আজ জাতীয় বই পড়া দিবস

স্মার্টফোনের স্ক্রিন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আর ব্যস্ততার কারণে অনেকের জীবন থেকেই বই পড়ার অভ্যাস ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। হাতে বই নিয়ে কয়েক ঘণ্টা নিরিবিলি সময় কাটানোর বদলে এখন অবসর পেলেই অনেকে ফোনের পর্দায় চোখ রাখেন। এমন সময়ে বই পড়ার গুরুত্ব মনে করিয়ে দিতে প্রতিবছর ৬ সেপ্টেম্বর পালিত হয় National Read a Book Day বা জাতীয় বই পড়া দিবস।
জাতীয় বই পড়া দিবস একটি অনানুষ্ঠানিক দিবস। প্রতি বছর ৬ সেপ্টেম্বর দিনটি পালিত হয় এবং মানুষকে অন্তত কিছু সময় বই পড়ার জন্য উৎসাহিত করা হয়। তবে এই দিবসটির নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠাতা বা শুরুর ইতিহাস নিশ্চিতভাবে নথিভুক্ত নেই।
বই শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়। একটি ভালো বই মানুষের চিন্তাভাবনা, জ্ঞান ও দৃষ্টিভঙ্গিকে বদলে দিতে পারে। গল্পের বই আমাদের কল্পনার জগতে নিয়ে যায়, ইতিহাসের বই অতীত সম্পর্কে জানায়, বিজ্ঞানবিষয়ক বই নতুন কিছু শেখায়। আবার জীবনী বা ভ্রমণকাহিনি অন্য মানুষের জীবন ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়।
নিয়মিত বই পড়ার সঙ্গে মনোযোগ, স্মৃতি ও মানসিক সক্রিয়তার মতো বিষয়গুলোর সম্পর্ক রয়েছে। বই পড়া চাপ কমাতেও সহায়ক হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
বই পড়লে কী কী উপকার হয়
মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে: একটি বই পড়ার সময় পাঠককে দীর্ঘ সময় ধরে একই বিষয় বা গল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হয়। ফলে নিয়মিত পড়ার অভ্যাস মনোযোগ ধরে রাখার দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
জ্ঞান বাড়ায়: বই জ্ঞান অর্জনের অন্যতম সহজ মাধ্যম। নিজের পছন্দের বিষয়ে পড়তে পড়তে অজান্তেই নতুন তথ্য, ধারণা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিত হওয়া যায়।
কল্পনাশক্তি বাড়ায়: গল্প বা উপন্যাস পড়ার সময় চরিত্র, স্থান ও ঘটনার ছবি পাঠককে নিজের মনে তৈরি করতে হয়। এতে কল্পনাশক্তি সক্রিয় থাকে। শিশুদের জন্য বই পড়ার অভ্যাস তাই বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে: ব্যস্ত দিনের মধ্যে কিছু সময় বই পড়া মনকে অন্যদিকে ব্যস্ত রাখে। বিশেষ করে পছন্দের গল্প বা উপন্যাস পড়লে দৈনন্দিন চিন্তা থেকে কিছুটা বিরতি পাওয়া যায়। বই পড়াকে তাই অনেকেই আরাম ও বিনোদনের একটি সহজ উপায় হিসেবে দেখেন।
চিন্তার জগৎকে বড় করে
একটি বই এমন কোনো মানুষের জীবন, সংস্কৃতি বা মতামতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে পারে, যার সঙ্গে বাস্তবে কখনো দেখা হওয়ার সুযোগ নেই। ফলে অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার সুযোগ তৈরি হয় এবং চিন্তার পরিধি বাড়ে।
প্রতিদিন কতক্ষণ বই পড়বেন
বই পড়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। শুরুতে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় রাখলেও ভালো অভ্যাস তৈরি হতে পারে। পরে সময় ধীরে ধীরে বাড়ানো যায়।
যারা নিয়মিত বই পড়েন না, তারা মোবাইল ব্যবহারের সময় থেকে প্রতিদিন কিছুটা সময় বই পড়ার জন্য আলাদা করতে পারেন। ঘুমানোর আগে ফোন ব্যবহারের বদলে কয়েক পৃষ্ঠা বই পড়ার অভ্যাসও তৈরি করা যায়।
শিশুদের বই পড়ায় আগ্রহী করবেন যেভাবে
শিশুর হাতে বই তুলে দিয়ে শুধু পড়তে বললেই সব সময় কাজ হয় না। তার পছন্দের গল্প, প্রাণী, বিজ্ঞান, মহাকাশ, রূপকথা বা অ্যাডভেঞ্চারভিত্তিক বই দিয়ে শুরু করা যেতে পারে।
অভিভাবক নিজেরাও বই পড়লে শিশুরা তা দেখে উৎসাহ পেতে পারে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে পরিবারের সবাই মিলে বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করা যেতে পারে। বই পড়ে শেষ করার পর গল্পের চরিত্র বা ঘটনা নিয়ে শিশুর সঙ্গে কথা বললেও তার আগ্রহ বাড়তে পারে।
ডিজিটাল যুগে বই পড়ার ধরন বদলেছে। এখন কাগজের বইয়ের পাশাপাশি ই-বুক ও ডিজিটাল লাইব্রেরিও রয়েছে। ফলে বই পড়ার সুযোগ আগের চেয়ে কমেনি, বরং মাধ্যম বেড়েছে।
মনে রাখবেন, প্রয়োজন শুধু নিয়মিত পড়ার জন্য সময় বের করা। প্রতিদিন কয়েক পৃষ্ঠা দিয়ে শুরু করেও ধীরে ধীরে অভ্যাস তৈরি করা সম্ভব। জাতীয় বই পড়া দিবস সেই অভ্যাস শুরু করার জন্য একটি ভালো উপলক্ষ হতে পারে।


