logo

কাঁঠাল ফল নাকি সবজি, কী বলছে উদ্ভিদবিদ্যা

কাঁঠাল ফল নাকি সবজি, কী বলছে উদ্ভিদবিদ্যা
ছবি: জাগরান জোশ

আমাদের দেশে গ্রীষ্মকালের সবচেয়ে সহজলভ্য ফলগুলোর একটি হলো কাঁঠাল। গ্রীষ্মকাল এলেই বাজারে দেখা মেলে সুস্বাদু এই ফলের। পাকা কাঁঠালের মিষ্টি কোয়া অনেকেরই বেশ পছন্দ। অনেকে আবার কাঁচা কাঁঠাল বা এঁচোড় দিয়ে তৈরি নানা পদের তরকারি খেতে খুব পছন্দ করেন। তবে কাঁঠাল নিয়ে একটি প্রশ্ন অনেকের মনেই আসতে পারে, এটি আসলে ফল, নাকি সবজি?

রান্নায় সবজি হিসেবে ব্যবহার করা হলেও উদ্ভিদবিদ্যার হিসেবে কাঁঠাল কিন্তু সবজি না।

উদ্ভিদবিদ্যার হিসেবে কাঁঠাল ফল

বিজ্ঞানের ভাষায় কাঁঠাল একটি ফল। এর বৈজ্ঞানিক নাম ‘Artocarpus heterophyllus’। কাঁঠাল গাছের ফুল থেকে এই ফল তৈরি হয় এবং এর ভেতরে বীজ থাকে।

উদ্ভিদবিদ্যার নিয়ম অনুযায়ী, ফুলের ডিম্বাশয় থেকে তৈরি হয় আর যার ভেতরে বীজ থাকে, এমন উদ্ভিজ্জ অংশকে ফল বলা হয়। সেই হিসেবে কাঁঠালকে ফল হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়।

ছবি: টিভি৯ বাংলা
ছবি: টিভি৯ বাংলা

তবে কাঁচা অবস্থায় কাঁঠাল রান্নায় সবজি হিসেবে ব্যবহৃত হয় বলেই এ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

কাঁচা কাঁঠালকে সবজি বলা হয় কেন?

কাঁচা কাঁঠাল শক্ত, আঁশযুক্ত ও স্বাদে তুলনামূলক কম মিষ্টি। আমাদের দেশে এটি এঁচোড় নামে পরিচিত। কাঁচা কাঁঠাল মাছ, মাংস বা বিভিন্ন মসলার সঙ্গে রান্না করে খাওয়া হয় । মাংসের মতো কষিয়ে রান্না করা যায় বলে নিরামিষ রান্নাতেও এটি বেশ জনপ্রিয়।

ছবি: ইউটিউব থেকে নেওয়া
ছবি: ইউটিউব থেকে নেওয়া

বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, শ্রীলঙ্কা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কাঁচা কাঁঠাল তরকারি, ঝোল ও বিভিন্ন মসলাদার খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। মূলত রান্নার ধরন ও স্বাদের কারণে কাঁচা কাঁঠালকে সবজি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

পেকে গেলে কাঁঠালের চেহারা ও স্বাদ বদলে যায়

কাঁঠাল পুরোপুরি পেকে গেলে এর ভেতরের কোয়া হলুদ রঙের হয়। এ সময় কোয়া নরম, রসালো ও মিষ্টি হয়ে ওঠে। তখন এটি সরাসরি ফল হিসেবে খাওয়া হয়। পাশাপাশি কাঁঠাল দিয়ে বিভিন্ন মিষ্টি, পানীয় ও অন্যান্য খাবারও তৈরি করা যায়।

ছবি: যুগান্তর
ছবি: যুগান্তর

অর্থাৎ, কাঁচা অবস্থায় রান্নার উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হলেও পেকে গেলে কাঁঠাল পরিচিত হয় সুস্বাদু ফল হিসেবে। তবে পাকা বা কাঁচা, দুই অবস্থাতেই উদ্ভিদবিদ্যার হিসেবে এর পরিচয় ফল।

কাঁঠাল সম্পর্কে আরও কিছু মজার তথ্য

কাঁঠালের আরও কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে। যেমন-

গাছে জন্মানো সবচেয়ে বড় ফল: কাঁঠালকে গাছে জন্মানো ফলের মধ্যে সবচেয়ে বড় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একটি কাঁঠালের দৈর্ঘ্য প্রায় ৯০ সেন্টিমিটার আর ওজন প্রায় ৩৬ কেজি পর্যন্ত হতে পারে।

একটি গাছে অনেক ফল ধরে: উপযুক্ত পরিবেশ পেলে একটি পরিণত কাঁঠাল গাছে বছরে প্রায় ২০০টি ফল ধরতে পারে। কিছু পুরোনো গাছে ফলের সংখ্যা ৫০০ পর্যন্ত হতে পারে।

বিচিও খাওয়া যায়: কাঁঠালের বীজ সেদ্ধ বা ভেজে খাওয়া যায়। এটি বিভিন্ন রান্নাতেও ব্যবহার করা হয়।

ছবি: এপিকিউরিয়ান আর্থ
ছবি: এপিকিউরিয়ান আর্থ

গাছের বিভিন্ন অংশের ব্যবহার: কাঁঠালের ফল, বীজ ও পাতা ছাড়াও এর কাঠ বিভিন্ন কাজে লাগে। এই কাঠ দিয়ে আসবাবপত্র ও বাদ্যযন্ত্র তৈরি করা হয়।

তাই, কাঁঠালকে সবজি হিসেবে খাওয়ার প্রচলন থাকলেও উদ্ভিদবিদ্যার বিচারে এটি সব সময়ই একটি ফল।

তথ্যসূত্র: Jagran Josh , TV9 Bangla