দুধ দিয়ে চা-কফি খাওয়ার অভ্যাস ভালো নাকি ক্ষতিকর

কফি বা চা অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে গেছে। বিশেষ করে কফিপ্রেমীরা ক্যাপুচিনো, মচা, লাটে বা মিল্ক কফি পছন্দ করেন। তবে অনেকেই কেবল কালো কফি বা ব্ল্যাক কফি পান করেন। সম্প্রতি গবেষণায় দেখা গেছে, কফি বা চা যদি দুধের সঙ্গে নেওয়া হয়, তা স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি উপকারী।
দুধ মিশিয়ে কফি পান করার উপকার
অ্যাসিডিটি কমায়
সেলিব্রিটি নিউট্রিশনিস্ট শ্বেতা শাহ বলেন, দুধ মিশিয়ে কফি পিলে কফির অ্যাসিডিটি কমে যায়। কালো কফিতে ক্যাফেইনের পরিমাণ বেশি থাকে, যা অতিরিক্ত হলে লোহা, ক্যালসিয়াম ও জিংকের মতো খনিজ শোষণে বাধা দেয় এবং ঘুমের সমস্যা তৈরি করতে পারে।
শরীরের প্রদাহ কমায়
জার্নাল অব অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড ফুড কেমিস্ট্রিতে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, কফি ও দুধ একসঙ্গে নিলে শরীরের প্রদাহ কমে। কফির পলিফেনল ও দুধের অ্যামিনো অ্যাসিডের সংমিশ্রণ জয়েন্টের ব্যথা ও ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে।
মেটাবলিজম এবং ইনসুলিন সেনসিটিভিটি উন্নত করে
দুধ মিশিয়ে কফি নিলে বিপাক প্রক্রিয়া সক্রিয় থাকে এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে, এটি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হতে পারে।
শরীরের পানিশূন্যতা মোকাবিলা করা
কফি পান করার সময় পর্যাপ্ত পানি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ করা যায়।
কখন কফি দুধসহ খাওয়া উচিত নয়
যারা ল্যাকটোজ অসহিষ্ণু, তারা দুধ মিশিয়ে কফি এড়িয়ে চলা উচিত। যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাদের জন্য দুধ মিশিয়ে কফি ভালো নয়। কারণ একটি কাপ ব্ল্যাক কফিতে মাত্র ৫ ক্যালরি থাকে, কিন্তু দুধ মিশিয়ে কফিতে থাকে প্রায় ৬০ ক্যালরি। প্রতি চামচ চিনি যোগ করলে ক্যালরি আরও বাড়ে।
দুধ মিশিয়ে চা পান করার বিষয়েও কিছু তথ্য
চা, বিশেষ করে সবুজ ও কালো চা, ফ্ল্যাভোনয়েড নামে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। এগুলো কোষ ক্ষয় রোধ করে, যা হার্টের সমস্যা, ক্যানসার ও উচ্চ কোলেস্টেরলের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
দুধে থাকে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়াম, যা হাড় ও বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তবে দুধের প্রোটিন চায়ের অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, দুধে থাকা কেসিন প্রোটিন চায়ের ফ্ল্যাভোনয়েডের কার্যকারিতা হ্রাস করতে পারে। তবে কিছু অন্য গবেষণা দেখায়, দুধ চায়ের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কার্যকারিতা কমায় না। ফলে এই বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন।
চায়ের প্রকারও গুরুত্বপূর্ণ
দুধ চায়ে প্রভাব ফেলে কি না তা চায়ের প্রকারের উপর নির্ভর করতে পারে। বেশিরভাগ গবেষণা কালো ও সবুজ চায়ার ওপরই হয়েছে। দীর্ঘসময় ধরে চা তৈরির ক্ষেত্রে দুধের প্রভাব কম হতে পারে।
দুধ মিশিয়ে কফি পান করলে অ্যাসিডিটি কমে, প্রদাহ হ্রাস পায় এবং ইনসুলিন সেনসিটিভিটি উন্নত হয়। এছাড়া, দুধ চায়ের অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কার্যকারিতায় কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে, তবে সব ধরনের চায়ের জন্য তা প্রমাণিত নয়।
সাধারণভাবে, চা বা কফি পান করা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, তবে দুধ মিশিয়ে নেয়ার আগে নিজের শরীরের সহনশীলতা এবং প্রয়োজন বিবেচনা করা উচিত।
সুতরাং, দুধ মিশিয়ে কফি বা চা পান করলে কিছু ক্ষেত্রে উপকার বেশি পাওয়া যায়, তবে শরীরের পরিস্থিতি অনুযায়ী খাওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র : হেলথলাইন, টাইমস অব ইন্ডিয়া