Advertisement

কম বয়সেই চুল পাকছে, দায়ী হতে পারে এই ৬ কারণ

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
কম বয়সেই চুল পাকছে, দায়ী হতে পারে এই ৬ কারণ
ছবি : সংগৃহীত

২০ বা ৩০ বছর বয়সেই চুল সাদা হতে শুরু করলে অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তবে অল্প বয়সে চুল পাকা সব সময় কোনো গুরুতর রোগের লক্ষণ নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়সের আগেই চুল পাকার পেছনে জিনগত বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি পুষ্টির ঘাটতি, মানসিক চাপ, কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা এবং জীবনযাপনের বিভিন্ন অভ্যাসও ভূমিকা রাখতে পারে। তাই হঠাৎ চুল পাকতে শুরু করলে এর সম্ভাব্য কারণগুলো সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি।

একসময় চুল পাকা মানেই বয়স বাড়ার লক্ষণ হিসেবে ধরা হতো। কিন্তু এখন অনেকেরই ২০ বা ৩০ বছর বয়সেই মাথায় সাদা চুল দেখা যাচ্ছে। এটি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন অনেকেই। কেউ ভাবেন শরীরে বড় কোনো সমস্যা হয়েছে, আবার কেউ মনে করেন এটি শুধু বংশগত কারণেই হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স বাড়া চুল পাকার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলেও এটি একমাত্র কারণ নয়। জিনগত বৈশিষ্ট্য, পুষ্টির ঘাটতি, মানসিক চাপ, কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা এবং জীবনযাপনের নানা অভ্যাসও অল্প বয়সে চুল পাকার জন্য দায়ী হতে পারে। তাই কারণ জানা থাকলে অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

কেন চুল পাকে?

চুলের রং নির্ভর করে মেলানিন নামের একটি রঞ্জক পদার্থের ওপর। চুলের গোড়ায় থাকা মেলানোসাইট কোষ এই মেলানিন তৈরি করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই কোষের কার্যক্ষমতা কমে যায় এবং ধীরে ধীরে মেলানিন উৎপাদনও হ্রাস পায়। তখন নতুন গজানো চুল ধূসর বা সাদা দেখায়। (Health.com)

জিনগত কারণ

অল্প বয়সে চুল পাকার সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হলো বংশগত বৈশিষ্ট্য। যদি বাবা, মা বা পরিবারের অন্য সদস্যদের কম বয়সে চুল পেকে থাকে, তাহলে আপনার ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা বেশি।

গবেষণায় দেখা গেছে, চুল কখন পাকা শুরু হবে, তা অনেকটাই জিনের ওপর নির্ভর করে।

ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি

শরীরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের অভাবও চুল পাকার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে ভিটামিন বি-১২, আয়রন, কপার, ফলিক অ্যাসিড ও ভিটামিন ডি এর অভাব।

এসব উপাদানের ঘাটতি থাকলে চুলের স্বাভাবিক রং ধরে রাখা কঠিন হতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ধরে অল্প বয়সে চুল পাকার সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো যেতে পারে।

দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ

মানসিক চাপ সরাসরি চুল সাদা করে দেয় কি না, তা নিয়ে গবেষণা এখনও চলছে। তবে দীর্ঘদিনের তীব্র মানসিক চাপ শরীরের বিভিন্ন কোষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে চুলের রং তৈরির কোষও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

ধূমপান

ধূমপান শুধু ফুসফুস বা হৃদ্‌যন্ত্রের ক্ষতি করে না, এটি চুলের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপায়ীদের অল্প বয়সে চুল পাকার ঝুঁকি ধূমপান না করা মানুষের তুলনায় বেশি।

কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা

কিছু রোগও চুল পাকার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। যেমন- থাইরয়েডের সমস্যা, ভিটিলিগো, অটোইমিউন রোগ এবং বিরল কিছু জিনগত রোগ।

এসব ক্ষেত্রে শুধু চুল পাকা নয়, আরও নানা শারীরিক লক্ষণও দেখা দিতে পারে।

চুল উপড়ে ফেললে কি আরও বেশি পাকে?

এটি একটি প্রচলিত ধারণা, কিন্তু এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। একটি সাদা চুল তুলে ফেললে তার জায়গা থেকে আবার একটি সাদা চুলই গজাবে। এতে আশপাশের অন্য চুল সাদা হয়ে যায় না।

তবে বারবার চুল উপড়ে ফেললে চুলের গোড়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং ভবিষ্যতে সেই স্থান থেকে চুল গজাতে সমস্যা হতে পারে।

চুল পাকা কি ঠেকানো সম্ভব?

বয়সজনিত কারণে চুল পাকা পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব নয়। তবে যদি পুষ্টির ঘাটতি বা কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে চুল পাকে, তাহলে সেই সমস্যার চিকিৎসা করলে কিছু ক্ষেত্রে উপকার পাওয়া যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং ধূমপান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন। এগুলো চুলের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

যদি খুব অল্প বয়সে হঠাৎ অনেক চুল সাদা হয়ে যায় বা এর সঙ্গে অতিরিক্ত চুল পড়া, ক্লান্তি, ওজনের পরিবর্তন বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে রক্ত পরীক্ষা করে পুষ্টির ঘাটতি বা অন্য কোনো রোগ আছে কি না, তা নির্ণয় করা যেতে পারে।

চুল পাকা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং এটি সব সময় বয়সের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। বংশগত বৈশিষ্ট্য, জীবনযাপন, পুষ্টির ঘাটতি বা কিছু স্বাস্থ্য সমস্যাও এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই অল্প বয়সে চুল পাকা শুরু হলে অযথা দুশ্চিন্তা না করে কারণ জানার চেষ্টা করুন। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখুন।

সূত্র: হেল্থ