অস্থির মুহূর্তে মাথা ঠান্ডা রাখবেন যেভাবে

নিজের মেজাজকে নিয়ন্ত্রণে রাখা খুব কঠিন না হলেও অনেক সময় তা নিজের হাতের বাইরে চলে যায়। এমন মুহূর্তগুলোয় মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করাই আপনার ব্যক্তিত্বের দৃঢ়তা ফুটিয়ে তোলে। তাই অস্থির মুহূর্তে নিজের মেজাজ ধরে রাখার উপায় জেনে রাখা ভালো। বলা তো যায় না, কখন কোন ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে যেতে হয়।
শ্বাস নিন ও শান্ত পরিবেশ কল্পনা করুন
শান্ত হওয়ার সবচেয়ে দ্রুত উপায় হলো গভীর শ্বাস নেওয়া। উদ্বেগের সময় আমরা অগভীর শ্বাস নিই, যা মস্তিষ্ককে আরও বেশি উত্তেজিত করে। ‘রিল্যাক্সেশন রেসপন্স’ বা শিথিলকরণ প্রতিক্রিয়া শরীরের ভেতরে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। যেমন হৃৎস্পন্দন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি কমে আসা, অক্সিজেনের ব্যবহার হ্রাস পাওয়া এবং রক্ত সঞ্চালন সহজ হওয়া।
বুক ভরে গভীর শ্বাস নিন এবং ধীরে ধীরে ছাড়ুন। শ্বাস ছাড়ার সময়টি শ্বাস নেওয়ার সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ লম্বা করার চেষ্টা করুন। চোখ বন্ধ করে নিজেকে একটি শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশে কল্পনা করুন। কল্পনা করুন আপনার শরীর শিথিল হচ্ছে। নিজেকে সেই পরিবেশে কল্পনা করে ভাবুন আপনি সেখানে কী দেখছেন, কী শুনছেন বা কীসের ঘ্রাণ পাচ্ছেন। কারণ এমন ছবি মনে আনলে মস্তিষ্ক দ্রুত শান্ত হয়। যদি কোনো দুশ্চিন্তা মনে আসে, তবে সেটিকে পাত্তা না দিয়ে আবার কল্পনার দৃশ্যে ফিরে যান।
নিজের অনুভূতি স্বীকার করুন
আপনি যে রাগান্বিত বা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত, তা নিজের কাছে স্বীকার করুন। অনুভূতির ওপর একটি ‘লেবেল’ লাগিয়ে দিলে এর তীব্রতা অনেকটা কমে যায়। নিজের অনুভূতিকে কখনও দাবিয়ে রাখবেন না। এতে সমস্যা আরও বেড়ে যায়। খারাপ সময়ে আমাদের মাথায় অনেক নেতিবাচক চিন্তা আসে।
নিজেকে প্রশ্ন করুন ‘এটা হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু?’ বা ‘এর আগে কি এমন হয়েছে?’ এটি আপনার অযৌক্তিক ভয় কাটাতে সাহায্য করবে। ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি করলে শরীরে সেরোটোনিন নিঃসৃত হয়। এটি মন ভালো করে। তবে রাগ কমানোর জন্য দেয়ালে ঘুসি মারা বা চিৎকার করা এড়িয়ে চলুন। কারণ এটি রাগ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
স্থান পরিবর্তন করুন
উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে কিছুক্ষণের জন্য সরে যান। অন্য রুমে যান বা বাইরে থেকে হেঁটে আসুন। এটি আপনার মস্তিষ্ককে ভালোভাবে চিন্তা করার সুযোগ দেবে। মানসিক চাপে থাকলে আমাদের কাঁধ শক্ত হয়ে ওপরে উঠে থাকে। নিজের কাঁধ নামিয়ে নিন। সোজা হয়ে বসুন, গভীর শ্বাস নিন এবং সচেতনভাবে কাঁধ নিচের দিকে নামিয়ে দিন।
কোনো বস্তু সঙ্গে রাখুন
আপনার প্রিয় কোনো পাথর, ছোট খেলনা বা লকেট পকেটে রাখুন। যখনই দুশ্চিন্তা হবে, সেটি স্পর্শ করুন। এটি আপনাকে বাস্তবে মনোনিবেশ করতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি আপনার মনোযোগ সরিয়ে দেবে। যখন আপনি শান্ত অবস্থায় থাকবেন, তখন নিজের জন্য একটি 'সেন্টারিং অবজেক্ট' বা স্থির থাকার একটি বস্তু খুঁজে বের করুন।
এটি হতে পারে একটি ছোট নরম পুতুল, পকেটে রাখা একটি মসৃণ পাথর, অথবা গলায় পরা একটি লকেট। নিজেকে আগে থেকেই বুঝিয়ে রাখুন যে, যখনই আপনি দুশ্চিন্তা বা হতাশায় ভুগবেন, তখনই আপনি এই বস্তুটি স্পর্শ করবেন। এটি আপনাকে বর্তমানে স্থির হতে এবং আপনার চিন্তাগুলোকে শান্ত করতে সাহায্য করবে।
শরীর শিথিল করুন
সম্ভব হলে মাটিতে শুয়ে হাত-পা ছড়িয়ে দিন। পায়ের আঙুল থেকে শুরু করে মাথা পর্যন্ত শরীরের প্রতিটি অঙ্গকে সচেতনভাবে শিথিল বা ঢিলা করে দিন। ম্যাসাজ করা বা আকুপাংচার নেওয়া রাগ এবং দুশ্চিন্তা নিয়ন্ত্রণের চমৎকার উপায়। কিন্তু ব্যস্ত দিনের মধ্যে সবসময় এর জন্য সময় বের করা সহজ হয় না।
শুরু করার জন্য একটি আদর্শ জায়গা হলো আপনার কবজির ভেতরের অংশ, যেখানে হাতের তালুর সঙ্গে কবজির সংযোগস্থলে একটি ভাঁজ বা রেখা তৈরি হয়। এই স্থানে আপনার বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে ২ মিনিট চেপে ধরুন। এটি আপনার মানসিক উত্তেজনা বা স্ট্রেস কমাতে দারুণ সাহায্য করতে পারে।
মিনিটে শান্ত হওয়ার উপায়
আপনার হাতে সময় কম থাকলে নিচের কাজগুলো করতে পারেন:
- ঘর গরম বা ভ্যাপসা হলে আতঙ্ক বাড়তে পারে। তাই বাইরে গিয়ে কয়েক মিনিট খোলা বাতাসে থাকুন।
- ক্ষুধার্ত থাকলে রাগ বেশি হয়। এক টুকরো ডার্ক চকলেট বা এক কাপ গ্রিন টি (মধুসহ) খান। এটি মানসিক চাপ কমায়।
- গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত চুইংগাম চিবালে মানসিক চাপ কম থাকে। তবে এ উপায়টি খুব একটা স্বাস্থ্যসম্মত নয়।
- প্রিয় গান শুনলে বা তার তালে একটু শরীর নাড়ালে মন দ্রুত চনমনে হয়ে ওঠে।
- হাসি শরীরের স্ট্রেস হরমোন কমাতে জাদুর মতো কাজ করে। হাতের কাছে হাসির কোনো ভিডিও কিংবা নাটক থাকলে তা দেখতে পারেন।
সূত্র: হেলথলাইন, হার্ভার্ড হেলথ