ঘরের কাজ নিয়ে নারী-পুরুষের সময়ের পার্থক্য, নতুন গবেষণায় চমক

ঘরের কাজ মানে শুধু থালা-বাসন বা কাপড় ধোয়া না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রতিদিনের রান্না, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বাজারের তালিকা, এমনকি কোন কাজ কখন করতে হবে—এসব পরিকল্পনাও। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ঘরে এসব কাজ কে কতটা করছে!
নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, এখনও ঘরের কাজে সময় দেওয়ার ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীর মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়ে গেছে। সময়ের সঙ্গে কিছুটা পরিবর্তন এলেও এই ব্যবধান পুরোপুরি কমেনি।
কীভাবে এই তথ্য জানা গেল
এই বিশ্লেষণ করেছে পিউ রিসার্চ সেন্টার (Pew Research Center)। তারা যুক্তরাষ্ট্রের মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর (U.S. Bureau of Labor Statistics) পরিচালিত একটি দীর্ঘমেয়াদি জরিপের তথ্য ব্যবহার করেছে এখানে।
এই জরিপে মানুষ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কীভাবে সময় ব্যয় করে, তার বিস্তারিত তথ্য দেয়। এর মধ্যে চাকরি, সন্তান দেখাশোনা, ঘরের কাজ—সবই অন্তর্ভুক্ত থাকে। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ফলাফল তৈরি করা হয়।
একই কাজে প্রতিদিন কে কত সময় দেয়
গবেষণা অনুযায়ী
নারীরা প্রতিদিন গড়ে ২ ঘণ্টা ১৯ মিনিট ঘরের কাজ করেন
পুরুষরা প্রতিদিন গড়ে ১ ঘণ্টা ৩৪ মিনিট সময় দেন
অর্থাৎ, প্রতিদিন প্রায় ৪৫ মিনিট বেশি কাজ করছেন নারীরা। বছরে হিসাব করলে এটি কয়েক সপ্তাহের অতিরিক্ত অবৈতনিক শ্রমে পরিণত হয়।
কেন এই পার্থক্য রয়ে গেছে
সমাজে দীর্ঘদিনের কিছু ধারণা এখনো কাজ করছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়—নারীরা বেশি সময় দেন রান্না, পরিষ্কার ও কাপড় ধোয়ার মতো দৈনন্দিন কাজে এবং পুরুষরা কাজ করেন বাইরের বা অনিয়মিত কাজ, যেমন কোনো কিছু মেরামত বা বাগানের কাজ।
এছাড়া আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ‘অদৃশ্য শ্রম’। যেমন—
কী রান্না হবে ঠিক করা
বাজারের তালিকা মনে রাখা
পরিবারের প্রয়োজনগুলো আগে থেকে ভাবা
এসব কাজ সময়ের হিসেবে ধরা না পড়লেও, মানসিক চাপ তৈরি করে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নারীরাই এই দায়িত্ব বেশি বহন করেন।
প্রজন্মভেদে কিছু পরিবর্তন
ভালো দিক হলো, তরুণ প্রজন্মের পুরুষরা আগের তুলনায় বেশি ঘরের কাজে অংশ নিচ্ছেন। গত দুই দশকে এই ব্যবধান কিছুটা কমেছে।
তবে এখনো পুরোপুরি সমতা আসেনি। বয়সভেদে হিসাব করলে দেখা যায়, সব বয়সেই নারীরা গড়ে বেশি সময় দেন।
অবৈতনিক কাজের বড় প্রভাব
গবেষণায় দেখা গেছে, ঘরের কাজ ও সন্তান দেখাশোনায় নারীরা পুরুষদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ সময় দেন। এর ফলে তাদের অবসর সময়ও কম থাকে।
বিশ্বব্যাপী এই অবৈতনিক কাজের অর্থনৈতিক মূল্যও বিশাল। বিভিন্ন বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নারীদের এই কাজের মূল্য বছরে ট্রিলিয়ন ডলারের সমান।
কেন এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ
অনেকেই ঘরের কাজকে আলাদা করে ভাবেন না, এটি যেন দিনের স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু যখন সময়ের হিসেবে দেখা হয়, তখন বোঝা যায় কাজের ভার কার ওপর বেশি পড়ছে।
এই তথ্যগুলো সামনে এলে
কাজ ভাগাভাগি করা সহজ হয়
অদৃশ্য শ্রম দৃশ্যমান হয়
পরিবারে ভারসাম্য আনার সুযোগ তৈরি হয়
ঘরের কাজের এই পার্থক্য শুধু দৈনন্দিন বিষয় নয়, এটি সামাজিক বাস্তবতার একটি প্রতিফলন। পরিবর্তন শুরু হয়েছে, তবে এখনো অনেক পথ বাকি।
সংখ্যার মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে দেখা গেলে, আলোচনা ও সমাধানের পথও সহজ হয়। শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত পরিবারের সব সদস্যের মধ্যে দায়িত্বের একটি ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টন নিশ্চিত করা।
সূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট