট কাটার বা গ্লাসের সাহায্যে গোল করে কাটে নিতে হবে। মাঝখানের অংশটি ছোট গোল ছাঁচ দিয়ে কেটে ডোনাটের শেপ দিয়ে নিন।

ডোনাট ফুলতে দেয়া: কাটা ডোনাটগুলো আরও ১৫-২০ মিনিট ঢেকে রাখতে হবে।

ডোনাট ভাজা: কড়াইতে ডুবো তেল মাঝারি আঁচে গরম করে নিতে হবে। তেল গরম হলে ডোনাটগুলোর দুই পাশ সমানভাবে বাদামী ও মচমচে হওয়া পর্যন্ত ভেজে নিন। ভাজা শেষ হলে গরম অবস্থায় চিনির গুঁড়া ছিটিয়ে অথবা গলানো চকোলেট ও স্প্রিংকলস দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

পরিবেশনে ভিন্নতা

একই ডোনাটকে নানা স্বাদে পরিবেশন করা যায়। গলানো ডার্ক বা মিল্ক চকোলেট, স্ট্রবেরি গ্লেজ, ভ্যানিলা আইসিং, চিনির কোডিং, ক্যারামেল সস কিংবা বাদামের কুচি দিয়ে সহজেই নতুন আঙ্গিকে স্বাদ আনা সম্ভব। শিশুদের জন্য রঙিন স্প্রিংকলস বা চকলেট চিপস ব্যবহার করলে পরিবেশন হয়ে ওঠে আরও আকর্ষণীয়।

ডোনাটের পুষ্টিগুণ

ডোনাট মূলত কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ একটি খাবার। ময়দা থেকে শক্তি, ডিম থেকে প্রোটিন এবং মাখন থেকে চর্বি পাওয়া যায়। গ্লেজ বা চকোলেট যোগ করলে ক্যালরির পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। পুষ্টিবিদদের মতে, এটি প্রতিদিনের প্রধান খাবার নয়; বরং পরিমিত পরিমাণে বিশেষ উপলক্ষে বা নাশতা হিসেবে উপভোগ করাই ভালো। স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে আটা ব্যবহার, চিনির পরিমাণ কমানো কিংবা ওভেনে বেক করে ডোনাট তৈরি করা যেতে পারে।

মজাদার ডোনাট বানানোর কিছু পরামর্শ

ইস্ট অবশ্যই সক্রিয় আছে কি না আগে পরীক্ষা করে নিন।

খামির বেশি শক্ত করবেন না; নরম খামিরেই ডোনাট তুলতুলে হয়।

তেলের তাপমাত্রা মাঝারি রাখুন, যাতে ভেতর পর্যন্ত সমানভাবে সেদ্ধ হয়।

পরিবেশনের আগে চকোলেট, ক্যারামেল বা ভ্যানিলা গ্লেজ ব্যবহার করলে স্বাদ ও সৌন্দর্য দুটিই বাড়বে।

একটু যত্ন, সামান্য সময় আর ভালোবাসার ছোঁয়ায় তৈরি এই ডোনাট এনে দিতে পারে মিষ্টিমধুর কিছু মুহূর্ত। ব্যস্ত জীবনে পরিবারের সঙ্গে কিছু সময় কাটানোর অন্যতম আনন্দ হতে পারে ঘরে তৈরি যে কোন খাবার। পরিবারের ছোট-বড় সবার জন্য এটি হতে পারে আনন্দের একটি সুস্বাদু আয়োজন; যা স্বাদে যেমন অনন্য, তেমনি ঘরোয়া পরিবেশেও সহজে প্রস্তুত করা সম্ভব। শিশুদের টিফিন, অতিথি আপ্যায়ন কিংবা বিকেলের চায়ের আড্ডা-সব ক্ষেত্রেই ঘরে তৈরি এই ডোনাট হতে পারে আকর্ষণীয় ও সুস্বাদু একটি পরিবেশন।