পূজার মিষ্টিমুখে এবার ভিন্ন স্বাদের মোদক

শিউলির সুবাস, ঢাকের তালে উৎসবের আমেজ আর পূজার আনন্দ—সব মিলিয়ে এই সময়টা হয়ে ওঠে বিশেষ। আর সেই আনন্দকে আরও মধুর করে তোলে নানা পদের মিষ্টি। পূজার অতিথি আপ্যায়নে মোদক তাই বরাবরই বিশেষ আকর্ষণ। তবে চেনা স্বাদের এই মিষ্টিতে আনা যায় ভিন্ন স্বাদের ছোঁয়া। নারকেল-গুড়ের ঐতিহ্যবাহী স্বাদের পাশাপাশি পেস্তা, খেজুর, তিল কিংবা চকলেট দিয়ে তৈরি করা যায় বাহারি মোদক।
এতে পূজার মিষ্টিমুখে যোগ হবে নতুন স্বাদ, আর উৎসবের আয়োজনও হয়ে উঠবে আরও আকর্ষণীয়। পাশাপাশি অতিথি আপ্যায়নেও হতে পারে বিশেষ চমক।
চলুন জেনে নিই কিছু ভিন্ন স্বাদের মোদকের রেসিপি-
তিল-গুড়ের মোদক
তিল-গুড়ের মোদক বানাতে যা যা উপকরণ লাগবে
চালের গুঁড়া- ১ কাপ
সাদা তিল- আধা কাপ
খেজুরের গুড়- আধা কাপ
নারকেল কোরানো- আধা কাপ
ঘি- ১ টেবিল চামচ
যেভাবে তৈরি করবেন
তিল শুকনো কড়াইয়ে হালকা ভেজে নিন। এরপর নারকেল ও গুড় দিয়ে নেড়ে পুর তৈরি করুন। চালের গুঁড়া দিয়ে নরম মণ্ড তৈরি করে ছোট ছোট অংশে ভাগ করুন। প্রতিটি অংশে একটু করে ঘি মেখে ছোট ছোট অংশ নিয়ে তাতে তিল-গুড়ের পুর ভরে মোদকের আকৃতি দিয়ে ভাপে ৮–১০ মিনিট রান্না করুন। তিলের হালকা বাদামি স্বাদ আর খেজুরের গুড়ের মিষ্টি ঘ্রাণ এই মোদককে দেবে দেশি স্বাদের আলাদা মাত্রা।
নারকেল-খেজুরের মোদক
নারকেল-খেজুরের মোদক বানাতে যা যা উপকরণ লাগবে
চালের গুঁড়া-১ কাপ
নারকেল কোরানো- ১ কাপ
খেজুরের গুড়- আধা কাপ
দুধ- আধা কাপ
ঘি- ১ টেবিল চামচ
এলাচের গুঁড়া- সামান্য
যেভাবে তৈরি করবেন
প্রথমে একটি প্যানে নারকেল ও খেজুরের গুড় দিয়ে মাঝারি আঁচে নেড়ে পুর তৈরি করতে হবে। এতে এলাচের গুঁড়া দিয়ে নামিয়ে রাখুন। অন্যদিকে দুধ ও পানি মিশিয়ে গরম করে তাতে চালের গুঁড়া দিয়ে নেড়ে নরম মণ্ড তৈরি করুন। মণ্ড ঠান্ডা হলে হাতে সামান্য ঘি মেখে ছোট ছোট অংশ নিয়ে চ্যাপ্টা করে মাঝখানে পুর দিন। মোদকের ছাঁচে চেপে আকৃতি দিয়ে ভাপে ৮–১০ মিনিট রান্না করলেই তৈরি নারকেল-খেজুরের মোদক।
পেস্তা-ক্ষীর মোদক
পেস্তা-ক্ষীর মোদক বানাতে যা যা উপকরণ লাগবে
ছানা- ২৫০ গ্রাম
ঘন দুধ- আধা কাপ
গুড়া দুধ- আধা কাপ
চিনি- ৪ টেবিল চামচ
পেস্তা কুচি- ৩ টেবিল চামচ
এলাচে গুঁড়া- সামান্য
ঘি- ১ চা-চামচ
যেভাবে তৈরি করবেন
