একসঙ্গে হঠাৎ বেশি মিষ্টি খেয়ে ফেললে পরদিন সুস্থ থাকতে কী করবেন

কোনো ভালো খবর, দাওয়াত বা উৎসবের আমেজে আমাদের দেশে মিষ্টি খাওয়ার প্রচলন বেশ আগে থেকেই। স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ অনেক সময় বিশেষ দিনে মিষ্টির পরিমাণের দিকে নজর দেন না। এ কারণে দেখা যায়, বিশেষ দিন উপলক্ষে একসঙ্গে অনেকটা মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়া হয়ে যেতে পারে। হুট করে অনেকটা মিষ্টি খেয়ে ফেললে এর পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে শরীর ভারী লাগা, পেট ফাঁপা বা ক্লান্তি অনুভব করতে পারেন।
অনেকে তো এ নিয়ে দুশ্চিন্তায়ও থাকেন, ভাবেন একদিনেই বুঝি ডায়েটের বারোটা বাজিয়ে ফেললেন। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই পরদিন না খেয়ে থাকেন, কার্বোহাইড্রেট বাদ দেন বা ডিটক্স পানীয় পান করার মতো সিদ্ধান্তও নেন। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, এক রাতে বেশি চিনি খেয়ে ফেললে পরদিন শরীরকে শাস্তি দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। বরং কয়েকটি সহজ অভ্যাস মেনে চলে স্বাভাবিক রুটিনে ফিরে আসতে পারেন।
একসঙ্গে হঠাৎ বেশি মিষ্টি খেয়ে ফেললে পরদিন সুস্থ থাকতে কী করবেন জেনে নিন।
সকালের নাশতা বাদ দেবেন না
একসঙ্গে অনেক মিষ্টি খাওয়ার পর অনেকে পরদিন সকালের নাশতা বাদ দেওয়ার কথা ভাবতে পারেন। কিন্তু এতে ক্ষুধা আরও বেড়ে যেতে পারে। এতে পরবর্তী সময়ে বেশি খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে সকালে প্রোটিন ও ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খেতে পারেন। নাশতার তালিকায় ডিম, ওটস, টক দই, বাদাম বা বিভিন্ন ধরনের ফল রাখতে পারেন। এসব খাবার আপনার পেট ভরা রাখবে। এর পাশাপাশি রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতেও সহায়তা করে।
স্বাভাবিক ও সুষম খাবারের রুটিনে ফিরুন
বেশি মিষ্টি খাওয়ার পর পরদিনই কঠোর ডায়েট শুরু করার দরকার নেই। এর চেয়ে বরং নিয়মিত সময়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখুন।
দুপুর ও রাতের খাবারে ভাত বা রুটির পাশাপাশি শাকসবজি, ডাল, মাছ, ডিম বা মুরগির মাংস রাখতে পারেন। খাবারে প্রোটিন, ফাইবার ও প্রয়োজনীয় পুষ্টির ভারসাম্য থাকা জরুরি। মনে রাখবেন, একদিন বেশি খাওয়ার ক্ষতিপূরণ করতে গিয়ে পরের দিন যদি খাবার কমিয়ে দেন, তাহলে পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত ক্ষুধা তৈরি হতে পারে।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
বেশি মিষ্টি খাওয়ার পর কারও কারও পেট ফাঁপা বা শরীর ভারী লাগতে পারে। তাই এ সময় পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।

পানি হজমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ও শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রম ঠিক রাখতে সাহায্য করে। তবে শুধু বেশি পানি পান করলেই শরীর থেকে অতিরিক্ত চিনি বের হয়ে যায় না। তাই ডিটক্স পানীয়ের ওপর নির্ভর না করে সারা দিন পর্যাপ্ত সাধারণ পানি পান করুন।
কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করুন
বেশি মিষ্টি খাওয়ার পর শরীরকে স্বাভাবিক রাখতে হালকা শারীরিক নড়াচড়া উপকারি হতে পারে। সকালে নাশতার পর বা বিকেলে ১৫ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটতে পারেন। হাঁটাহাঁটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি শরীর সক্রিয় রাখে ও মন ভালো করতেও সাহায্য করে।
তবে আগের রাতে বেশি মিষ্টি খেয়েছেন বলে অতিরিক্ত ব্যায়াম করে সব ক্যালরি বার্ন করে ফেলবেন, এই ধারণা ঠিক না।
ডিটক্স ডায়েট বা উপবাস করবেন না
অনেকে মনে করেন, বেশি মিষ্টি খাওয়ার পর শরীর ঠিক রাখতে ডিটক্স ডায়েট বা উপবাস করা প্রয়োজন। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, এ ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো দরকার নেই। এভাবে হঠাৎ খাবার কমিয়ে দেওয়া বা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে ক্ষুধা বেড়ে যেতে পারে। এতে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।
তাই শরীরকে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে দিন, নিয়মিত সুষম খাবার গ্রহণ করুন।
একসঙ্গে বেশি মিষ্টি খেলে কি বড় কোনো ক্ষতি হয়?
একসঙ্গে বেশি মিষ্টি খাওয়ার কারণে সাধারণত কোনো দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয় না। তবে নিয়মিত অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার অভ্যাস ওজন বৃদ্ধি, দাঁতের ক্ষয় ও টাইপ ২ ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের দেওয়া খাদ্যাভ্যাস ও ওষুধসংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।
একসঙ্গে হঠাৎ বেশি মিষ্টি খেয়ে ফেললে পরদিন না খেয়ে থাকা বা কঠোর ডায়েট করার প্রয়োজন নেই। পুষ্টিকর নাশতা, নিয়মিত সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটির মাধ্যমে স্বাভাবিক রুটিনে ফিরে আসুন। সুস্থ থাকার জন্য একটি নির্দিষ্ট দিনের খাবারের চেয়ে প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের ধারাবাহিকতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তবে নিয়মিত নিয়ন্ত্রণহীনভাবে অতিরিক্ত খাওয়ার ঘটনা ঘটলে পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সূত্র: ইটিং ওয়েল