logo

অ্যালোভেরা নাকি পেঁয়াজের রস, চুলের যত্নে কোনটি বেশি কার্যকরী

অ্যালোভেরা নাকি পেঁয়াজের রস, চুলের যত্নে কোনটি বেশি কার্যকরী
ছবি: ইন্ডিয়া মার্ট ও ভোগ ইন্ডিয়া

চুলের সমস্যা নিয়ে কমবেশি আমরা সবাই চিন্তিত। চুলে কী দিলে চুলের গোড়া শক্ত হবে, চুল পড়া কমবে, মসৃণ আর ঝলমলে দেখাবে- এগুলো নিয়ে আমাদের চিন্তার শেষ নেই। চুল পড়া, খুশকি বা নতুন চুল না গজানোর সমস্যায় বাজারজাত অনেক কিছুই ব্যবহার করা হয়, কিন্তু মন মতো ফল পাওয়া যায় না।

এখন অনেকেই বাজারের পণ্যের ব্যবহার কমিয়ে চুলের যত্নে প্রাকৃতিক উপাদানের ওপর নির্ভর করছেন। প্রাকৃতিক উপায়ে চুল লম্বা ও ঘন করার কথা বললে সবার আগে দুটি উপাদানের নাম মাথায় আসে, অ্যালোভেরা আর পেঁয়াজের রস। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে রূপচর্চার দুনিয়ায় চুলের যত্নে এই দুটি উপাদানের বেশ কদর আছে।

কিন্তু অনেকেই বুঝতে পারেন না আপনার চুলের জন্য কোনটি বেশি ভালো আর কোনটিতে কেমন ফল পাওয়া যায়। চলুন, এই বিষয়ে জেনে নেওয়া যাক-

পেঁয়াজের রস: নতুন চুল গজাতে সাহায্য করতে পারে

ত্বকের সংক্রমণ থেকে শুরু করে হৃদরোগ পর্যন্ত বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার চিকিৎসায় বহু শতাব্দী ধরে পেঁয়াজের রস ব্যবহার হয়ে আসছে। অনেকেই হয়তো তীব্র গন্ধের জন্য পেঁয়াজের রস ব্যবহার করা পছন্দ করেন না। কিন্তু চুল গজানোর ক্ষেত্রেও পেঁয়াজের রস কিন্তু দারুণ কার্যকরী একটা জিনিস। অনেক গবেষণাতেও দেখা গেছে, নিয়মিত মাথার ত্বকে পেঁয়াজের রস লাগালে চুল পড়ার মাত্রা অনেক কমে যায় এবং নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে।

ছবি: নিউ বিউটি হং কং
ছবি: নিউ বিউটি হং কং

সালফারের জাদুকরী ক্ষমতা: পেঁয়াজে প্রচুর পরিমাণে সালফার থাকে। এটি চুলের প্রোটিন কাঠামোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের চুল মূলত ‘কেরাটিন’ নামের প্রোটিন দিয়ে তৈরি। আর এই প্রোটিন গঠনে সালফারের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চুলে নিয়মিত পেঁয়াজের রস লাগালে স্ক্যাল্পে সালফারের জোগান বাড়ে, যা মৃতপ্রায় হেয়ার ফলিকলগুলোকে সতেজ করে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।

রক্ত চলাচল বাড়িয়ে দেয়: পেঁয়াজের রসে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে চুলের গোড়ায় দ্রুত পুষ্টি পৌঁছায়।

ইনফেকশন দূর করে: এর মধ্যে রয়েছে চমৎকার অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল গুণ, যা স্ক্যাল্পের যেকোনো খুশকি বা ব্যাকটেরিয়াজনিত সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। অর্গানোসালফার যৌগগুলোর শক্তিশালী অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণাবলি আছে। অনেকের মতে, এগুলো মাথার ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতির মাধ্যমে চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে।

তবে যাদের পেঁয়াজের রসে এলার্জির সমস্যা হতে পারে তারা ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করে নিতে পারেন।

অ্যালোভেরা: মাথার ত্বককে প্রশান্তি দেয়

অন্যদিকে, অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী নতুন চুল গজানোর চেয়ে মাথার ত্বককে সুস্থ ও ঠান্ডা রাখতে বেশি কাজ করে। এতে আছে আর্দ্রতা জোগানোর ও প্রশান্তিদায়ক গুণাবলি। এতে পানি, ভিটামিন, খনিজ উপাদান এবং উদ্ভিদজাত চর্বি থাকে, যা ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। স্বাস্থ্যকর স্ক্যাল্প মানেই তো সুন্দর ও ঝলমলে চুল।

