Advertisement

দীর্ঘ বিমান ভ্রমণের পর শরীরে কী ঘটে এবং দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার উপায়

এশিয়া পোস্ট নিউজ
দীর্ঘ বিমান ভ্রমণের পর শরীরে কী ঘটে এবং দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার উপায়
ছবি : সংগৃহীত

দূরপাল্লার বিমান ভ্রমণের পর অনেকেই রাতে ঘুমাতে পারেন না, দিনের বেলা অতিরিক্ত ক্লান্ত লাগে বা ক্ষুধার সময় বদলে যায়। এই সমস্যাকেই বলা হয় জেট ল্যাগ।

এক দেশ থেকে আরেক দেশে যাওয়ার সময় একাধিক টাইম জোন অতিক্রম করলে শরীরের অভ্যন্তরীণ জৈবঘড়ি নতুন সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারে না। ফলে কয়েক দিন পর্যন্ত ঘুম, হজম, মনোযোগ ও শক্তির ওপর এর প্রভাব দেখা দিতে পারে।

জেট ল্যাগ কেন হয়?

আমাদের শরীরে একটি প্রাকৃতিক জৈবঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম রয়েছে। এটি আলো, অন্ধকার এবং নির্দিষ্ট সময়ের ওপর ভিত্তি করে কখন ঘুমাতে হবে, কখন জেগে থাকতে হবে, কখন হরমোন নিঃসরণ হবে, তা নিয়ন্ত্রণ করে।

বিমান দ্রুত একাধিক টাইম জোন পার হয়ে গেলে শরীরের এই ঘড়ি পুরোনো সময় অনুযায়ী কাজ করতে থাকে, কিন্তু গন্তব্যের স্থানীয় সময় হয়ে যায় ভিন্ন। এই অমিল থেকেই জেট ল্যাগের সৃষ্টি হয়। সাধারণত তিনটির বেশি টাইম জোন অতিক্রম করলে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।

কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে?

জেট ল্যাগের উপসর্গ ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত রাতে ঘুম না আসা, দিনের বেলা অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, মনোযোগ কমে যাওয়া, মাথাব্যথা, খিটখিটে মেজাজ, ক্ষুধার সময় পরিবর্তন এবং কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া বা বদহজমের মতো হজমের সমস্যা দেখা যায়।

এসব লক্ষণ সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যে ধীরে ধীরে কমে যায়।

পূর্ব দিকে নাকি পশ্চিম দিকে ভ্রমণে বেশি সমস্যা হয়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্ব দিকে ভ্রমণ করলে জেট ল্যাগ বেশি অনুভূত হয়।

কারণ সে ক্ষেত্রে শরীরকে তুলনামূলক আগে ঘুমাতে ও আগে জাগতে হয়, যা শরীরের জন্য মানিয়ে নেওয়া কঠিন। অন্যদিকে পশ্চিম দিকে গেলে দিন কিছুটা দীর্ঘ হয়, যা অনেকের শরীর তুলনামূলক সহজে মানিয়ে নিতে পারে।

কত দিনে শরীর স্বাভাবিক হয়?

এটি নির্ভর করে কতটি টাইম জোন অতিক্রম করেছেন, বয়স, স্বাস্থ্য এবং ঘুমের অভ্যাসের ওপর।

সাধারণভাবে প্রতি একটি টাইম জোনের জন্য শরীরের মানিয়ে নিতে প্রায় এক দিন সময় লাগতে পারে। তবে কারও ক্ষেত্রে এর চেয়ে কম বা বেশি সময়ও লাগতে পারে।

জেট ল্যাগ কমানোর উপায়

ভ্রমণের আগে ধীরে ধীরে ঘুমের সময় বদলান: যদি সম্ভব হয়, যাত্রার কয়েক দিন আগে থেকেই গন্তব্য দেশের সময় অনুযায়ী ধীরে ধীরে ঘুমানো ও জাগার সময় পরিবর্তন করুন। এতে শরীর নতুন সময়ের সঙ্গে সহজে মানিয়ে নিতে পারে।

গন্তব্যের স্থানীয় সময় অনুসরণ করুন: বিমানে ওঠার পর থেকেই ঘড়ি গন্তব্যের সময় অনুযায়ী সেট করতে পারেন। পৌঁছানোর পর স্থানীয় সময় অনুযায়ী খাওয়া, ঘুমানো এবং দৈনন্দিন কাজ করার চেষ্টা করুন।

সূর্যের আলোতে সময় কাটান: প্রাকৃতিক আলো শরীরের জৈবঘড়িকে নতুন সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। তাই গন্তব্যে পৌঁছে দিনের বেলা কিছু সময় বাইরে হাঁটাহাঁটি করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন: দীর্ঘ বিমানযাত্রায় শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে, যা ক্লান্তি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই যাত্রার আগে, চলাকালীন এবং পরে পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ।

ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল সীমিত রাখুন: অতিরিক্ত কফি, চা বা অ্যালকোহল ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করতে পারে। তাই বিশেষ করে ঘুমানোর কয়েক ঘণ্টা আগে এসব পানীয় এড়িয়ে চলা ভালো।

দিনের বেলা দীর্ঘ সময় ঘুমাবেন না: খুব বেশি ক্লান্ত লাগলেও দিনের বেলা দীর্ঘ সময় ঘুমানো রাতে ঘুমের সমস্যা বাড়াতে পারে। প্রয়োজন হলে ২০ থেকে ৩০ মিনিটের ছোট্ট বিশ্রাম নিতে পারেন।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জেট ল্যাগ কয়েক দিনের মধ্যে নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়। তবে এক সপ্তাহের বেশি ঘুমের সমস্যা, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা দৈনন্দিন কাজে বাধা সৃষ্টি হলে চিকিৎসক বা ঘুম বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

জেট ল্যাগ দীর্ঘ বিমান ভ্রমণের একটি সাধারণ সমস্যা। তবে এটি সাধারণত সাময়িক। ভ্রমণের আগে কিছু প্রস্তুতি নেওয়া, গন্তব্যের স্থানীয় সময় দ্রুত অনুসরণ করা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং পর্যাপ্ত আলোতে সময় কাটানোর মাধ্যমে এর প্রভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব। শরীরকে নতুন সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় দিন এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সূত্র: বিবিসি