logo

দ্রুত পড়া ও বোঝার ১০ কৌশল

দ্রুত পড়া ও বোঝার ১০ কৌশল

কখনও কখনও আমাদের হাতে সময় খুব কম থাকে, কিন্তু পড়ার জন্য থাকে অনেক বই বা লেখা। উপন্যাস, রহস্য, রোমান্স বা তথ্যভিত্তিক বই, পড়ার তালিকা যেন শেষই হতে চায় না। তাই অনেকেরই মনে প্রশ্ন আসে, কীভাবে দ্রুত পড়া যায়, আবার বিষয়টাও ঠিকভাবে বোঝা যায়।

দ্রুত পড়া মানে শুধু দ্রুত পৃষ্ঠা উল্টানো নয়। আসল বিষয় হলো এমনভাবে পড়া, যাতে কম সময়ে বেশি তথ্য মাথায় নেওয়া যায় এবং পড়ার বিষয়টিও ঠিকভাবে বোঝা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তুললে যে কেউ নিজের পড়ার গতি বাড়াতে পারেন।

তবে এখানে লক্ষ্য পেশাদার স্পিড রিডার হওয়া নয়। সাধারণভাবে একটু দ্রুত পড়ার অভ্যাস তৈরি করাই মূল উদ্দেশ্য, যাতে একই সময়ে বেশি বই বা লেখা পড়া সম্ভব হয়।

দ্রুত পড়ার উপকারিতা

দ্রুত পড়তে পারা অনেক ক্ষেত্রে বড় সুবিধা এনে দেয়। বর্তমান সময়ে প্রতিদিন নতুন নতুন তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে। দ্রুত পড়ার অভ্যাস থাকলে মানুষ সহজেই নতুন খবর, গবেষণা বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্পর্কে আপডেট থাকতে পারে।

শিক্ষা বা কর্মক্ষেত্রেও এটি কাজে লাগে। কম সময়ে বেশি তথ্য পড়ে বোঝা গেলে কাজের দক্ষতাও বাড়ে। ফলে পড়াশোনা, গবেষণা কিংবা পেশাগত কাজেও সুবিধা পাওয়া যায়।

তবে মনে রাখতে হবে, দ্রুত পড়া মানেই বেশি বুদ্ধিমান হওয়া- বিষয়টি এমন নযা। অনেক মানুষ ধীরে ধীরে পড়তে পছন্দ করেন, বিশেষ করে গল্প বা উপন্যাস পড়ার সময়। সেটিও একেবারেই স্বাভাবিক।

খুব বেশি দ্রুত পড়ার কিছু অসুবিধা

দ্রুত পড়ার অনেক সুবিধা থাকলেও অতিরিক্ত তাড়াহুড়া করলে সমস্যা হতে পারে। খুব দ্রুত পড়লে অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ বা সূক্ষ্ম তথ্য চোখ এড়িয়ে যেতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনো রহস্য গল্পে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র বা কোনো নির্দেশনামূলক লেখায় গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বাদ পড়ে যেতে পারে। তাই সব ধরনের লেখা একই গতিতে পড়া ঠিক নয়। চেষ্টা করবেন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে পড়ার গতি ঠিক করার। 

গল্প বা সাহিত্য পড়ার ক্ষেত্রে ধীরে পড়া ভালো হতে পারে, আর তথ্যভিত্তিক লেখা বা খবর পড়ার ক্ষেত্রে একটু দ্রুত পড়া কার্যকর হতে পারে।

দ্রুত পড়ার কার্যকর কিছু উপায়

নিচে দ্রুত পড়ার জন্য কয়েকটি সহজ ও কার্যকর কৌশল তুলে ধরা হলো।

পড়ার সময় বিভ্রান্তি এড়িয়ে চলুন : দ্রুত পড়ার জন্য মনোযোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চারপাশে বেশি শব্দ বা দৃশ্যমান ব্যস্ততা থাকলে মনোযোগ কমে যায় এবং পড়ার গতি ধীর হয়ে যায়। তাই পড়ার সময় শান্ত পরিবেশ বেছে নেওয়া ভালো। লাইব্রেরি, শান্ত ঘর বা কোনো নিরিবিলি জায়গা পড়ার জন্য উপযুক্ত।

