logo

আলু খাওয়ার সেরা উপায়

আলু খাওয়ার সেরা উপায়

সহজলভ্য, সস্তা এবং বহুমুখী সবজি হিসেবে আলু আমাদের উপমহাদেশের রান্নাঘরে সবারই প্রিয়। ভর্তা থেকে তরকারি, পরোটা থেকে ফুচকা বা চপ, প্রায় সব ধরনের খাবারেই আলুর ব্যবহার রয়েছে। 

তবে আলু কীভাবে রান্না ও খাওয়া হচ্ছে, তার ওপরই নির্ভর করে এটি শরীরে কী প্রভাব ফেলবে। আয়ুর্বেদ মতে, আলু নিজে ভালো বা খারাপ নয়। বরং রান্নার পদ্ধতি ও কোন খাবারের সঙ্গে এটি খাওয়া হচ্ছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আয়ুর্বেদিক স্বাস্থ্য প্রশিক্ষক ডিম্পল জাংদা সম্প্রতি এই বিষয়ে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।

আলু খাওয়ার সেরা উপায় কোনটি

আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ ডিম্পল জাংদার মতে, সঠিকভাবে রান্না করা সেদ্ধ বা ভালোভাবে চটকে নেওয়া আলু সামান্য ঘি মিশিয়ে খাওয়া উপকারী হতে পারে। আয়ুর্বেদে এই ধরনের আলুকে গ্রাউন্ডিং, সাত্ত্বিক ও বাত-নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবে ধরা হয়।

তিনি বলেন, ‘গরম ও তাজা অবস্থায় যদি আলু খাওয়া হয় এবং তার সঙ্গে জিরা, আজওয়াইন বা হিংয়ের মতো হজমে সহায়ক মসলা যোগ করা হয়, তাহলে তা শরীরের টিস্যু পুষ্ট করতে, অতিরিক্ত চাপগ্রস্ত স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করতে এবং হালকা গ্যাস্ট্রিক প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে।’

সহজ ভাষায় বলতে গেলে, সচেতনভাবে খাওয়া হলে আলু আরামদায়ক ও হজমে সহায়ক খাবার হতে পারে। তবে পরিমাণে সংযম রাখা জরুরি। আলুর সঙ্গে হালকা ও গরম সবজি খাওয়া ভালো, ভারী দুগ্ধজাত খাবার বা ঠান্ডা পানীয়ের সঙ্গে খেলে হজমে সমস্যা হতে পারে।

ডিপ ফ্রাই করা আলু কি স্বাস্থ্যকর

আলু যখন ডিপ ফ্রাই করে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিপস বা টিক্কি বানানো হয়, তখন পরিস্থিতি বদলে যায়। উচ্চ তাপে এবং অনেক সময় বারবার ব্যবহার করা তেলে ভাজার কারণে আলুর গুণগত মান কমে যায়।

আয়ুর্বেদে এই প্রক্রিয়াকে সংস্কার বিরুদ্ধ বলা হয়, অর্থাৎ এমনভাবে প্রক্রিয়াজাত করা যা খাদ্যের স্বাভাবিক গুণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। উচ্চ তাপে ভাজার সময় অ্যাক্রিলামাইড এবং অক্সিডাইজড ফ্যাট তৈরি হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

ডিম্পল জাংদার মতে, নিয়মিত ডিপ ফ্রাই করা আলু খেলে

- শরীরের রক্তনালিতে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়তে পারে

- বাত ও পিত্ত দোষ বাড়তে পারে

- কফ দোষ বাড়িয়ে ওজন বৃদ্ধির প্রবণতা তৈরি করতে পারে

- ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি বাড়াতে পারে

- হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেতে পারে

আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানও বলছে, অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও প্রক্রিয়াজাত খাবার দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

ভাজা আলু বারবার গরম করলে কী হয়

অনেকেই ফ্রাই বা ভাজা আলু পরে আবার গরম করে খান। আয়ুর্বেদ মতে, বারবার গরম করলে খাবারের গুণ আরও নষ্ট হয় এবং তা বাসি ও ভারী প্রকৃতির হয়ে যায়।

এর ফলে হজমশক্তি দুর্বল হতে পারে এবং পেট ফাঁপা, অ্যাসিডিটি, ত্বকের সমস্যা, অস্বস্তি ও অকারণ ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। আয়ুর্বেদে এসবকে অম বা অপাচ্য খাদ্য জমে থাকার ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।

বাংলাদেশে আলু খুবই সহজলভ্য ও জনপ্রিয়। ভর্তা, আলুর তরকারি, খিচুড়ি বা সবজির সঙ্গে সামান্য পরিমাণ সেদ্ধ আলু খাওয়া তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। তবে অতিরিক্ত তেলযুক্ত চপ, পুরি বা ফাস্টফুড ধরনের আলু নিয়মিত খাওয়া থেকে বিরত থাকাই ভালো।

যারা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদ্‌রোগে ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে আলুর পরিমাণ ও রান্নার পদ্ধতি নিয়ে বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন। প্রয়োজনে পুষ্টিবিদ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আলু খাওয়া বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। বরং কীভাবে, কতটা এবং কোন খাবারের সঙ্গে খাচ্ছেন, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ঘরে তৈরি তাজা সেদ্ধ বা ভর্তা আলু পরিমিত পরিমাণে খাওয়া তুলনামূলকভাবে ভালো বিকল্প। অন্যদিকে, নিয়মিত ভাজাপোড়া ও বারবার গরম করা আলু শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মানে একেবারে প্রিয় খাবার বাদ দেওয়া নয়, বরং সচেতন নির্বাচন করা।

দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য সাধারণ জ্ঞানভিত্তিক। এটি কোনো চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত সমস্যার ক্ষেত্রে অবশ্যই যোগ্য চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

সূত্র : এনডিটিভি