ডায়েটিংয়ের চেয়েও বেশি উপকারী যে কাজ

খাবার খেয়ে পেট ভরে গেছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর সামনে মিষ্টি বা ভাজাপোড়ার গন্ধ আসতেই আবার খেতে ইচ্ছা করছে। এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়।
সাধারণত এটাকে আত্মনিয়ন্ত্রণের অভাব বলা হয়। দীর্ঘদিন ধরে ধারণা ছিল, মানুষ বেশি খায় কারণ খাবার খুব সুস্বাদু। তবে নতুন গবেষণা বলছে, বিষয়টি এতটা সহজ নয়। গবেষকদের মতে, অতিরিক্ত খাওয়ার কারণ হয়তো খাবার উপভোগ করে না খাওয়া। গবেষণা বলছে, মানুষ এখন আর ঠিকভাবে খাবার উপভোগই করছে না।
২০২৫ সালের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার ধীরে ধীরে আমাদের শরীরের ক্ষুধা ও তৃপ্তির স্বাভাবিক সংকেতকে দুর্বল করে দেয়। ফলে শরীর ঠিকভাবে বুঝতে পারে না কখন খাবার যথেষ্ট হয়েছে।
সব ক্ষুধা একরকম নয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষুধারও আলাদা ধরন আছে। একটি হলো শারীরিক ক্ষুধা, যখন শরীরের সত্যিই শক্তি প্রয়োজন হয়।
আরেকটি হলো মানসিক বা আনন্দভিত্তিক ক্ষুধা, যাকে বলা হয় হেডোনিক হাঙ্গার। এই ধরনের ক্ষুধা তৈরি হয় খাবারের গন্ধ, ছবি, স্ট্রেস, একঘেয়েমি বা সামাজিক পরিবেশ থেকে। যেমন সিনেমা দেখতে দেখতে চিপস খেতে ইচ্ছা করা, কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খাবারের ভিডিও দেখে হঠাৎ ক্ষুধা লাগা।
চিকিৎসকদের মতে, আধুনিক জীবন মানুষকে সারাক্ষণ এমন খাবারসংক্রান্ত উদ্দীপনার মধ্যে রাখছে, যা মস্তিষ্কের পুরস্কার ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে।
মিষ্টির জন্য আলাদা জায়গা কেন থাকে
অনেকেই বলেন, আর কিছু খাওয়ার জায়গা নেই, কিন্তু ডেজার্টের জন্য ঠিকই জায়গা হয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রিয় খাবার খেলে মস্তিষ্কে ডোপামিন নামের একটি রাসায়নিক নিঃসরণ হয়। এটি মানুষকে আনন্দ অনুভব করায় এবং সেই অভিজ্ঞতা আবার পেতে উৎসাহ দেয়।
তবে নতুন গবেষণা বলছে, শুধু আনন্দই অতিরিক্ত খাওয়ার মূল কারণ নয়। বরং অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার দীর্ঘদিন খেতে খেতে শরীরের স্বাভাবিক তৃপ্তি অনুভব করার ক্ষমতা কমে যেতে পারে।
ফলে মানুষ আগের মতো তৃপ্তি পেতে আরও বেশি খাবার খেতে শুরু করে।
ধীরে খেলে কম খাওয়া সম্ভব
বিশেষজ্ঞদের মতে, ধীরে ধীরে মনোযোগ দিয়ে খেলে শরীর দ্রুত বুঝতে পারে যে পেট ভরে গেছে।
সাধারণত মস্তিষ্কের পূর্ণতার সংকেত বুঝতে প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগে। কিন্তু মানুষ যখন খুব দ্রুত খায়, তখন সেই সংকেত পৌঁছানোর আগেই অতিরিক্ত খাওয়া হয়ে যায়। এ কারণে খাবারের স্বাদ, গন্ধ ও টেক্সচার মন দিয়ে উপভোগ করার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা।
মোবাইল ফোন, টিভি বা কাজ করতে করতে খেলে মানুষ অনেক সময় বুঝতেই পারে না কতটা খেয়ে ফেলেছে।
অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রভাব
গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়মিত খেলে মস্তিষ্ক ও অন্ত্রের স্বাভাবিক যোগাযোগে পরিবর্তন আসতে পারে। এ ধরনের খাবার ধীরে ধীরে শরীরের ক্ষুধা ও তৃপ্তির সংকেত দুর্বল করে দেয়। ফলে কম প্রক্রিয়াজাত বা সাধারণ খাবার কম আকর্ষণীয় লাগতে শুরু করে এবং মানুষ আরও বেশি চিনি, লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবারের প্রতি আকৃষ্ট হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ পরিবর্তন ওজন বাড়ার আগেই শুরু হতে পারে।
অতিরিক্ত খাওয়া সব সময় ইচ্ছাশক্তির সমস্যা নয়
অনেকেই মনে করেন, বেশি খাওয়া মানেই ইচ্ছাশক্তির অভাব। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, বিষয়টি অনেক বেশি জটিল। মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব, আবেগজনিত সমস্যা, কঠোর ডায়েট এবং মস্তিষ্কের কিছু স্নায়বিক পরিবর্তনও অতিরিক্ত খাওয়ার পেছনে ভূমিকা রাখে।
বারবার অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে আরও বেশি পরিমাণ খাবার চাইতে শুরু করতে পারে, বিশেষ করে চিনি ও চর্বিযুক্ত খাবার।
সূত্র: এনডিটিভি
.png)