পড়া শুরু করার আগে লেখাটি দ্রুত দেখে নিন : পড়া শুরু করার আগে লেখাটির শিরোনাম, উপশিরোনাম বা গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত চোখ বুলিয়ে নেওয়া ভালো। এতে মস্তিষ্ক আগে থেকেই বিষয়টি সম্পর্কে একটি ধারণা পায়। ফলে পুরো লেখা পড়ার সময় বিষয়টি দ্রুত বুঝতে সুবিধা হয়।

গুরুত্বপূর্ণ শব্দে মনোযোগ দিন : কোনো লেখা পড়ার সময় কিছু শব্দ বা বাক্যাংশ খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়। এগুলোই মূল ধারণা প্রকাশ করে। এই গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুলো আগে খেয়াল করলে লেখার কাঠামো বোঝা সহজ হয় এবং দ্রুত পড়লেও বিষয়টি পরিষ্কার থাকে।

নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে পড়ুন : দ্রুত পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করা যেতে পারে। যেমন পাঁচ বা দশ মিনিটের জন্য পড়া শুরু করা। এই সময়ের মধ্যে অন্য কিছু না করে শুধু পড়ায় মনোযোগ দিলে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে মনোযোগ ধরে রাখতে শিখে।

একসঙ্গে একাধিক শব্দ পড়ার চেষ্টা করুন : অনেকেই পড়ার সময় প্রতিটি শব্দ আলাদা করে পড়েন। এতে পড়ার গতি কমে যায়। এর পরিবর্তে এক নজরে কয়েকটি শব্দ একসঙ্গে পড়ার অভ্যাস তৈরি করা যায়। এতে চোখের গতি বাড়ে এবং পড়ার সময় কম লাগে।

মনে মনে শব্দ উচ্চারণ কমানোর চেষ্টা করুন : অনেকেই পড়ার সময় মনে মনে প্রতিটি শব্দ উচ্চারণ করেন। এটি বোঝার জন্য সহায়ক হলেও পড়ার গতি কমিয়ে দেয়। তাই প্রতিটি শব্দ আলাদা করে মনে মনে বলার বদলে পুরো বাক্যের অর্থ বোঝার চেষ্টা করলে পড়া দ্রুত হয়।

বারবার একই অংশ পড়া এড়িয়ে চলুন : দ্রুত পড়ার সময় একই লাইন বা অনুচ্ছেদ বারবার পড়লে গতি কমে যায়। তাই যতটা সম্ভব সামনে এগিয়ে পড়ার চেষ্টা করা ভালো। এতে মনোযোগও বাড়ে।

ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন : পড়াকে একটি অভ্যাস হিসেবে ধরলে এটি অনেকটা ব্যায়ামের মতো। প্রতিদিন একটু করে লক্ষ্য নির্ধারণ করা যেতে পারে। যেমন আজ দশ পৃষ্ঠা পড়া হলে আগামীকাল চেষ্টা করা যেতে পারে এগারো পৃষ্ঠা পড়ার।

শব্দভাণ্ডার বাড়ান : যদি কোনো শব্দের অর্থ বুঝতে সময় লাগে, তাহলে পড়ার গতি স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়। তাই নিয়মিত নতুন শব্দ শেখার অভ্যাস করলে পড়ার সময় থামতে হয় কম। ফলে পড়ার গতি বাড়ে।

নিয়মিত পড়ার অভ্যাস তৈরি করুন : দ্রুত পড়তে শেখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নিয়মিত পড়া। যত বেশি পড়া হবে, তত বেশি চোখ ও মস্তিষ্ক এই প্রক্রিয়ায় অভ্যস্ত হয়ে উঠবে। ফলে ধীরে ধীরে পড়ার গতি স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে।

দ্রুত পড়া একটি দক্ষতা, যা ধীরে ধীরে অভ্যাসের মাধ্যমে গড়ে ওঠে। শান্ত পরিবেশে পড়া, গুরুত্বপূর্ণ অংশে মনোযোগ দেওয়া, শব্দভাণ্ডার বাড়ানো এবং নিয়মিত পড়ার অভ্যাস তৈরি করলে যে কেউ নিজের পড়ার গতি বাড়াতে পারেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পড়ার গতি বাড়ালেও যেন বোঝার ক্ষমতা কমে না যায়। কারণ পড়ার আসল উদ্দেশ্য হলো নতুন কিছু শেখা, জানা এবং বোঝা। তাই গতি ও বোঝার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।