ঈদের খাবারে ক্যানসার রোগীদের জন্য কী নিরাপদ, কী এড়িয়ে চলা ভালো

কোরবানির ঈদ মানেই পরিবার-স্বজনদের সঙ্গে আনন্দ আর নানা ধরনের খাবারের আয়োজন। কোরবানির মাংস, সেমাইসহ পছন্দের খাবার টেবিলে থাকলেও ক্যানসার রোগীদের ক্ষেত্রে কিছু বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। কারণ, চিকিৎসাধীন বা চিকিৎসা-পরবর্তী সময়ে খাদ্যাভ্যাস রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক খাবার নির্বাচন করলে ক্যানসার রোগীরাও নিরাপদভাবে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল অনকোলজিস্ট (ক্যানসার বিশেষজ্ঞ) ডা. নাজিরুম মুবিনের মতে, ক্যানসার রোগীরা পরিমিত পরিমাণে গরু বা খাসির মাংস খেতে পারেন, তবে তা অবশ্যই ভালোভাবে সেদ্ধ হতে হবে। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত, বেশি ঝাল কিংবা ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। সেমাই খাওয়া গেলেও কম চিনি ও হালকা দুধ ব্যবহার করে তৈরি করা ভালো। সবসময় ঘরে তৈরি, পরিষ্কার ও টাটকা খাবারকে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি ক্যানসার রোগীদের বিভিন্ন অবস্থানের ওপর নির্ভর করে ঈদের খাবার নিয়ে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। চলুন সেগুলো জেনে নেওয়া যাক।
কেমোথেরাপি চলাকালীন রোগীদের সতর্কতা
কেমোথেরাপি নেওয়ার সময় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটাই কমে যায়। তাই এ সময় বাইরের খাবার বা আধাসেদ্ধ খাবার না খাওয়াই ভালো। খাবার অবশ্যই ভালোভাবে রান্না করা এবং তাজা হতে হবে। অনেক রোগীর মুখে ঘা বা জ্বালাপোড়া থাকে, তাই নরম খাবার খাওয়া সুবিধাজনক। অতিরিক্ত মশলাযুক্ত বা তীব্র গন্ধের খাবার বমিভাব বাড়াতে পারে।
রেডিওথেরাপি নেওয়া রোগীদের জন্য
যাদের গলা, বুক বা পেটের অংশে রেডিওথেরাপি চলছে, তাদের ঝাল, শক্ত ও খুব গরম খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। মাংস বা সেমাই খেতে চাইলে নরমভাবে রান্না করা খাবার বেছে নেওয়া ভালো, যাতে সহজে চিবানো ও গিলতে সুবিধা হয়।
চিকিৎসা শেষে ফলোআপে থাকা রোগীরা
যারা চিকিৎসা শেষ করে এখন নিয়মিত ফলোআপে আছেন, তারা সীমিত পরিমাণে কম চর্বিযুক্ত মাংস ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে পারেন। মিষ্টিজাতীয় খাবারও খাওয়া যায়, তবে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
বিভিন্ন ক্যানসারে ভিন্ন সতর্কতা
সব ক্যানসার রোগীর জন্য একই ধরনের খাদ্যতালিকা উপযুক্ত নয়। কোলোরেক্টাল ক্যানসারের রোগীদের লাল মাংস কম খেতে বলা হয়। লিভার ক্যানাসারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তেল ও প্রোটিনযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। ব্রেস্ট ও প্রোস্টেট ক্যানসারের রোগীদের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং কম চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। আর মুখ বা গলার ক্যানাসারের রোগীদের জন্য নরম ও ঠান্ডা ধরনের খাবার বেশি উপযোগী।
ঈদের আনন্দের সঙ্গে সুস্থতাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই ক্যানসার রোগীদের ক্ষেত্রে খাবারের বিষয়ে সচেতনতা ও পরিমিতি বজায় রাখাই সবচেয়ে জরুরি।