ছবি: হেলথ
ছবি: হেলথ

স্ক্যাল্পের জ্বালাপোড়া ও চুলকানি দূর করে: অ্যালোভেরার মধ্যে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান মাথার ত্বকের যে কোনো অস্বস্তি, চুলকানি বা লালচে ভাব কমাতে সহায়তা করে।

খুশকি ও ফাঙ্গাস দূর করে: স্ক্যাল্পে অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব বা খুশকির সমস্যা থাকলে অ্যালোভেরা তা দূর করতে দারুণ কাজ করে। এটি মাথার ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে।

চুলকে মসৃণ রাখে: অ্যালোভেরা চুলকে ভেতর থেকে হাইড্রেট করে রুক্ষ ভাব দূর করতে সাহায্য করে। এতে চুল আগের থেকেও মসৃণ দেখায়।

সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষা: চুলকে ইউভি (UV) রশ্মির ক্ষতি থেকে বাঁচাতেও অ্যালোভেরা বেশ সাহায্য করে।

তাহলে কোনটি ব্যবহার করবেন?

আপনার চুলের জন্য কোনটি দরকার সেটি আপনাকেই বুঝে নিতে হবে। আপনি যদি চুলের ঘনত্ব এবং নতুন চুল গজানো নিয়ে চিন্তিত হন, তবে পেঁয়াজের রস ব্যবহার করতে পারেন। কারণ অ্যালোভেরা মাথার ত্বককে স্বাস্থ্যকর করে চুলের সামগ্রিক অবস্থার উন্নতি করতে পারে। কিন্তু এটি নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে- এমন কোনো জোরালো প্রমাণ নেই।

আর যদি সমস্যা হয় স্ক্যাল্পে চুলকানি, খুশকি বা মাথার ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক থাকা, তবে তার জন্য ভালো সমাধান হতে পারে অ্যালোভেরা। এটি সাধারণত মৃদু প্রকৃতির, এর গন্ধও বেশ ভালো এবং ব্যবহার করাও সহজ। এ ছাড়া এটি চুলকে আরও মসৃণ ও ঝলমলে করে তুলতে সাহায্য করতে পারে।

তবে এগুলোকে কোনো প্রমাণিত চিকিৎসা বা চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প হিসেবে না দেখে কেবল একটি পরীক্ষামূলক ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবেই দেখা উচিত।

দুটো একসঙ্গে মিলিয়ে হেয়ার প্যাক বানাতে পারেন

শুধু পেঁয়াজের রস চুলে লাগালে অনেক সময় স্ক্যাল্পে অতিরিক্ত জ্বালাপোড়া হতে পারে বা তীব্র গন্ধের কারণে অস্বস্তি লাগে। তাই অ্যালোভেরা সঙ্গে একটি মিশ্রণ তৈরি করে চুলে লাগালে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়। পেঁয়াজের রসের কার্যকারিতা আর অ্যালোভেরার ঠান্ডা ভাব মিলে চুলকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও ঝলমলে করতে পারে।

ছবি: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
ছবি: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

কীভাবে ব্যবহার করবেন?

• প্রথমে একটি বা দুটি পেঁয়াজ ব্লেন্ড করে বা গ্রেড করে ভালোভাবে রস ছেঁকে নিন।

• এবার সমপরিমাণ অ্যালোভেরা জেল পেঁয়াজের রসের সঙ্গে মিশিয়ে নিন।

• পেঁয়াজের গন্ধ কিছুটা কমাতে চাইলে এর সঙ্গে কয়েক ফোঁটা নারকেল তেল বা আপনার পছন্দের যেকোনো এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে নিতে পারেন।

• তুলো বা আঙুলের ডগায় করে এই মিশ্রণটি সরাসরি আপনার স্ক্যাল্পে ও চুলের গোড়ায় লাগান।

• হালকা হাতে ৫-৬ মিনিট স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করুন। এরপর প্যাকটি চুলে ৪০ মিনিট রেখে দিন।

• সবশেষে একটা ভালো শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। চুল শুকানোর পর দেখবেন একটা সতেজ ভাব এসেছে।

সপ্তাহে অন্তত ১ থেকে ২ দিন এভাবে নিয়মিত ব্যবহার করে দেখতে পারেন। তবে ব্যবহারের আগে হাতের ত্বকে একটু লাগিয়ে দেখে নেওয়া ভালো। তাহলে বুঝতে পারবেন যে আপনার ত্বকে এটি ব্যবহার করলে কোনো সমস্যা হবে কি না। যদি জ্বালা, ফুসকুড়ি, ফোলাভাব দেখা দেয় বা চুলকানি বাড়ে, তবে ব্যবহার বন্ধ করুন।

আর যদি চুল পড়া অনেক বেশি বেড়ে যায়, তবে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পরামর্শ নিতে হবে।

সূত্র: ভেরি ওয়েল হেলথ