logo

রোজা রেখে ফোন স্ক্রলিং, কী বলছেন চিকিৎসকরা

রোজা রেখে ফোন স্ক্রলিং, কী বলছেন চিকিৎসকরা

রমজানে তারাবির নামাজ, সfহরির অ্যালার্ম এবং বদলে যাওয়া ঘুমের রুটিন অনেকেরই শক্তি ও মনোযোগে প্রভাব ফেলে। এর সঙ্গে যদি ইফতারের পর দীর্ঘ সময় স্মার্টফোন ব্যবহার যোগ হয়, তাহলে ক্লান্তি, বিরক্তিভাব ও মনোযোগের ঘাটতি আরও বাড়তে পারে।

চিকিৎসকরা বলছেন, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম নীরবে রোজার দিনের পারফরম্যান্সকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

নীল আলো কমায় ঘুমের হরমোন

আবুধাবির Burjeel Medical City–এর শিশু স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মেরিন ইপেন জানান, ঘুমের আগে ফোন ব্যবহার করলে ঘুমের মান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। রমজানে যেহেতু ঘুমের সময় স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকে, তাই এই প্রভাব আরও বেশি হয়।

তিনি বলেন, ফোনের স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো মস্তিষ্ককে দিনের সময়ের সংকেত দেয়। এতে মেলাটোনিন নামের হরমোনের উৎপাদন কমে যায়। এই হরমোন মানুষকে ঘুমিয়ে পড়তে সাহায্য করে। ফলে ঘুম আসতে দেরি হয়।

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গেম, ভিডিও দেখা বা চ্যাট করার মতো কার্যকলাপ মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে। এতে শরীর বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত হতে পারে না। অনেকেই অজান্তেই ইফতারের পর দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার করেন, যা মোট ঘুমের সময় কমিয়ে দেয়। রাতের বেলা নোটিফিকেশন বা বার্তার শব্দেও ঘুম ভেঙে যেতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, রাতে বেশি স্ক্রিন ব্যবহার করলে গভীর ঘুম কমে যায়, সকালে ক্লান্তি বাড়ে এবং মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়। দীর্ঘমেয়াদে অনিদ্রার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

স্ক্রলিং আসলে বিশ্রাম নয়

দুবাইয়ের NMC Specialty Hospital-এর মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বারজিস সুলতানা বলেন, রমজান আত্মসংযমের মাস। এই সময় ডিজিটাল ব্যবহারে সংযম আনলে মানসিক উপকার আরও বাড়তে পারে।

তার মতে, অনেকেই মনে করেন ফোন স্ক্রল করা বিশ্রামের মতো। কিন্তু বাস্তবে এটি মস্তিষ্কের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। দ্রুত তথ্য প্রক্রিয়াকরণ, বারবার মনোযোগ বদলানো এবং আবেগগত প্রতিক্রিয়া মস্তিষ্ককে ব্যস্ত রাখে। এতে মানসিক ক্লান্তি বাড়ে।

স্বাভাবিক সময়েও অতিরিক্ত স্ক্রলিং মনোযোগ ভেঙে দেয় এবং কাজের স্মৃতিশক্তি কমায়। রোজার সময় শরীরে শক্তি ও পুষ্টির সরবরাহ কম থাকে। ফলে একই পরিমাণ স্ক্রিন ব্যবহার আরও বেশি ক্লান্তিকর মনে হয়। এতে বিরক্তিভাব, মনোযোগের ঘাটতি ও মানসিক ঝাপসা ভাব দেখা দিতে পারে।

কীভাবে কমাবেন স্ক্রিন টাইম

চিকিৎসকেরা সম্পূর্ণ ফোন বন্ধ রাখার পরামর্শ দেন না। বরং বাস্তবসম্মত ও ধীরে ধীরে সীমা নির্ধারণ করতে বলেন।

কিছু পদক্ষেপ

- বিনোদনের জন্য দৈনিক নির্দিষ্ট সময় ঠিক করা

- সেহরির আগে ও ঘুমের এক ঘণ্টা আগে ফোন ব্যবহার না করা

- খাবারের সময় ফোন দূরে রাখা

- সবচেয়ে বেশি সময় নেয় এমন অ্যাপের ব্যবহার সীমিত করা

- অযথা স্ক্রলিং এড়িয়ে চলা

- রাতে ফোন সাইলেন্ট বা দূরে রাখা

- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইফতারের আগে ব্যবহার না করা

- রাতের বেলায় ডিভাইসের আলো উষ্ণ টোনে পরিবর্তন করা

রমজানে অনেকেই ইবাদত, পরিবার ও আত্মশুদ্ধির দিকে বেশি মনোযোগ দিতে চান। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময়টিকে ডিজিটাল অভ্যাস পুনর্গঠনের সুযোগ হিসেবেও নেওয়া যেতে পারে।

রোজা রাখার সময় মনোযোগ, ধৈর্য ও মানসিক স্থিরতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত ফোন ব্যবহার ঘুমের মান কমিয়ে এই লক্ষ্যকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তাই সচেতনভাবে স্ক্রিন টাইম কমানো, বিশেষ করে রাতে, রোজার দিনে শক্তি ও মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে। ছোট ছোট পরিবর্তনই রমজানে সুস্থ ও ফলপ্রসূ দিন কাটানোর বড় উপায় হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র : গল্ফ নিউজ