Advertisement

২১ নাকি ২২ ক্যারেট, স্বর্ণ কেনার আগে জেনে নিন কোনটি আপনার জন্য ভালো

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
২১ নাকি ২২ ক্যারেট, স্বর্ণ কেনার আগে জেনে নিন কোনটি আপনার জন্য ভালো
একটু সতর্ক থাকলেই ভালো মানের স্বর্ণ কেনা সম্ভব। ছবি : সংগৃহীত

স্বর্ণের গয়না কেনার সময় শুধু নকশা বা দাম দেখলেই চলবে না, এর বিশুদ্ধতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই ২১ ও ২২ ক্যারেট স্বর্ণের মধ্যে পার্থক্য না জেনেই গয়না কিনে ফেলেন। অথচ বিশুদ্ধতার তারতম্যের কারণে এই দুই ধরনের স্বর্ণের স্থায়িত্ব, ব্যবহারযোগ্যতা, দাম এবং পুনর্বিক্রয়মূল্যে পার্থক্য থাকে। তাই প্রয়োজন ও বাজেট অনুযায়ী সঠিক ক্যারেটের স্বর্ণ বেছে নিতে আগে থেকেই বিষয়টি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।

Advertisement

স্বর্ণ শুধু অলংকার নয়, অনেকের কাছে এটি ভবিষ্যতের সঞ্চয়ও। বিয়ে, উৎসব কিংবা বিশেষ উপলক্ষ্যে স্বর্ণের গয়না কেনার পরিকল্পনা করেন অনেকেই। তবে গয়না কিনতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটি ওঠে, সেটি হলো ২১ ক্যারেট নাকি ২২ ক্যারেট স্বর্ণ ভালো? আবার বাজারে নকল বা নিম্নমানের স্বর্ণের অভিযোগও নতুন নয়। তাই কেনার আগে বিশুদ্ধতা সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি।

ক্যারেট বলতে কী বোঝায়?

স্বর্ণের বিশুদ্ধতা ক্যারেট দিয়ে প্রকাশ করা হয়। ২৪ ক্যারেট হলো সবচেয়ে বিশুদ্ধ। তবে এটি খুব নরম হওয়ায় সাধারণত গয়না তৈরিতে ব্যবহার করা হয় না। গয়না মজবুত করতে এর সঙ্গে অল্প পরিমাণে তামা, রুপা বা অন্য ধাতু মেশানো হয়। ফলে তৈরি হয় ২২ বা ২১ ক্যারেট সোনা।

২১ ক্যারেট স্বর্ণ: ২১ ক্যারেট স্বর্ণে প্রায় ৮৭ দশমিক ৫ শতাংশ বিশুদ্ধ স্বর্ণ থাকে। বাকি অংশে থাকে অন্যান্য ধাতু। ফলে এটি তুলনামূলক শক্ত হয় এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য উপযোগী। নিয়মিত পরার গয়নার ক্ষেত্রে অনেকেই ২১ ক্যারেট স্বর্ণ বেছে নেন।

২২ ক্যারেট স্বর্ণ: ২২ ক্যারেট স্বর্ণে প্রায় ৯১ দশমিক ৬ শতাংশ বিশুদ্ধ স্বর্ণ থাকে। এতে স্বর্ণের পরিমাণ বেশি হওয়ায় রং আরও উজ্জ্বল ও গাঢ় হয়। তবে এটি তুলনামূলক নরম, তাই সহজে আঁচড় পড়তে পারে বা আকার পরিবর্তনের ঝুঁকি থাকে। বিশেষ অনুষ্ঠান বা কম ব্যবহারের গয়নার জন্য ২২ ক্যারেট ভালো বিকল্প হতে পারে।

তাহলে কোনটি কিনবেন?

আপনি যদি প্রতিদিন ব্যবহারের জন্য গয়না কিনতে চান, তাহলে ২১ ক্যারেট স্বর্ণ বেশি টেকসই হতে পারে। আর বিশুদ্ধতা ও ঐতিহ্যকে বেশি গুরুত্ব দিলে ২২ ক্যারেট স্বর্ণ ভালো পছন্দ। দুই ধরনের স্বর্ণই আসল, পার্থক্য শুধু বিশুদ্ধতা ও ব্যবহারের সুবিধায়।

আসল স্বর্ণ চিনবেন যেভাবে

হলমার্ক দেখে নিন: গয়না কেনার সময় সবার আগে হলমার্ক বা স্ট্যাম্প পরীক্ষা করুন। ২২ ক্যারেট স্বর্ণে সাধারণত ৯১৬ এবং ২১ ক্যারেট স্বর্ণে ৮৭৫ লেখা থাকে। পাশাপাশি ২২K বা ২১K চিহ্নও থাকতে পারে। স্ট্যাম্পটি স্পষ্টভাবে খোদাই করা আছে কি না, সেটিও দেখে নিন।

বিশ্বস্ত দোকান থেকে কিনুন: শুধু গয়না দেখে বিশুদ্ধতা বোঝা সব সময় সম্ভব নয়। তাই পরিচিত ও বিশ্বস্ত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান থেকে স্বর্ণ কেনাই সবচেয়ে নিরাপদ। কেনার সময় অবশ্যই রসিদ ও প্রয়োজনীয় সনদ সংগ্রহ করুন।

ওজন ও রং লক্ষ করুন: খাঁটি স্বর্ণের নিজস্ব উজ্জ্বলতা থাকে এবং এর ওজনও তুলনামূলক বেশি। তবে শুধু রং বা ওজন দেখে স্বর্ণের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত হওয়া যায় না। তাই এগুলোকে একমাত্র পরীক্ষা হিসেবে ধরা উচিত নয়।

চুম্বক পরীক্ষা: খাঁটি স্বর্ণ সাধারণত চুম্বকে আকৃষ্ট হয় না। তবে এই পরীক্ষা শতভাগ নির্ভরযোগ্য নয়, কারণ গয়নায় ব্যবহৃত কিছু ধাতু সামান্য চৌম্বকীয় হতে পারে।

রাসায়নিক পরীক্ষা: জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান বা পরীক্ষাগারে বিশেষ রাসায়নিকের মাধ্যমে স্বর্ণের বিশুদ্ধতা যাচাই করা যায়। এই পরীক্ষা বাড়িতে করার চেষ্টা না করাই ভালো। ভুলভাবে করলে গয়না ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

স্বর্ণ কেনার আগে আরও কিছু বিষয় মনে রাখুন

  • সব সময় হলমার্কযুক্ত গয়না কিনুন।
  • কেনার রসিদ ও ওয়ারেন্টি সংরক্ষণ করুন।
  • বর্তমান বাজারদর জেনে দোকানে যান।
  • অতিরিক্ত কম দামের প্রলোভনে না পড়াই ভালো।
  • গয়নার ওজন, ক্যারেট এবং মেকিং চার্জ সম্পর্কে আগে থেকেই নিশ্চিত হয়ে নিন।

স্বর্ণ দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই শুধু নকশা বা দামের দিকে না তাকিয়ে বিশুদ্ধতা, হলমার্ক এবং বিক্রেতার বিশ্বাসযোগ্যতাও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত। একটু সতর্ক থাকলেই ভালো মানের স্বর্ণ কেনা সম্ভব হবে এবং ভবিষ্যতেও এর মূল্য বজায় থাকবে।

সূত্র: বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস), রয়্যাল দুবাই জুয়েলার্স, টিভি নাইন বাংলা