একটি প্যানে ছানা, ঘন দুধ ও গোলানো গুড়া দুধ নিয়ে মৃদু আঁচে নেড়ে নিতে হবে। ধীরে ধীরে মিশ্রণটি নেড়ে ঘন করুন। এরপর চিনি ও এলাচের গুঁড়া মিশ্রণটিতে মিশিয়ে নিন। শেষে পেস্তা কুচি ও ঘি দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নামিয়ে রাখুন। মোদকের আকৃতি দেওয়া যায় মিশ্রণের ঘনত্বটি সেভাবে চুলা থেকে নামাতে হবে। ঠান্ডা হলে মোদকের ছাঁচে দিয়ে আকৃতি তৈরি করুন। ওপরে পেস্তা কুচি ছড়িয়ে পরিবেশন করলে মোদকটি যেমন দৃষ্টিনন্দন হবে, তেমনি স্বাদেও আসবে বাদামের মোলায়েম ঘ্রাণ।
কাজুবাদামের মোদক
কাজুবাদামের মোদক বানাতে যা যা উপকরণ লাগবে
নারকেল কোরানো- এক কাপ
খেজুরের গুড়- আধা কাপ
কাজুবাদাম কুচি- আধা কাপ
গুঁড়া দুধ- ৪ টেবিল চামচ
এলাচের গুঁড়া- সামান্য
যেভাবে তৈরি করবেন
প্রথমে একটি প্যানে নারকেল ও খেজুরগুড় একসঙ্গে রান্না করে নিন। এতে গুঁড়া দুধ, কাজুবাদাম ও এলাচের গুঁড়া মিশিয়ে নেড়ে ঘন করুন। ঠান্ডা হলে ছোট ছোট অংশ নিয়ে মোদকের ছাঁচে আকৃতি দিন। তৈরি হয়ে গেল আকর্ষণীয় খেজুরগুড় ও কাজুবাদামের মোদক। পূজার মিষ্টিতে একটু সমৃদ্ধ স্বাদ আনতে খেজুরগুড় ও কাজুবাদামের মোদকও হতে পারে লোভনীয় আর একটি মোদকের পদ।
চকলেটের মোদক
চকলেটের মোদক বানাতে যা যা উপকরণ লাগবে
ডার্ক বা মিল্ক চকলেট- এক কাপ
কনডেন্সড মিল্ক- এক কাপ
নারকেল কোরানো- আধা কাপ
বিস্কুটের গুঁড়া- ৪ থেকে ৬ টেবিল চামচ
বাদাম কুচি- ২ টেবিল চামচ
চিনি- সামান্য (যদি লাগে)
যেভাবে তৈরি করবেন
চকলেট গলিয়ে তাতে কনডেন্সড মিল্ক, নারকেল কোরানো ও বাদাম কুচি মেশাতে হবে। এরপর বিস্কুটের গুঁড়া দিয়ে মিশ্রণটি শক্ত করতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে যেন খুব বেশি শক্ত না হয়। এবার মোদকের ছাঁচে চেপে বসিয়ে কিছুক্ষণ ফ্রিজে রাখুন। জমে গেলে ছাঁচ থেকে বের করে পরিবেশন করুন। শিশুদের পাশাপাশি বড়দের কাছেও জনপ্রিয় হতে পারে এই চকলেট মোদক।
পূজার মিষ্টির টেবিলে এবার শুধু প্রচলিত স্বাদ নয়, থাকতে পারে স্বাদের বৈচিত্র্যও। একই মোদককে ভিন্ন উপকরণ ও রঙে সাজিয়ে তৈরি করা যায় আকর্ষণীয় একটি মিষ্টির প্ল্যাটার। পেস্তার সবুজ, খেজুরের গুড়ের বাদামি কিংবা চকলেটের গাঢ় রং- বিভিন্ন ধরনের মোদক একসঙ্গে পরিবেশন করলে উৎসবের মিষ্টিমুখে যোগ হবে বাড়তি আনন্দ।

